চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পানিহাটির নির্বাচনী ফলাফল যেন এক বিচারহীন দীর্ঘ লড়াইয়ের আবেগঘন উপসংহার। ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত আগস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের যে ক্ষোভ বাংলার মানুষের মনে দানা বেঁধেছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটল ব্যালট বক্সে। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ, যিনি রাজ্যবাসীর কাছে অভয়ার মা হিসেবে পরিচিত।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর রত্না দেবনাথকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। ২০২৪ সালে আন্দোলনের ময়দানে মিমি নিজেও সরব হয়েছিলেন এবং সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকিরও সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। রত্না দেবনাথের জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে অভয়ার মায়ের ছবি পোস্ট করে মিমি লিখেছেন, এই জয় যেন তাঁর নিজের জয়ের মতোই। যদিও তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কোনও জয়ই সন্তানের অকাল মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। নির্বাচনের শুরু থেকেই পানিহাটিতে রত্না দেবনাথের লড়াই ছিল এক অসম সাহসিকতার প্রতীক। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর হয়ে নির্বাচনী সভায় প্রচার করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। যদিও প্রচারের শেষ দিকে রত্না দেবনাথের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা তাঁকে সাময়িকভাবে কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর জি কর কাণ্ডের বিচার এবং অভয়াকে হারানোর যন্ত্রণা ভোটারদের আবেগকে এতটাই স্পর্শ করেছিল যে, বিরোধী প্রার্থীরা তাঁর কাছে ধোপে টেকেনি।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া যে কান্নার রেশ আজও কাটেনি, ২০২৬ সালের ৪ মে যেন সেই যন্ত্রণায় কিছুটা মলম লাগাল। রত্না দেবনাথের জয় পানিহাটির মানুষের কাছে ন্যায়বিচারের এক প্রতীকি বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তাঁর কাঁধে বিশাল গুরুদায়িত্ব। শোকাতুর মা থেকে এখন তিনি কয়েক লক্ষ মানুষের জনপ্রতিনিধি। একদিকে নিজের মেয়ের খুনের বিচার সুনিশ্চিত করা, অন্যদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের দেখভাল— এই দ্বৈত দায়িত্ব নিয়েই সংসদীয় রাজনীতিতে পা রাখছেন রত্না দেবনাথ। পানিহাটির অলিগলিতে এখন একটাই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, আর জি কর কাণ্ড এবং অভয়াকে সাধারণ মানুষ ভোলেনি।