চিত্রঃ সংগৃহীত
বাবুল চট্টোপাধ্যায় (প্রাবন্ধিক): রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি। না রাজনীতি আমার বিষয় নয়। আমি কোনওভাবেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। ভুল বললাম। সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও বলতে হয় যে, আমি রাজনীতির মধ্যেই আছি। কারণ আমরা রাজনীতি ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারি না। আমাদের চিন্তাভাবনা, আমাদের স্বপ্ন, আশা-প্রত্যাশা সবকিছুর মধ্যেই রাজনীতি থাকে। সেই রাজনীতিতে মধ্যে আমরা কতটা থাকি সেটাই আসলে দেখার (SIR)।
আমাদের প্রায় সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সূক্ষ্ম রাজনীতি। না, ঠিক সেটা আমাদের বিষয় নয়। তবে বিষয়ের ভূমিকা বটে। আজকের বিষয় হল সেই রাজনীতি, যেখানে তথাকথিত ‘পার্টি’ বিষয়টি থাকে। আর এই পার্টির ক্ষেত্রে কোনও না কোনও পক্ষ অবলম্বন করতেই হয়। কোনও পক্ষ অবলম্বন করলে তবেই একটা ‘পার্টি’ বললে আমরা যা বুঝি তাই বোঝায়। বলতে পারেন কোনও না কোনও পক্ষ বোঝায়। সুতরাং আমাদের এখানে কেউ নিজেকে নিরপেক্ষ বলতে পারে না। যে বা যারা নিরপেক্ষ বলে তারা আসলে কোনও না কোনও পক্ষ। সুতরাং এটা আমাদের ধরে নিতে হবে প্রত্যেকেই আমরা কোনও পক্ষের।
আসছি পশ্চিমবঙ্গের কথায়। পশ্চিমবাংলা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে প্রতিটা পর্যায়ে কোনও না কোনও ভাবে মানুষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে যা দেখছি, যা বুঝছি তাতে এটা ধরে নিতে হবে যে পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলো পার্টির মধ্যে যারা মানুষের স্বার্থে, মানুষের জন্য, মানুষের হয়ে কাজ করছে তারা হল বর্তমান সরকার। মানে তৃণমূল সরকার। এই সরকার মানুষের সঙ্গে মানুষের পাশে শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছরই কোনও না কোনও কাজ করে চলে। আর ঠিক সেই কারণেই জনগণ এই সরকারের উপর, তার কাজের উপর, তার উন্নয়নের উপর এতটা অগাধ বিশ্বাস রেখে চলেছে। মানুষ যা চায় তা এই সরকারের মধ্যে দেখতে পায়। না, এখানে কোনও ফ্লুক কাজ করে না। মানুষ দেখে কাজ। কাজের গতি, কাজের ধারা মানুষকে প্রভাবিত করে তার ভোটদানে শ্রেষ্ঠ মত দিতে। যে মতের ভিত্তিতে একটি আদর্শ সরকার গঠিত হয়। আমরা দেখেছি বিগত দিনের মতো এই সরকার মানুষের জন্য কীভাবে লড়াই করেছে (SIR)।
এই যেমন ধরুন, সাম্প্রতিক এসআইআর-এর কথা। এ নিয়ে কম হইচই হল না। গোটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে মূলত যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার নেই, সেখানেই এসআইআর-এর গুরুত্বকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনেকগুলো রাজ্যে সাকসেস হয়েছেও। কিন্তু, বাংলায় তা হল না। বরং মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে এই সরকার সুপ্রিম কোর্ট অব্দি তার জাস্টিস পেতে ছুটে চলেছে। আপনি কি দেখেছেন কোনও রাজ্যে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এইভাবে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে লড়াই করেছে সাধারণ মানুষের জন্য? উদাহরণ নেই। আসলে অভিভাবিকার মতো তিনি সমগ্র মানুষকে নিয়ে এমন সু চিন্তা-ভাবনা করেছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে তেমন দেখা যায়নি। উল্টে বিরোধীরা সেক্ষেত্রে জানিয়েছে যে, এখানে সব অবৈধ ভোটারের উপদ্রব। তাই এত ভয়। কিন্তু একটু বিচার বুদ্ধি দিয়ে ভাবুন তো বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কতজন রোহিঙ্গা, কতজন বাংলাদেশি, কতজন অবৈধ ভোটার এখনও পর্যন্ত খুঁজে পেল? উত্তর হবে না।
