চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে চলছে এসআইআর। ভোটারদের নাম ঝাড়াই-বাছাই চলছে। বলা যায়, সংশোধিত ভোটার তালিকা তৈরি করার এটা একটা কর্মযজ্ঞ। এই প্রক্রিয়া চলার মাঝে জানা যাচ্ছে, নতুন ভোটার হিসেবে তালিকায় নাম তোলার হার খুব একটা আশাব্যাঞ্জক নয়। তা হলে কি রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার কমছে? গত ১০ বছরের নির্বাচনী পরিসংখ্যানে সেই তথ্যই স্পষ্ট। শুধু তাই নয় নির্বাচনী তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও দিনকে দিন গতিহীন হয়ে পড়ছে।
গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনগণনার কাজ স্তব্ধ থাকলেও নির্বাচনী পরিসংখ্যান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তথা নতুন প্রজন্মের ভোটার কমে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট করেছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নতুনভাবে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। যার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ২ লক্ষ এবং তালিকা প্রকাশের পর (৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) প্রায় ৩ লক্ষ ফর্ম ৬ এখনও পর্যন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা করা আবেদনপত্রের সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮।
২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের বছরে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার। ২০১৫ সালে ২১ লক্ষ ৫৩ হাজার। ২০১৬ সালে ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার। একুশের বিধানসভা নির্বাচনী বছরে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনী বছরে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার। এবছর এখন পর্যন্ত নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য ৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার হারের গ্রাফ নিম্নমুখী। রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমার নিরিখে রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।