ad
ad

Breaking News

EDITORIAL

EDITORIAL : রাজ্যপাল নন, উপাচার্য বাছাই করবেন মুখ্যমন্ত্রী, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সরকারের হাত শক্ত হল

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে,মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশ করা নামের প্যানেল থেকেই উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে

The Chief Minister will select the Vice-Chancellor, not the Governor

ছবিঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk  : রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের ছায়া পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে।দেখা যায়,কেন্দ্রের মনোনীত প্রতিনিধি জনগণের নির্বাচিত প্রশাসনিক প্রধানকে মান্যতা না দিয়ে উপাচার্য নিয়োগ করতে চান। রাজ্যপাল সিভিআনন্দ বোস একতরফাভাবে  ১৭টির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করে বিতর্ক তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সংঘাতের আপাততঃ সমাধান বের হল সুপ্রিমকোর্টে। কারণ শীর্ষ আদালত জানিয়েছে,মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশ করা নামের প্যানেল থেকেই উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে। যদি সেই তালিকার মধ্যে থেকে উপাচার্য নিয়োগ না করা হয় তাহলে তার কারণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। শিক্ষাজগতের বিভিন্ন শাখা থেকেই যে উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে,তাও একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের ভিত শক্ত হল বলে শিক্ষাবিদদের একাংশের অভিমত।

সুপ্রিমকোর্টের এই নির্দেশিকায় দুটি বিষয় পরিষ্কার।প্রথমতঃ শিক্ষাজগতের বাইরের লোকেরা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় বসতে পারবেন না। দ্বিতীয়তঃ কোনও রাজ্যের রাজ্যপালই এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে একতরফা নিয়োগের সাহস দেখাতে পারবেন না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে,  রাজ্যের রাজ্যপাল   শিক্ষাবিদ এবং অধ্যাপকের বাইরে গিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে উপাচার্য নিয়োগ করেন।   মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদকে   গুরুত্ব না দিয়ে তিনি এক প্রাক্তন আইপিএসকে উপাচার্য পদে বসান বলেও শোনা যায। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সিএম রবীন্দ্রনকে।  রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায়   প্রাক্তন আইপিএস–কে নিয়োগ করায় শিক্ষামহলের একাংশ রুষ্ট হয়।

এখন সুপ্রিমকোর্ট যে নির্দেশ জারি করেছে,তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে,মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশ করা নামের তালিকার  মধ্যে থেকে নিয়োগ না করা গেলে তার কারণ উল্লেখ করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী অবস্থা হয়েছে,তার বিস্তারিত তথ্য এবার স্পষ্ট করতে হবে সাংবিধানিক প্রধানকে।  এক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা বিভাগ নোডাল বিভাগ হিসেবে কাজ করবে।তাই শিক্ষার মতো যুগ্ম তালিকায় থাকা বিষয়ে কেন্দ্রের নিযুক্ত রাজ্যপাল যাতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে না পারে সেজন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পক্ষে তা ইতিবাচক ইঙ্গিত বলা যায়।

 

 সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের  নির্দেশ, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের জন্য তিনটি করে নাম বাছাই করবে সার্চ কমিটি। সেই তিনটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে কমিটি। ওই তিনটি নামের মধ্যে থেকে একটি নাম বেছে নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুমোদনের সেই নাম তিনি রাজভবনে পাঠাবেন। তাঁকে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করবেন রাজ্যপাল তথা আচার্য। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাশ যে  যে রাজ্য সরকারের হাতেই থাকতে চলেছে তা এতে স্পষ্ট হল বলাই যায়।