এখনও পর্যন্ত তেমন ভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নো ম্যাপিং, মৃত ভোটার, স্থানান্তকরণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তবে আশঙ্কা তো অন্য জায়গায়। একজনও ন্যায্য ভোটার বাদ যাবে কেন? যে এতকাল ধরে ভোট দিয়ে চলেছিল তার ভোটাধিকার হঠাৎ করে এই অদ্ভুতুড়ে পদ্ধতির জন্য কেন বাদ যাবে? যারা ন্যায্য ভোটার তাদের দোষ কোথায়! বিরোধীরা মনে করছে এই অবৈধ ভোটার যদি না থাকে তা হলে নাকি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু সত্যি কি তাই? কখনওই নয়। আমাদের তো মনে হয় বিরোধীরা এইভাবে নিজেদের একটি ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর অভিনব কৌশল অবলম্বন করতে চাইছে। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এত বোকা নয়। মানুষ ভোটদান করে কাজ দেখে, উন্নয়ন দেখে, কাজের গতি দেখে। ঠিক পাশাপাশি আবার মানুষের জন্য কারা আছে সেই আবেগও দেখে (SIR)।
আমরা দেখেছি, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ভোট আসলেই যতরকম কৌশল অবলম্বন করা যায় তারা সবটাই করে থাকে। কিন্তু আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভেতরের রহস্যটা অনুসন্ধান করতে পারেন খুব সহজেই। উনি এর সুলুকসন্ধানে চলে যান। সাম্প্রতিক বিষয় এসআইআর-এর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন রোল অবজারভার, মাইক্রো অবজারভারদের কারসাজি। উনি জানতে পেরেছেন এই এসআইআর কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। কোন লোভে বা কিসের আশায় তারা এভাবে অবৈধ ভোটার খোঁজার চেষ্টা করছেন বা কেন করছেন? অনেক ক্ষেত্রে কিছু করার থাকছে না বিএল এবং এইআরও-দের। কারণ মাইক্রো অবজারভার, রোল অবজারভার এমনভাবে এই কাজটিকে করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, এই হিয়ারিংয়ে বা অত্যাধিক কাজের চাপে কত লোকের মৃত্যু ঘটেছে। এর সঙ্গে আতঙ্ক, আশঙ্কা তো রয়েছেই। কিন্তু আপনি বলুন তো এই মৃত্যুর দায় কে নেবে? নাকি কেন্দ্রীয় সরকার পারবে এই মৃত্যুর দায় এড়াতে? না, পারবে না। কোনও মতেই পারবে না।
কত কত বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লড়ছেন বলুন তো! তা সে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি হোক বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ স্বীকৃতি দেওয়ায় দাবি, কিংবা মাইক্রো অবজারভার বা রোল অবজারভারদের ভূমিকা নিয়েই হোক কিম্বা মানুষের হয়রানি, আশঙ্কা, মানুষের ভোগান্তি নিয়েই হোক– লড়াই তো চলছে। যার সবটা সেই মানুষের জন্যে। আর সবটা যখন এআই নির্ভর করে চলে তখন সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। এআই কিভাবে বুঝবে যে চ্যাটার্জি ও চট্টোপাধ্যায় এক— সেটা এআই কীভাবে বুঝবে? ছোটখাটো টেকনোলজিক্যাল সমস্যার জন্য মানুষের হয়রানির কোন সীমা নেই। জনগণ তা মানবে কেন! নির্বাচন কমিশনের এই ভ্রান্তিগুলিকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আনতে পেরেছে যা অন্যান্য রাজ্য তেমনভাবে পারেনি। তাই সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর বেশিরভাগ বক্তব্য বিষয়কেই মান্যতা দিয়েছে (SIR)।
আমরা দেখেছি সুপ্রিম কোর্টকে বোঝানোর ওপরে যে রায় সংঘটিত হয়েছে তা মানুষের পক্ষে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্নাতীত ভাবে যাদের উপর বিশ্বাস রেখেছে তাদের উপর বাকি দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তা সে জুডিশিয়াল ক্ষেত্র, অবসরপ্রাপ্ত জাজ, পুলিশ সুপার কিম্বা আস্থাভাজন প্রশাসন হোক না কেন এবার থেকে তাদের উপরেই বাকি এসআইআর-এর সমাপ্তি কার্যের দায়িত্ব। এতে নির্বাচন কমিশন যে জোর ধাক্কা খেল। সেখানেও বিরোধীরা বিশেষত পদ্ম শিবির উল্লাসে উচ্ছসিত। উচ্ছ্বাসের কারণ, তারা ধরে নিয়েছে ছাব্বিশেই তারা আসছেই। বলবার কথা এই যে, আশা ভাল কিন্তু উচ্চাশা মারাত্বক ক্ষতিকারক। আমার এর আগেই ‘আবকি বার দুশো পার’ শুনেছি। এবারও ‘পাল্টানো দরকার তৃণমূল সরকার’ শুনছি। আরও অনেক কিছু শোনা যাবে হয়তো। শেষপর্যন্ত কী হবে, সময় বলবে (SIR)।