চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং শুটিং সেটে শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তাল স্টুডিও পাড়া। এই আবহেই অভিনেতা দেবের ‘৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ’ ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে পালটা মুখ খুললেন ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রবিবার আর্টিস্ট ফোরামের জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বুম্বাদা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কাউকে না জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া বা পোস্ট করা অনুচিত।
রাহুলের মৃত্যুর বিচার এবং ভবিষ্যতে কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রবিবার ফের বৈঠকে বসেছিল আর্টিস্ট ফোরাম। বৈঠকের পর সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে প্রত্যেকেই ভীত। এই আতঙ্ক কাটিয়ে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করাই এখন মূল লক্ষ্য। সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ জানান, প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তার নতুন নিয়মাবলী কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি যে দুটি ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মীরা বেকার হয়ে পড়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের চেষ্টাও করা হচ্ছে।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেবের সাম্প্রতিক অবস্থান। অনির্বাণ বা ঋদ্ধি সেনের মতো ‘নিষিদ্ধ’ বা অনিয়মিত শিল্পীদের কাজে ফেরানো নিয়ে দেব যে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তার সমালোচনা শোনা গেল প্রসেনজিতের গলায়। তিনি বলেন, “আমি দেবকে দাদা হিসেবে বলেছিলাম, এখন সবাই রাহুলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ, তাই এখনই এই দাবি না তুলে ক’দিন অপেক্ষা করতে। ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে ট্যাগ করে পোস্ট করার আগে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে জানানো সৌজন্যের পরিচয়। এ ধরনের বিষয় সরাসরি ফেডারেশনের কাছে উত্থাপন করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে প্রসেনজিৎ জানান, আড়াই বছর আগে তাঁর একটি ছবির কাজ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি। রাহুলের মৃত্যু যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে ইন্ডাস্ট্রিতে সুরক্ষা ও আবেগের জায়গাটা কতটা জরুরি। এই মুহূর্তে দেবের মতো জুনিয়র সহকর্মীর আগ্রাসী মনোভাব এবং সোশ্যালে চ্যালেঞ্জ জানানোর সংস্কৃতি যে প্রসেনজিৎ বিশেষ পছন্দ করছেন না, তা তাঁর মন্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট।