চিত্র: সংগৃহীত
জয়ন্ত চক্রবর্তী: ভালেনটাইন্স ডে অথবা আন্তর্জাতিক ভালবাসা দিবসের পরদিন কলম্বোয় টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে কাল মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপের এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি নিছক একটি ক্রিকেট ম্যাচই শুধু নয়। তার থেকেও বেশি কিছু। একটি ক্রিকেট যুদ্ধে আবদ্ধ থাকবে না এই ম্যাচ। ভারত-পাকিস্তান, এই দু দেশ এর মধ্যে দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে যে ঘৃণা ও বিশ্বাসহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তার একটি মিনি সংস্করণ দেখতে পাওয়া যাবে মাঠে। যতই আন্তর্জাতিক প্রেম দিবসের পরদিন ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হোক না কেন— মাঠের মধ্যে দু’দলের খেলোয়াড়রা প্রেমে উদ্বেল হয়ে উঠবেন এমন ভাবার কারণ নেই। ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছে তা বোঝার জন্য আলাদা মস্তিষ্কের দরকার হয় না। পহেলগামে ভারতের নিরীহ পর্যটকদের ওপর পাক জঙ্গিদের মারণ উৎসব এবং তার ফলো আপ অ্যাকশন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর থেকেও খারাপ (India vs Pakistan)।
এবার পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে চায়নি বাংলাদেশের সঙ্গে সহমর্মিতা দেখিয়ে। বাংলাদেশ ভারতে এসে খেলতে অস্বীকৃত হয় তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে (পড়ুন, ভারত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে)। কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশে হিন্দু নিধন যজ্ঞের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাতিল করে দেয় আইপিএল থেকে। ভারতীয় বোর্ড-এর অনুমোদনও তারা পায়। বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের অপমান বলে ধরে নেয় এবং ভারতে এসে খেলতে অস্বীকৃত হয়। তাদের বায়না ছিল যে বাংলা দেশের সব ম্যাচ কলম্বোয় করতে হবে। বাংলাদেশের এই অনৈতিক দাবি মেনে নেয়নি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সংগঠক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল এবং তারা বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানায় (India vs Pakistan)।
পাকিস্তান তাদের নতুন বন্ধু বাংলাদেশকে বাতিল করার খবরে এতোই বিচলিত হয় যে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচটিতে মাঠে নামবে না। আইসিসি এরপরই নড়েচড়ে বসে। পাকিস্তানকে তারা হুমকি দেয়— দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেমন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল তাদের বর্ণবৈষ্যমের নীতির জন্য। এছাড়াও আইসিসি যে অনুদান দেয় ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলিকে তা দেওয়া হবে না পাকিস্তানকে এবং পিসিবি-র কোনও টুর্নামেন্টে আইসিসি অনুমোদিত কোনও দেশের খেলোয়াড় খেলতে পারবে না— এই কঠোর সিদ্ধান্ত যে আইসিসি নিতে পারে তা ঠারেঠোরে জানিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানকে। পাশাপাশি ব্যাকডোর ডিপ্লোমেসিও চলতে থাকে।
রবিবার পাকিস্তানে একটি বৈঠকে ঠিক হয় যে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে পনেরো তারিখের ম্যাচে খেলবে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। এই বৈঠকেই ঠিক হয় যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার জন্য কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং আইসিসি ২০২৮-২০৩১ সালের মধ্যে একটি টুর্নামেন্ট করবে বাংলাদেশে। মনে রাখতে হবে, পাকিস্তান যখন ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তখনও বাংলাদেশে ভোট হয়নি। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জামাতে ইসলামিও ভোটে পরাজিত হয়নি। পাকিস্তান যে রবিবার বাংলাদেশের ভোটের প্রেক্ষিতে খ্যাপা ষাঁড়ের মতো মাঠে নামবে তা বলাই বাহুল্য। এশিয়া কাপে আমরা দেখেছি যে, পাকিস্তাম অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে টসের পর হাত মেলামনি ভারত অধিনায়ক সূর্যকূমার যাদব। শুধু তাই নয়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ওই ম্যাচ জেতার পর সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবে হাত মেলাননি পাকিস্তান ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এবং ম্যাচের শেষে তাঁরা হাত মেলাননি।
সূর্যকুমার যাদব খেলার শেষে জানান যে ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁও-তে পাক আক্রমণের প্রতিবাদেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। এখানেই শেষ নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ম্যাচ এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় পাক খেলোয়াড়দের প্রতিবাদে। ওই ম্যাচের রেফারি অ্যান্ড্রু পাইক্রফট ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের রেফারি ছিলেন। তিনি কেন বাধ্য করেননি ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাস্টমারি হাত মেলাতে এই নিয়ে পাক খেলোয়াড়রা প্রতিবাদে শামিল হন। ম্যাচ দেরিতে শুরু হয়। এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে পাক ও ভারতীয় খেলোয়াড়রা বিতর্কিত বাক্য বিনিময় করেন। উঠে আসে পহেলগাঁও-এর কথা। ২৮সেপ্টেম্বর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আবার নতুন বিতর্ক শুরু করেন পাক বোর্ড কর্তা মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃত হওয়ায়। এই বাতাবরণে কাল ফের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। সেই সূর্যকুমার যাদব এবং সালমন আগা। বাতাসে বারুদের গন্ধ। যুদ্ধ আসন্ন (India vs Pakistan)।