ad
ad

Breaking News

Manoj Mitra

সাজানো বাগানে বাঞ্ছারামের দাপট আজও, মনোজ মিত্রের নাটকের আবেদন বাংলা ছাড়িয়ে

তাঁর ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ বা ‘সাজানো বাগান’ নাটকগুলিতে গ্রামের মানুষের সারল্য এবং তাদের উপর ধূর্ত শহুরে সমাজের আক্রমণের ছবি দেখতে পাই, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের এক করুণ গাথা রচিত হয়।

Legacy of Manoj Mitra: The Master Craftsman of Bengali Theatre

চিত্র: সংগৃহীত

নীলাঞ্জন হালদার: বিগত ছয় দশক ধরে বাংলা নাট্য ও রঙ্গমঞ্চের একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে মনোজ মিত্র এক চিরস্মরণীয় নাম। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে শুরু করে এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি বাংলা নাটকের মানচিত্রে এমন একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন, যা চিরাচরিত রাজনৈতিক স্লোগান বা নিরেট আদর্শবাদের বেড়াজাল থেকে মুক্ত। তাঁর শিল্পসাধনার মূল ব্রত ছিল চলমান জীবনের সকল স্খলন, পতন, যন্ত্রণা, এমনকি নীচতাকে স্বীকার করেও মানুষকে ভালবাসা ও সমবেদনার এক মানবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা (Manoj Mitra)।

তিনি তথাকথিত কোনও শ্রেণীবিশেষের নায়ক বা খলনায়ককে নয়, বরং রক্তমাংসের এক ‘অখণ্ড মানুষ’কে তাঁর নাটকের কেন্দ্রে স্থাপন করতে চেয়েছেন। এই অখণ্ড মানুষ, যার মধ্যে মহত্ত্ব ও কুসংস্কার, সাহস ও ভীরুতা, আশা ও হতাশা—সবকিছুর সহাবস্থান লক্ষণীয়, তিনিই মনোজ মিত্রের নাটকের মূল দর্শন। তাই বাংলা নাটকের ইতিহাসে তাঁর সৃষ্টির মূল্য অপরিসীম এবং তাঁর অবস্থান বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী।

নাট্যকার মনোজ মিত্রের এই গভীর জীবনবোধের উৎস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে তাঁর জন্মস্থান এবং শৈশবের দিনগুলিতে। ১৯৩৮ সালের ২২শে ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলার সাতক্ষীরা মহকুমার ধূলিহর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবার বদলির চাকরির কারণে ছোটবেলাটা তাঁর কেটেছে একান্নবর্তী পরিবারে, ঠাকুমা-ঠাকুর্দার সান্নিধ্যে। সেই সময় ঠাকুরমার মুখে রামায়ণ-মহাভারতের গল্প শোনা তাঁর মনে গল্প ও নাটকের প্রতি গভীর অনুরাগ জাগিয়ে তুলেছিল (Manoj Mitra)।

এই পৌরাণিক উপাখ্যানগুলির সঙ্গে তাঁর পরবর্তীকালে পৌরাণিক নাটক রচনার যে নিবিড় সম্পর্ক, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। কিশোরবেলায় গল্পকার হওয়ার বাসনা থাকলেও এবং স্কটিশচার্চ কলেজে পড়ার সময় ‘অন্যস্রোত’ পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও, নিয়তি তাঁকে নাটকের মঞ্চেই টেনে আনে। ১৯৫৭ সালের ১৫ই আগস্ট বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুন্দরম’ নাট্যদল, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নাটক করা। কিন্তু দলের পরবর্তী প্রযোজনার জন্য ভালো নাটক পাচ্ছিলেন না তাঁরা। এই অভাবই তরুণ মনোজ মিত্রকে এক প্রকার বাধ্য করেছিল নাটক লিখতে কলম ধরতে।

১৯৫৯ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি সৃষ্টি করেন তাঁর প্রথম একাঙ্ক নাটক ‘মৃত্যুর চোখে জল’। নাটকটি থিয়েটার সেন্টার নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে, যা কেবল তাঁর নাট্য-জীবনের শুরু নয়, বরং বাংলা নাটকের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। এরপর থেকে একাঙ্ক, পূর্ণাঙ্গ, শিশুনাটকসহ প্রায় একশ’র বেশি নাটক রচনা করে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হয়ে বিরাজ করছেন (Manoj Mitra)।

মনোজ মিত্রের নাট্যসৃষ্টির যে গভীরতা ও জনপ্রিয়তা, তার প্রধান কারণ হলো তাঁর চরিত্রায়ণ। মনোজ মিত্রের নাটকের নায়ক বা প্রোটাগোনিস্ট ভালোত্ব বা মহত্বের নিখাদ প্রতিচ্ছবি নয়, যেমনটা পবিত্র সরকার যথার্থ ভাবেই লিখেছিলেন, ‘মনোজের প্রোটাগোনিস্ট বা নায়ক ভালোত্ব বা মহত্বের নিখাদ পুটুলি নয়, তারমধ্যে ভীরুতা, নীচতা, অন্ধ কুসংস্কার, সংকীর্ণতা সবই আছে। মানুষকে এই গোটা জ্যান্ত আকারে দেখাতেই মনোজের নাটকে বক্তব্য (সংলাপ) বক্তৃতা হয়ে ওঠে না।’

এই মন্তব্যটি তাঁর নাট্যদর্শনের মূল কথা। তিনি সেই মানুষকে তুলে ধরেন, যার জীবনে ভুল, দুর্বলতা, এবং অপরাধ সবই আছে, কিন্তু একই সঙ্গে টিকে থাকার এক দুর্জয় প্রাণপণ লড়াইও আছে। তাঁর কালজয়ী চরিত্র, যেমন ‘বাঞ্ছারাম’, ‘বঙ্কিম’, ‘গজমোহন’, ‘ওয়ালি খাঁ’, এরা কেউই নিরেট সাদা বা কালো নয়, বরং ধূসরতার মধ্যে জীবনের আসল রং খুঁজে ফেরে। তাঁর নাট্য-বন্ধু গৌর কিশোর ঘোষ চিত্র পরিচালক তপন সিনহাকে কথাচ্ছলে বলেছিলেন, “আরে ওখানেও তো সেই একটা বুড়ো আর তার টিকে থাকার প্রাণপণ লড়াই (Manoj Mitra)।

কাহিনীর বাইরের চেহারাটা অবশ্য আলাদা—একেবারেই আলাদা। কিন্তু এই যে অনেক লেখার মধ্যে একটা বিশেষ কথা খুঁজে ফেরা—ব্যাপারটা নানা পথে নানা কোণে দুর্জয় পর্বতশৃঙ্গে বারবার অভিযান চালানোর মতোই।” মনোজ মিত্র সেই ‘বেঁচে থাকার লড়াই’কেই বারবার তাঁর নাটকের কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছেন, তা সে গ্রামীণ বাঞ্ছারামের জমি রক্ষার লড়াই হোক বা শহুরে জীবনের জটিলতার মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার টানাপোড়েন।

বিষয়-বৈচিত্র্যের দিক থেকেও মনোজ মিত্রের নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তিনি যেমন সহজ সরল গ্রামীণ অন্ত্যজ মানুষের জীবনযাত্রাকে তাঁর নাটকের বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তেমনি শহুরে জটিলতা, রাজনীতি এবং পুরাণও হয়েছে তাঁর নাট্যসৃষ্টির মূল উপজীব্য। তাঁর ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ বা ‘সাজানো বাগান’ নাটকগুলিতে গ্রামের মানুষের সারল্য এবং তাদের উপর ধূর্ত শহুরে সমাজের আক্রমণের ছবি দেখতে পাই, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের এক করুণ গাথা রচিত হয়।

আবার ‘নরক গুলজার’ বা ‘চাক ভাঙা মধু’ এর মতো নাটকগুলিতে শহুরে জীবনের জটিলতা, অপরাধ জগৎ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের তীব্র চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বিশেষ মুন্সিয়ানা হলো মিথ এবং পুরাণকে অবলম্বন করে সমকালকে প্রতিভাত করা। রামায়ণ, মহাভারত বা পুরাণের কাহিনীকে তিনি শুধু পুনর্বিন্যাস করেননি, বরং সেই প্রেক্ষাপট ব্যবহার করে সমকালীন রাজনীতি, যুদ্ধ, ন্যায়-অন্যায়, এবং শাশ্বত মানবিক দ্বন্দ্বের প্রশ্নগুলিকে উত্থাপন করেছেন। ‘অশ্বত্থামা’ নাটকটি এর এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

