চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু একটিমাত্র দলের পরাজয় হিসেবে নয়, বরং একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারার বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কারণ ওই নির্বাচনে বামফ্রন্ট— বিশেষত সিপিএম শুধু ক্ষমতা হারানোর ক্ষত বয়ে বেড়ায়নি, তারা কার্যত প্রমাণ করে দিয়েছিল যে রাজ্যের মাটিতে তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি ‘শূন্যে’ পৌঁছে গেছে। ভোট শতাংশ কমে যাওয়া, জনভিত্তি ক্ষয়ে যাওয়া কিংবা রাজনৈতিক ভাষ্য হারিয়ে ফেলা— এসব একেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে, কিন্তু বাস্তব সত্য হল; ২০২১-এ সিপিএমের আসন সংখ্যা শূন্য ছিল, এবং সেই শূন্যতা ছিল প্রতীকী নয়, বাস্তব রাজনৈতিক বাস্তবতা। আজ ২০২৬-এর নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বাম নেতৃত্ব আবার স্বপ্ন দেখাতে চাইছে— ‘ফিরব আমরা’, ‘পুনর্গঠন হচ্ছে’, ‘মাটি শক্ত হচ্ছে’। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এই স্বপ্ন কি বাস্তবসম্মত? নাকি বামেদের ঘরের ভিতরকার আড়াআড়ি বিভাজন, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে টানাপোড়েন, এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশের দ্বন্দ্ব আবারও তাদের শূন্যের গেরোতেই আটকে রাখবে?
বামফ্রন্টের বর্তমান সঙ্কটের প্রধান বৈশিষ্ট্য একটাই— এটি কেবল নির্বাচনী দুর্বলতা নয়, এটি আত্মপরিচয়ের সঙ্কট। বাম রাজনীতির ঐতিহ্য ছিল একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, ক্যাডারভিত্তিক শৃঙ্খলা এবং শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের মধ্যে এক ধরনের নির্ভরযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা। কিন্তু ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে দলটি যেভাবে ক্রমশ ক্ষয়ে গেছে, তাতে সংগঠনের ভিত নড়ে গেছে। পঞ্চায়েত স্তর থেকে জেলা স্তর— অনেক এলাকায় দলীয় অফিস বন্ধ, কর্মী নিস্তেজ, নেতৃত্ব বার্ধক্যগ্রস্ত, নতুন প্রজন্ম দলমুখী নয়। ফলে ২০২১-এর শূন্য আসন কোনও ‘দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা’ নয়; সেটি ছিল দীর্ঘ পতনের স্বাভাবিক পরিণতি। তবে রাজনীতিতে শূন্য মানেই শেষ নয়— এ কথা সত্য। বহু দলই ইতিহাসে একসময় শূন্য থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু উঠে আসতে হলে প্রথম শর্ত— সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা, দ্বিতীয় শর্ত— রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করা, এবং তৃতীয় শর্ত— জনতার সঙ্গে সংযোগ পুনর্নির্মাণ করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০২৬-এর আগে বামেদের সামনে এই তিনটি ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের নিজেদের আড়াআড়ি বিভাজন।
এই বিভাজন শুধু সিপিএমের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির মধ্যেও বহু জায়গায় এক ধরনের অনাস্থা, অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। একদিকে জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই— এই দ্বন্দ্বে বামফ্রন্ট আজ প্রায় দিশাহারা। প্রশ্ন হল— যে জোট নিজের ভেতরে ঐক্য রাখতে পারে না, সে জোট কীভাবে রাজ্যের মানুষের কাছে বিকল্প সরকার বা বিকল্প রাজনৈতিক পথের প্রতিশ্রুতি দেবে? বামেদের এই সঙ্কটকে বুঝতে গেলে কয়েকটি জেলার বাস্তব সাংগঠনিক পরিস্থিতির দিকে তাকানো জরুরি। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় বামফ্রন্ট কার্যত প্রান্তিক। সেখানে জাতিগত ও আঞ্চলিক রাজনীতি এতটাই শক্তিশালী যে বামেদের পুরনো শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতি আজ কেবল ইতিহাস। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার— এই জেলাগুলিতে বিজেপি একসময় শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিল, যদিও পরে তাদেরও ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই ভাঙনের সুযোগ বামেরা নিতে পারেনি। কারণ বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের দ্বন্দ্বের মাঝখানে বামফ্রন্ট নিজেকে এমন কোনও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, যাকে মানুষ বিশ্বাস করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই বাম ভোট তৃণমূলে স্থানান্তরিত হয়েছে ‘বিজেপি ঠেকাতে’, আবার অনেক ক্ষেত্রেই বাম ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে ‘প্রতিবাদী ভোট’ হিসেবে। এই ভোট স্থানান্তর বামেদের দুর্বলতারই প্রমাণ।
দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল। বামেদের একসময়ের শক্ত ঘাঁটি ছিল হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের বড় অংশ। কিন্তু এই এলাকাগুলিতে বাম সংগঠন ভেঙেছে দু’ভাবে— একদিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক আগ্রাসনে, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ায়। হুগলির শিল্পাঞ্চল, হাওড়ার শ্রমিক মহল্লা— যেখানে একসময় সিপিএমের মিছিল ছিল প্রতিদিনের দৃশ্য— আজ সেখানে সংগঠনের উপস্থিতি কাগজে আছে, মাটিতে নেই। উত্তর ২৪ পরগনার বহু ব্লকে বাম সমর্থক পরিবারগুলি এখনও আছে, কিন্তু তারা রাজনীতির মাঠে সক্রিয় নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা দেখেছে— দল হারছে, নেতৃত্বের দিকনির্দেশ দুর্বল, এবং সংগঠন আর তাদের নিরাপত্তা বা সম্মান নিশ্চিত করতে পারছে না। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম— এই জঙ্গলমহল অঞ্চলে বামেদের কিছুটা উপস্থিতি এখনও আছে, কারণ সেখানে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। কিন্তু সেই অঞ্চলে বিজেপি একসময় যে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা বামেদের রাজনৈতিক ভাষ্যকে আরও কোণঠাসা করেছে। বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণ ও তৃণমূলের প্রশাসনিক ক্ষমতার মাঝখানে বামফ্রন্টের রাজনৈতিক বক্তব্য যেন বহু সময়েই অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। মানুষ জানতে চায়— বামরা ক্ষমতায় এলে কী করবে? আর বামরা যখন কেবল অতীতের গৌরবের কথা বলে, তখন বর্তমানের ক্ষুধার্ত মানুষের প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারে না।
২০২৬-এর আগে বামেদের সামনে যে বড় প্রশ্নটি রয়েছে, সেটি হল— তারা কি তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথের বাইরে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে একটি বিষয়ের উপর— জোটের ভেতরের ঐক্য এবং রাজনৈতিক কৌশলের স্বচ্ছতা। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ে। সিপিএমের নেতৃত্ব কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায়, আবার কখনও সেই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে। আবার শরিক দলগুলির কেউ কেউ মনে করে, কংগ্রেসের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বামেদের আদর্শিক পরিচয়কে ক্ষুণ্ণ করে। এই মতান্তর কেবল তত্ত্বের লড়াই নয়— এটি মাঠের বাস্তব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গটি বামেদের জন্য এক ধরনের দ্বিমুখী তলোয়ার। একদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলে কিছু আসনে ভোটের অঙ্ক বাড়তে পারে, বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ভোটের মানসিকতা প্রবল। অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট মানে বামেদের আদর্শগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলা। কারণ বহু মানুষের মনে এখনও রয়েছে— কংগ্রেসও সেই ‘পুরনো শাসক শ্রেণির’ অংশ, যাদের বিরুদ্ধে বামরা দীর্ঘদিন লড়াই করেছে। ফলে কংগ্রেসকে সঙ্গী করে বামেদের নতুন করে জনবিশ্বাস অর্জন কঠিন। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই বামফ্রন্ট প্রায়ই একটি অস্পষ্ট বার্তা দেয়, যা ভোটারকে বিভ্রান্ত করে।
আরও বড় সমস্যা হল— বামেদের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব সঙ্কট। রাজনীতিতে কেবল আদর্শ থাকলেই চলে না, দরকার শক্তিশালী নেতৃত্ব, যিনি কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবেন, জনতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবেন এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাষা ও কৌশল বদলাবেন। বাম নেতৃত্ব এখনও অনেকাংশে পুরনো প্রজন্মের হাতে। নতুন মুখ তৈরি করার চেষ্টা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অনুৎসাহ দেখা যায়। জেলার স্তরে অনেক জায়গায় নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। কোথাও পুরনো নেতারা নতুনদের উঠতে দেন না, কোথাও নতুনরা পুরনোদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই আড়াআড়ি বিভাজন সংগঠনকে শক্তিশালী করার বদলে আরও দুর্বল করে দেয়। এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা আছে— বামেদের ‘ক্যাডার’ রাজনীতি। একসময় এই ক্যাডার ব্যবস্থাই ছিল দলের শক্তি। কিন্তু আজ সেই ক্যাডার ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত। বহু পুরনো কর্মী তৃণমূলে চলে গিয়েছেন, কেউ বিজেপিতে গিয়েছেন, কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের কর্মী তৈরি করার প্রক্রিয়া ধীর। এর কারণ সমাজের পরিবর্তনও। আজকের যুবসমাজ আদর্শে যতটা আগ্রহী, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী চাকরি, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্থিতিতে। বামফ্রন্ট যদি যুবসমাজের কাছে বাস্তব কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে না পারে, তা হলে তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হবে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ২০২৬-এর নির্বাচনে বামেদের কি আদৌ কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে? বাস্তবসম্মত উত্তর হল— কিছুটা ভোট শতাংশ বাড়তে পারে, কিছু আসনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে, কিন্তু বড় ধরনের সাফল্য অর্জন কঠিন। কারণ নির্বাচনে আসন জেতার জন্য শুধু ভোট শতাংশ নয়, দরকার নির্বাচনী মেশিনারি, বুথভিত্তিক শক্ত সংগঠন, এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা। বামেদের শূন্যের গেরো কাটার জন্য কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। প্রথমত, দলকে স্পষ্টভাবে ঠিক করতে হবে— তারা কার বিরুদ্ধে লড়ছে এবং কার জন্য লড়ছে। শুধুমাত্র ‘বিজেপি-তৃণমূল দুইই খারাপ’ বললে মানুষ বিকল্প খুঁজে পায় না। দ্বিতীয়ত, বামেদের উচিত একটি আধুনিক রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করা— যেখানে চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সঙ্কট, নারী নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার— সবই থাকবে। তৃতীয়ত, নেতৃত্বকে নতুন করে সাজাতে হবে এবং যুব নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। চতুর্থত, জোট রাজনীতি নিয়ে দ্বিধা দূর করতে হবে— কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক হবে কি হবে না, তা নিয়ে বারবার দোলাচল ভোটারকে বিভ্রান্ত করে। এবং পঞ্চমত, বামেদের নিজেদের ভিতরের বিভাজন কাটিয়ে একক রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হল— এই পরিবর্তন কি বাস্তবে সম্ভব? বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, কাজটা অত্যন্ত কঠিন। কারণ বামেদের সঙ্কট শুধুই রাজনৈতিক নয়, এটি সাংগঠনিক এবং মানসিক সঙ্কটও। একটি দল যখন দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তার কর্মীদের মধ্যে হতাশা জন্মায়। আর সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যে দল একসময় শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত ছিল, সেই দল আজ নানা স্তরে মতান্তরে বিভক্ত। এই বিভাজন কাটাতে না পারলে ২০২৬-এর নির্বাচনেও বামেদের ফলাফল খুব বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে শূন্যের গেরো একেবারে চিরস্থায়ী হবে— এমন সিদ্ধান্তও এখনই টেনে দেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি অত্যন্ত গতিশীল। নানা কারণে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনই বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরক্তিও তৈরি হচ্ছে। এই দুইয়ের মাঝখানে বামেদের কাছে সুযোগ আছে— যদি তারা সত্যিই জনতার ভাষায় কথা বলে, মাঠে আন্দোলন গড়ে তোলে এবং নিজেদের বিভাজন দূর করে।
শিরোনামের প্রশ্নটি আবারও ফিরে আসে— বামেদের আড়াআড়ি বিভাজনে শূন্যের গেরো কাটবে কি? বাস্তববাদী বিশ্লেষণ বলছে— শূন্যের গেরো কাটতে হলে আগে নিজেদের ভেতরের শূন্যতা কাটাতে হবে। সংগঠন, নেতৃত্ব, রাজনৈতিক ভাষা এবং ঐক্য— এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই কোনও রাজনৈতিক পুনরুত্থান সম্ভব। যদি বামেরা সেই চারটি স্তম্ভ পুনর্গঠন করতে পারে, তবে শূন্য ভাঙার সম্ভাবনা থাকবে। আর যদি না পারে, তা হলে ২০২৬-এও তারা হয়তো আবারও প্রমাণ করবে— শূন্য কেবল সংখ্যা নয়, কখনও কখনও তা রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা।