চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বারুইপুরের (Baruipur) ধপধপি এলাকার সেই নৃশংস নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনায় এবার এক নজিরবিহীন মোড়! ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল ইতিমধ্যেই পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হলেও, ভুলবশত ‘নির্দোষ’ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় এবার আইনি জালে জড়ালেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্ট করে জনতাকে হিংসায় প্ররোচিত করা এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো ঘটনায় হাওয়া দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এবার শ্রীলেখা-সহ বেশ কয়েকজন তারকা ও বাম নেতার বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হল এফআইআর (FIR)।
বিজেপি নেতা সুশোভন রায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বারুইপুর থানায় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, জনপ্রিয় ইউটিউবার অনুভব মাইতি এবং বর্ষীয়ান বাম নেতা লাহিক আলির বিরুদ্ধে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিজেপি নেতার দাবি, “ঘটনার দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এমন কিছু উসকানিমূলক ও ভুয়ো পোস্ট করেছিলেন, যার জেরে সাধারণ মানুষের মনে হয়েছিল যেন এই জঘন্য অপরাধের পেছনে আরএসএস বা বিজেপির হাত রয়েছে। এর ফলেই ধপধপি জুড়ে ঘরবাড়ি জ্বালানো, রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং শেষমেশ নির্দোষ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে মারার মতো ভয়াবহ হিংসা ছড়ায়।”
এই মারাত্মক অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র সাফ জানিয়েছেন, “আমি জানতে পেরেছি বারুইপুরের ঘটনায় হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগে আমার নামে এফআইআর হয়েছে। আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এই মিথ্যা অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমি আইন মেনে চ্যালেঞ্জ করছি, পুলিশ বা অভিযোগকারী দেখাক আমি কোথায়, কখন এবং কীভাবে এমন কোনো উসকানিমূলক পোস্ট করেছি!”
এদিকে বারুইপুরের ধপধপি এলাকা রবিবার সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। পুকুর থেকে ওই হতভাগ্য নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা শুনে শিউরে উঠছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও। রিপোর্টে স্পষ্ট যে, ওই নাবালিকাকে নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতন করার পর কোনো ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল বা দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সবথেকে হাড়হিম করা তথ্য হল, যখন তাকে পুকুরের জলে ফেলা হয়, তখনও মেয়েটি জ্যান্ত ছিল! অর্থাৎ মাথায় আঘাত করার পর অচৈতন্য অবস্থায় তাকে জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছে।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে পুলিশ ৩ দিনের মাথায় এনকাউন্টারে খতম করলেও, ভিড়ের হিংসায় প্রাণ হারানো নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বারুইপুরের এই স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারাই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক রঙ লাগানোর চেষ্টা করবে বা উসকানিমূলক পোস্ট করবে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। শ্রীলেখা-সহ বাকি অভিযুক্তদের খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে খবর।