১৯৬৩ সালে একাঙ্ক হিসেবে প্রথম রচিত হলেও, পরে ১৯৭২-৭৩ সালে তিনি এটিকে পূর্ণাঙ্গ নাটক হিসেবে পরিমার্জিত করেন। এই নাটকে পৌরাণিক চরিত্র অশ্বত্থামার চরম অস্তিত্বের সংকটকে তিনি এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা আজকের দিনেও যুদ্ধবিধ্বস্ত বা নৈতিক সংকটে ভোগা মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়। মিথ ও পুরাণ তাঁর কাছে ইতিহাসের সাক্ষ্যবাহী দুই দোসর, যারা ক্রমপরিবর্তনশীল মানব-অস্তিত্বের স্বরূপ উন্মোচন করে (Manoj Mitra)।

মনোজ মিত্রের নাটকের গভীরতা শুধু তার বিষয়বস্তু বা চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর নাট্য-নির্মাণশৈলী বা আঙ্গিকও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি শিল্পতাত্ত্বিক উইলিয়াম হোগার্থের শিল্পের রূপ সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘সরলরেখা নয়, চোখ চায় নদীটা কি পথটা হোক আঁকাবাঁকা – হাতের চুড়ি নিটোল না হয়ে হোক খাঁজকাটা। সোজাসাপটা নয়, মানুষ চায় গল্পটায় নাটকটায় থাকে যেন চড়াই উৎরাই , অচেনা বাঁক। শুধু আলো নয়, শুধু ছায়া নয়, মানুষকে টানে আলোছায়া।’

এই সৌন্দর্য গড়ার চাতুর্য তাঁর নাট্য-আঙ্গিকে সর্বদা উপস্থিত। অ্যারিস্টটল নাটকের দুটি প্রধান অঙ্গের কথা বলেছিলেন—’বৃত্ত’ (প্লট) ও ‘চরিত্র’, যেখানে বৃত্ত বা প্লট হলো নাটকের আত্মা। মনোজ মিত্রের নাটকগুলি ট্র্যাজেডি বা কমেডি’র চিরায়ত শ্রেণীতে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হয়েও, প্লট বা বৃত্ত নির্মাণে তিনি দেখিয়েছেন এক অনন্য দক্ষতা। তিনি কেবল প্রধান বৃত্তের ওপর নির্ভর না করে প্রাসঙ্গিক বৃত্ত বা ‘সাব-প্লট’-এর এমন সুচারু ব্যবহার করেন, যা প্রধান বৃত্তের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে নাটককে গভীরতা ও ব্যঞ্জনা দান করে। এই চড়াই উৎরাই, অচেনা বাঁক এবং আলো-ছায়ার খেলার মধ্য দিয়েই তাঁর নাটকে ঘটনার অভিঘাত এবং চরিত্রের বহুমুখিতা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

তাঁর সংলাপ রচনা এবং ভাষাশৈলীর ক্ষেত্রেও মনোজ মিত্রের নিজস্বতা লক্ষণীয়। নাট্য সংলাপকে তিনি শুধু কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, বরং চরিত্র ও ঘটনাকে রূপ দেওয়ার এক অনুপম অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। প্রাচ্য আলংকারিকেরা সংলাপকে ‘নানা ভাব সমাশ্রিত গভীর উক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মনোজ মিত্র তাঁর নাটকে চলিত গদ্য, আঞ্চলিক ভাষা, কাব্যিক ভাষা, এমনকি অপরাধ জগতের ভাষাও তাৎপর্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর সংলাপে রঙ্গরসের এক আধার থাকলেও, সেই রসের আড়ালে সুচারুভাবে মানুষের অন্তর্গত সত্তাকে জাগ্রত করার প্রচেষ্টা থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, ‘নরক গুলজার’ নাটকে অপরাধ জগতের ব্যবহৃত ভাষা, যেমন: ‘থোবরা ছিঁড়ে নেব। শালা তিরিশ হাজার মারাচ্ছে। তিরিশ হাজার বছর নরকে বসে থাকব, এদিকে দমদম দিয়ে ঝমাঝম ওয়াগানগুলো গড়িয়ে যাবে। এক একখানা কামরা ঝাঁপব , বিশ…’ এই ধরনের ভাষার ব্যবহার নাটককে কেবল জীবনধর্মী করে তোলে না, বরং চরিত্রের বাস্তবতাকেও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর সংলাপে কখনো দুর্বোধ্যতা নেই, কিন্তু অ্যারিস্টটলের নির্দেশিত ‘স্বচ্ছতা এবং সমুন্নত রীতি’-এর মিশ্রণ দেখা যায়, যা নাটককে সার্থক করে তোলে।

সংলাপের পাশাপাশি মঞ্চসজ্জার প্রতীকী নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও মনোজ মিত্রের সচেতনতা চোখে পড়ার মতো। নাটকের ভাবকে গভীরতা দেওয়ার জন্য তিনি প্রায়শই মঞ্চসজ্জার বিশদ ও প্রতীকী বর্ণনা দেন। যেমন ‘অশ্বত্থামা’ নাটকের মঞ্চসাজে তিনি বর্ণনা করেছেন, তখন গোধুলিবেলা। দিগন্তে উজ্জ্বল হলুদ আলো। প্রান্তরের মাঝখানে একটি যুদ্ধরথ দাঁড়িয়ে ছিল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায়। রথচূড়ায় ধ্বজাটি ছিল ভাঙা এবং অবনত। প্রান্তরে রথটিকে আগলে শিলাখন্ডের উপর বসেছিলেন দুই রাজপুরুষ। এই ধরনের মঞ্চসজ্জা তাঁর নাটকের দার্শনিক দিকটি ফুটিয়ে তোলে, যেখানে ধ্বংসের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই এবং অতীতের জীর্ণ গৌরবকে ঘিরে মানুষের অস্তিত্বের সংকট চিত্রিত হয় (Manoj Mitra)।

আবার, তিনি নাটকে গানের ব্যবহারকেও শুধু অলংকার হিসেবে রাখেননি, বরং সংলাপ ও নাট্যক্রিয়ার সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা চরিত্রগুলির সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনাকে এক অন্য মাত্রা দেয়। এই সামগ্রিক নির্মাণশৈলীই মনোজ মিত্রের নাটককে দর্শক ও সমালোচকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণীয় করে তুলেছে।

মনোজ মিত্রের নাটকের আবেদন বাংলা ছাড়িয়ে হিন্দী, অসমিয়া, তামিল, ওড়িয়া, ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৭০টি নাট্যদল তাঁর নাটকের প্রায় ৬০০ প্রযোজনা করেছে—যা তাঁর নাটকের গভীরতা এবং জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। অর্ধশতাব্দী ধরে নাট্যজগতের মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করার পরেও তাঁর নাট্যরচনার অভিমুখ কখনোই একঘেয়ে বা দুর্বল হয়নি। তাঁর নাট্যদর্শনে মানুষ ও মানবিকতাই প্রধান এবং তাঁর অভিমুখ সর্বদা আশাবাদ।

তিনি আমাদের বাঁচতে শেখান, টিকে থাকতে শেখান, আবার চলমান জীবনের যন্ত্রণার ছবিও ফুটিয়ে তোলেন অনায়াসে। তাঁর জীবন ও সৃষ্টির মধ্যেই তাঁর সত্য ও সুন্দরের সাধনা পূর্ণতা লাভ করেছে। মনোজ মিত্র শুধুমাত্র একজন নাট্যকার নন, তিনি চলমান জীবনের এক প্রতিচ্ছবি, যা আমাদের বাঁচতে, ভালোবাসতে এবং মানুষ হয়ে উঠতে শেখায়। তাঁর নাটক তাই বাঙালির জীবনে চিরন্তনভাবে প্রাসঙ্গিক এবং তাঁর শিল্পসৃষ্টি বাংলা নাটকের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় (Manoj Mitra)।