চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
বাবুল চট্টোপাধ্যায়: এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে এসআইআর থেকে বিজেপি কোনও বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ এতে যেভাবে আতঙ্ক সঞ্চার হয়েছে তাতে মানুষের মধ্যে থেকে তার ফল যে খুব ইতিবাচক হবে এমনটা আশা করাটা প্রকৃত অর্থেই বৃথা। কারণ জনগণ যথেষ্ট বিরক্ত। ভারতবর্ষের রাজনীতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে বিচার করলে চলবে না। এখানে কোনও ফ্লুক কাজ করে না। এখনকার মানুষ মুখে গেল গেল রব করলেও বিশ্বাস অন্য জায়গায়। হ্যাঁ, বিশ্বাস উন্নয়নে। আমাদের বর্তমান রাজ্য সরকার সে কাজটা বেশ তৎপরতার সঙ্গে করে চলেছে। আমাদের রাজ্যে রাজনীতি অন্য সমীকরণে চলে। এখানে সামগ্রিক চিত্র অন্য কথা বলে। মানুষ এক বললেও কার্যক্ষেত্রে করে তার অন্য ইমপ্যাক্ট হয় সম্পূর্ণ আলাদা। তাই বিজেপির আশ্বস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই যে বঙ্গে টিএমসি গেল। এসআইআর মানুষকে ভয় পাইয়ে ছাড়ছে। এমন আতঙ্ক ২০০২ সালে ছিল না। একটা নির্ভুল ভোটার তালিকা সবাই চায়। কিন্তু তাই বলে আতঙ্কে নয়। আতঙ্ক মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আর তাই তার পরিণাম খুব একটা ভাল হয় না।
একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে একথা বলতে পারি যে, এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প তেমন দেখতে পাচ্ছি না। বড় দলের অনেক দায়িত্ব। আর কাজ করলে ভুল হবে। কিন্তু তাই বলে সবটাই ভুল তা বলি কী করে! এমন কিছু কাজ এই সরকার করেছে যা আগে কখনও হয়নি। আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু বাকিও আছে। একটা দলের যা যা পরিকাঠামো থাকলে তা একটা গুণগত মানে যায় তার সবটাই এই সরকারে আছে। তবে তাই বলে সবটাই যে ভাল বা কিছু ভুল যে নেই তা বলছি না। তবে কাজের নিরিখে, উন্নয়নের নিরিখে রাজ্যে যে নজিরবিহীন সাফল্য এসেছে তা কি অস্বীকার করতে পারবে বিরোধীরা? পারবে না। আসলে মানুষ কী চায় এই সরকার জানে। জানে মানুষের অন্তরাত্মায় কীভাবে পৌঁছতে হয়।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভালকে ভাল আর কালোকে কালো বলতে জানে। তাই তো এই সরকারের এত সমালোচনা হয়। এটা খারাপ দিক নয়। মানুষ আলোচনায় থাকুক মানুষকে ভাবনার অবকাশ করে দেওয়া হোক– তবেই তো একটা ভাল কাজকে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আপনি আমি যতই রাজনীতি নিয়ে ভাবি না কেন আমাদের নিজস্ব মতে কিন্তু প্রভাবটা পড়ে। বিহারের অবস্থা দেখে বাংলার বিচার করা যাবে না। আমি আগেও বলেছি যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ঠিক অন্য জায়গায়। এখানে একটা আবেগ কাজ করে। ভাল-মন্দের সমীকরণ এখানে মানুষ বেশ বোঝে। তাই তো এখনকার রাজনীতির সঙ্গে অন্য কোনও রাজ্যের রাজনীতি এক করা যায় না। একটা বাড়িতে পাঁচজন মানুষ থাকলে পাঁচটা আলাদা মত হতে পারে। তাও কোনও পক্ষপাতদুষ্ট নেই। এই আমাদের রাজ্য। সাম্য, মৈত্রী, ভালবাসা আছে। এখানে অনেক মত, অনেক ভাষী মানুষ তাও কোনও দ্বন্দ্ব নেই। কোনও হিংসা নেই। একটা বিশ্বাসে চলে সকলে। সুতরাং আমার শহর, আমার রাজ্য আমার কাছে আবেগ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকে।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনও বিকল্প কি দেখা যাচ্ছে? না। বলছি না বর্তমান সরকার সব কাজ সুসম্পন্ন ভাবে করে ফেলেছে। তবে এটা তো বলতে পারি একটা চেষ্টা করে চলেছে। অনেকটা সাফল্যও পেয়েছে। সর্বোপরি মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে। ভুল কিছু হয়নি এমন কথা বলা যাবে না। বেশ কিছু ডাবল ইঞ্জিন সরকার চালিত রাজ্যের থেকে আমরা অনেক বেশি নিরাপদ। সেই উদাহরণে না গিয়ে আমাদের নিজেদের খামতিগুলিকে শুধরে নিতে হবে। উন্নয়নের ধারাকে যারা অব্যাহত রাখতে পারবে তাদেরকে মানুষ পছন্দ করবে।