ad
ad

Breaking News

নারীদের স্বাধীনতায় প্রশ্নচিহ্ন! বিজেপি নেতার এমন কথা মধ্যযুগীয় ভাবনার ফসল

আসলে মহিলাদের ভোট যে বিজেপি পাবে না, তা বুঝে গিয়েছেন দলের নেতারা।

lakshmi-bhandar-controversy

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: প্রথমে সমালোচনা। এখন অনুকরণ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন অন্য নানা নামে বিঝেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে চালু করা হয়েছে। সেই সব রাজ্য এখন মমতাকে অনুকরণ করার পর বিজেপি নেতারা এখন আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনও কথা বলেন না। রাজ্যের মহিলাদের সহায় হয়ে উঠেছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের ঘরে ‘বন্দি’ করে রাখার নিদান দিলেন এক বিজেপি নেতা। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বিজেপি নেতা, যিনি আবার বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য, সেই কালীপদ সেনগুপ্ত প্রকাশ সভায় বলেছেন, ‘এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছেন মা-বোনেরা। এই মহিলারাই তো জোড়াফুলকে ভোট দেবেন। আমি তাঁদের স্বামীদের বলছি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের ঘরে বন্দি করে রাখুন। ভোট দিতে বেরিয়ে তাঁদের জোড়াফুলে ভোট দেওয়া চলবে না। পদ্মেই ভোট দিতে হবে।’

যে প্রকল্প রাজ্যের মহিলাদের অনেকটাই অর্থনৈতিক নির্ভরতা দিয়েছে, সেই প্রকল্পকে সামনে রেখে মহিলাদের সম্পর্কে এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য করলেন কী করে ওই বিজেপি নেতা। যারা মুখে ‘নারী শক্তি’র কথা বলে, তারাই আজ মা-বোনেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে এ কেমন কথা বলছেন? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীশক্তির ক্ষমতায়ন করতে চাইছেন, সেখানে বিজেপি এখন নারীদের ঘরবন্দি করার জঘন্য নিদান দিচ্ছে। এটাকে মধ্যযুগীয় ভাবনা ছাড়া আর কী বলে যায়? সেই সময় মহিলাদের ঘরের অন্দরে আটকে রাখা হতো। তাঁদের কোনও স্বাধীনতা ছিল না। আজ আবার সেই দিন ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন বিজেপি নেতা।

আসলে মহিলাদের ভোট যে বিজেপি পাবে না, তা বুঝে গিয়েছেন দলের নেতারা। তাই তাদের ঘরে বন্দি করে রাখার কথা বলতে হচ্ছে। বাংলার এই বিজেপি নেতা লক্ষ্মীর ভান্দার পাওয়া মহিলাদের সম্পর্কে এমন কথা যখন বলছেন, তখন তাঁর দলের শাসনে থাকা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কেন মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করছেন। সেই সব রাজ্যের মহিলাদেরও কি উনি ঘরে বন্দি করে রাখার কথা বলবেন?