গ্রাফিক্স: নিজস্ব
সুদীপ্ত দে: গত ২০১৪-২০১৫ তে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত এসবিআই ব্যাঙ্ক-এ অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে অ্যাকাউন্টের ফর্মের সঙ্গে অটল পেনশন যোজনা ফর্ম ফিল আপ করতে হতো। কোনও গ্রাহক ৪২ টাকা প্রিমিয়াম দিত প্রতি মাসে, আবার কেউ ২১০ টাকা প্রিমিয়াম দিত প্রতিমাসে। ৪২ টাকা প্রতি মাসে প্রিমিয়াম দিলে যত টাকা পেনশন পাবে প্রতি মাসে তার থেকেও বেশি পেনশন পাওয়া যাবে ২১০ টাকা প্রিমিয়াম দিলে।
এই প্রিমিয়াম দেওয়ার বয়স ছিল ১৮ থেকে ৪২ বছর পর্যন্ত। আর ৬০ বছর বয়স থেকে তারা মাসিক পেনশন পাবে। এই প্রিমিয়ামের টাকা কাটা হতো ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মারফত। অথচ প্রতিমাসে যে আপনার থেকে ৪২ টাকা এবং ২১০ টাকা অটল পেনশন যোজনায় কেটে নিচ্ছে তার কোনও প্রমাণ কোনও গ্রাহকের কাছে নেই। অর্থাৎ আপনি ৪২ টাকা প্রতি মাসে পেনশন দিচ্ছেন যেদিন থেকে শুরু করে আপনার ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত। কত টাকা হল তার একটি প্রমাণপত্র বা সার্টিফিকেট ব্যাঙ্কের দেওয়ার কথা কিন্তু সেটি ব্যাঙ্ক কোনওভাবেই দেয়নি। আর ২১০ টাকার যে প্রিমিয়াম তারও কোন সার্টিফিকেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
এতে সমস্যা হল, কোনও গ্রাহক তিনি মাসে ৪২ টাকা অথবা ২১০ টাকা করে যা জমিয়েছ, তার মোট কত টাকা ওই অটল পেনশন যোজনায় জমেছে তার কোনও প্রমাণ গ্রাহকের কাছে নেই। কোনও ব্যাঙ্ক আধিকারিকের কাছে বিষয়টি জানতে গেলে তিনিও সদুত্তর দিতে পারেন না। ফলে এই পেনশন যোজনার টাকা যারা বন্ধ করে দিয়েছেন, তারা যত টাকা জমিয়েছিলেন সেই টাকা এখনও পর্যন্ত ফেরত পাননি। তা হলে এই কোটি কোটি গ্রাহক যাদের মাসিক ৪২ টাকা অথবা ২১০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে তাদের টাকাগুলো গেল কোথায়?
কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি আদৌ পালন করতে পারেনি। তার প্রমাণ আরও একবার পাওয়া গেল। কারণ, একজন দরিদ্র অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত সমস্ত ধরনের মানুষ তারা এই অটল পেনশন যোজনা করেছিলেন। কারণ ভবিষ্যতে তারা যদি অল্প কিছু পেনশন পায় তা হলে তাদের কোনও রকমে তাদের জীবন অতিবাহিত করা যাবে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে এই সমস্ত মানুষের থেকে প্রতি মাসে ৪২ টাকা অথবা ২১০ টাকা যেভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে তার কোনও প্রমাণপত্র যেমন এই সাধারণ মানুষের কাছে নেই আবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে গেলেও তারা কোনও প্রমাণপত্র দিতে পারেনি।
এই সমস্ত সাধারণ মানুষকে একটি বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কারণ তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশ্বাস করে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে বিশ্বাস করে। তারা যে ভাবে টাকা জমিয়েছে সেই টাকার কোনও প্রমাণপত্র নেই। এছাড়া যারা ৬০ বছর অতিক্রান্ত করেছে তারাও যে এই পেনশন পাচ্ছেন কিনা তা নিয়ে নানান সন্দেহ রয়েছে।
যেখানে শিল্পপতি, পুঁজিপতিদের ঋণের টাকা মুকুব করে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেখানে এই ধরনের পেনশন ব্যবস্থা যে পরিচালনা করতে পারছেন না তা খুব লজ্জাজনক ঘটনা। সাধারণ মানুষ তারা তাদের ব্যাঙ্কের থেকে প্রতি মাসে এই টাকা কাটিয়েছিলেন। কারণ তারা ষাট বছর বয়স হলে যে পরিমাণে পেনশন পাবেন, তাতে কিছুটা সুরাহা হবে এই কথা ভেবে তারা এই টাকা ব্যাঙ্ক মারফত দিয়েছিলেন। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্ত মানুষের আস্থা ভরসা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তারই নমুনা পাওয়া গেল বারংবার। কেন্দ্রীয় সরকার তারা নানান প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প ঠিকমতো পরিচালনা করতে না পেরে বন্ধ করে দিয়েছে।