চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বনগাঁয় অনুষ্ঠান ঘিরে অশান্তির ঘটনায় আপাতত স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। বিজেপি নেতা তনয় শাস্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে যে এফআইআর হয়েছিল, তাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলায় আপাতত মিমির বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মিমি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন। মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত পৌনে ১২টা বেজে যায়। যেহেতু রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল, তাই তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলায় বিজেপি নেতা তনয় শাস্ত্রীর নামও উঠে আসে। পরে তাঁকে ধরতে বনগাঁ থানার পুলিশ গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া এবং হেনস্থার অভিযোগেও তনয় শাস্ত্রী ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এরপর তনয় শাস্ত্রীদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে মিমির করা মামলায় তনয় জামিন পেলেও, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় প্রথমে জামিন মেলেনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের দায়ের করা মামলাতেও আদালত জামিন দিলে জেলমুক্ত হন তিনি।

জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর পাল্টা মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন তনয় শাস্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একাধিক তারিখ পেরিয়ে গেলেও আদালতে হাজির হননি মিমি। সেই প্রেক্ষিতে তনয়ের আইনজীবী তথা বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনের আবেদন জানান।