কেমন ছিল আশা-পঞ্চমের রহস্যময় বৈবাহিক জীবন? চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে এমন কিছু জুটি থাকে, যাঁরা কেবল পর্দার পিছনের কারিগর নন, বরং যাঁদের নিজেদের জীবনটাও কোনো এক কালজয়ী সিনেমার গল্পের চেয়ে কম কিছু নয়। তেমনই এক অবিস্মরণীয় জুটি হলেন আশা ভোঁসলে এবং রাহুল দেব বর্মন (পঞ্চম)। তাঁদের সম্পর্ক ছিল সুর, তালের এক অদ্ভুত মিশেল, যেখানে প্রেম আর সৃজনশীলতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
আশা এবং পঞ্চমে আলাপ পেশাগত কাজের মাধ্যমেই। ১৯৫৬ সালে ‘আরমান’ ছবির হাত ধরে তাঁদের প্রথম একসঙ্গে কাজ। তখন আশা ভোঁসলে সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নাম, আর শচীন দেব বর্মনের সুযোগ্য পুত্র রাহুল দেব বর্মন তাঁর নিজস্ব ‘পঞ্চম’ ঘরানা তৈরি করতে ব্যস্ত। শুরুতে তাঁদের সম্পর্ক ছিল নিছকই শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালকের। আশা ছিলেন অসাধারণ বহুমুখী এক শিল্পী, আর পঞ্চম ছিলেন নতুনত্বের কারিগর। আশার গলার গাম্ভীর্য আর স্টাইলকে পঞ্চম যেভাবে ব্যবহার করেছিলেন, তা আগে কেউ ভাবতেও পারেনি।
১৯৮০ সালে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের টানাপোড়েন পেরিয়ে এই দুই কিংবদন্তি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে, কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সঙ্গীতের প্রতি টান তাঁদের ঘরকে এক পূর্ণতা দিয়েছিল। তবে বিয়ের চেয়েও বড় ছিল তাঁদের ‘মিউজিক্যাল পার্টনারশিপ’। একে অপরের সান্নিধ্যে তাঁরা একের পর এক কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন ভারতকে।
পঞ্চমদার সুরে আশার গাওয়া গানগুলি আজও আধুনিক সঙ্গীতের চেয়েও বেশি সতেজ। তাঁদের অমর কিছু সৃষ্টির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
‘দম মারো দম’ (হরে কৃষ্ণ হরে রাম): আশার আধুনিক গায়কী আর পঞ্চমের ওয়েস্টার্ন বিট কাঁপিয়ে দিয়েছিল তদানিন্তন ভারতের তরুণ সমাজকে।
‘পিয়া তু আব তো আ জা’ (কারবাঁ): ক্যাবারে ঘরানার গানে আশা যে অদ্বিতীয়, তা পঞ্চমদা প্রমাণ করেছিলেন এই গানে।
‘ও মেরি সোনা রে’ (তিসরি মঞ্জিল): তাঁদের রোমান্টিক ডুয়েট বা সোলো গানগুলি প্রেমের ভাষা বদলে দিয়েছিল।
‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ (ইয়াদোঁ কি বারাত): আজও এই গানটি প্রেমের অন্যতম সেরা সংজ্ঞাবাহী গান।
১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মনের অকাল প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। আশা হারিয়ে ফেলেন তাঁর প্রাণের সখা ও সৃজনশীলতার মূল উৎসকে। দীর্ঘ একাকীত্বের সফরে আশা বহুবার তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “পঞ্চম কেবল আমার স্বামী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার সেরা বন্ধু এবং শিক্ষক।” তাঁর মৃত্যুর পরেও আশা যখনই মঞ্চে ওঠেন, পঞ্চমের নাম ছাড়া তাঁর গান অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পঞ্চমের মৃত্যূুর ৩২ বছর পর রবিবার সুরলোকে পাড়ি দিলেন তাঁর অর্ধাঙ্গিনী আশা-ও।