চিত্র: সংগৃহীত
রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এবারের প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দু’জন বিশিষ্ট নেতা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি, আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, উরসুলা ভন ডার লিয়েন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ঘোড়াগাড়িতে এঁদের নিয়ে আসেন কুচকাওয়াজে। উল্লেখযোগ্যভাবে, উরসুলা ভন ডার লিয়েনের পরিধানের বেনারসি সিল্কের উঁচু কলার জ্যাকেট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিশেষ সামরিক দল এই পদযাত্রায় অংশ নেয় (India-EU)।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর পতাকা ছাড়াও এরা ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইইউ নৌবাহিনী আতালান্টা ও অ্যাস্পাইডসের পতাকা নিয়েও মার্চ করে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক কতটা গভীর হতে চলেছে তার যথেষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
পরের দিন, অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে। আঠারো বছর ধরে তৈরি হওয়া এই চুক্তিটিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ হিসাবে প্রশংসিত করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশকে বিশ্বের বৃহত্তম সমন্বিত বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হোল। এই অঞ্চলের আর্থিক গুরুত্ব কম নয়। বিশ্বের সামগ্রিক আয়ের ২৫ শতাংশ প্রস্তুত হয় ভারত আর ইউরোপের এই দেশগুলিতে (India-EU)।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিদেশি অতিথি
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ভূ-রাজনৈতিক ভাবনা চিন্তায় বিদেশ মন্ত্রক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কাকে ডাকা হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৫০ সালে প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ প্রথম প্রধান অতিথি ছিলেন। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রিত হলেও কেবল বারাক ওবামা এসেছিলেন ২০১৫ সালে।
১৯৫৮ সালের কুচকাওয়াজে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রতিষ্ঠাতা, মার্শাল ইয়ে জিয়ানইং প্রধান অতিথি ছিলেন। ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে চারজন রাশিয়ান/সোভিয়েত নেতা প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ছিলেন। পাকিস্তান থেকে এসেছিলেন গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মুহাম্মদ (১৯৫৫) এবং খাদ্যমন্ত্রী রানা আবদুল হামিদ ১৯৬৫ সালে, যুদ্ধের আগের বছরে। ভুটানের রাজা চার বার আর নেপালের রাজা এসেছেন দু’বার। ২০১৮ সালে, আসিয়ান দেশগুলির দশ জন নেতা সম্মানিত অতিথি ছিলেন। ২০২৬ সালে এলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা। দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত এবং ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের কারণে ফ্রান্স এবং ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যকে সবচেয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মোট ১১ বার (India-EU)।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন
২৭টি ইউরোপীয় দেশ নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি অনন্য অতিজাতীয় সংস্থা। এটি একটি ‘সুই জেনেরিস’ সত্তা, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলি সম্মিলিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য তাদের সার্বভৌমত্বকে একত্রিত করে। ইউরোপীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই ইইউ-এর কাজ। ২৭টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান (রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিল শীর্ষ স্তরের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে প্রথমে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও তারপর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে জিতে আসতে হয়।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা ঠিক হয় কাউন্সিলের সংখ্যাধিক্যের ভোটে। দায়িত্বে থাকাকালীন অন্য কোনও দেশের প্রধান এই পদ পান না। ইউরোপীয় কাউন্সিলের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও কস্তা প্রায় এক দশক পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইউরোপীয় কমিশনের রাষ্ট্রপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন জার্মানির মধ্য-ডানপন্থী ইউরোপীয় পিপলস পার্টির (ইপিপি) সদস্য, ফেডারেল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। উরসুলা ইউরোপীয় কমিশনের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি, পরপর দু’বার নির্বাচিত (India-EU)।
ভারতের কাছে ইউরোপীয় কমিশনের গুরুত্ব
ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ‘স্নায়ু কেন্দ্র’। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বা ওলাফ স্কোলজের মতো নামী নেতারা ভারত সফরে আসলেও, তাদের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করে দেয় ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপের বাজারের একক নিয়ন্ত্রণ কর্তা, ফলে ২৭টি বিভিন্ন নিয়মের পরিবর্তে একটি নিয়েমের অধীনে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক সহজ। সারা ভারতে ছয় হাজারের বেশি ইউরোপীয় সংস্থা আছে। তাদের উত্পাদন কেন্দ্র, গবেষণা ও সম্প্রসারণের তদারকি করে ইউরোপীয় কমিশন।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই চিনের উপর তাদের অর্থনৈতিক নির্ভরতা হ্রাস করার চেষ্টা করছে। কমিশনের ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগটি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোডের প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর-এর মতো প্রকল্পগুলিতে অর্থায়নে সহায়তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ট্রামপের খামখেয়ালিপনায় ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য এক তীব্র অনিশ্চয়তায়। ২০২৩-২৪ সালে ভারত আমেরিকায় রফতানি করেছিল ৭৭,৫১৫ মিলিয়ন ডলারের, সেটা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬,৫১৪ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কে এই বাজারের অনেকটাই হারিয়ে যাওয়ার পথে।
এই সময়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি, আর কিছু না হোক, একটা স্থিতিশীল নিয়ম-ভিত্তিক বাজার দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম জাতীয় অর্থনীতি ঠিক কথা, তবে ইইউ একটি সম্মিলিত শক্তি যারা নানান ভাবে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩৪ কোটি, ইউরোপের ৪৫ কোটি। আমেরিকার জাতীয় আয় ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার, আর ইউরোপের ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোপের মাথাপিছু আয় ৬৬,৮০০ ডলার, মার্কিন মাথাপিছু আয় ৮৬,৬০০ ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভোক্তা প্রকৃতি উচ্চ-ব্যয়, প্রযুক্তি-প্রারম্ভিক গ্রহণকারী, আর গুণমান-সচেতন, স্থায়িত্ব-কেন্দ্রিক ভোক্তা প্রকৃতি ইউরোপের। ভারত মার্কিন বিকল্প পেয়ে গেল (India-EU)।
ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্রাম্প ২.০’ যুগ নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অনিয়মিত শুল্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এক সংজ্ঞাহীন অনিশ্চয়তার পথে। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কাছাকাছি দেশগুলি চাইছে নতুন আর্থিক জোটের সন্ধানে। একে বলা হয়ছে ‘বন্ধু-শোরিং’। রাজনৈতিকভাবে যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ সেখানে উত্পাদন স্থানান্তরিত করাই এখন গুরু দায়িত্ব। এই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি, ২০২৬।
চুক্তিটি একটি ক্রমাঙ্কিত পদ্ধতি ব্যবহার করে, উচ্চ-প্রবৃদ্ধির শিল্পগুলিকে আন্তর্জাতিক খোলা বাজারে রেখেছে। সংবেদনশীল শিল্পগুলি আছে শুল্ক সুরক্ষার আওতায়। ভারতের শ্রম-নিবিড় শিল্প যেমন বস্ত্র, চামড়া, পোশাক এবং রত্ন ও গহনা ইউরোপীয় বাজারে জিরো ডিউটিতে প্রবেশ করতে পারবে। আগে শুল্কের হার ছিল দশ থেকে ষোল শতাংশ। তাতে ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় রফতানিকারকরা বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেনি। এবার থেকে ভারতীয় আইটি পেশাদার এবং অন্যান্য স্বাধীন পরামর্শদাতারা অতি সহজেই ইউরোপে কাজের অনুমতি পাবেন। উভয় পক্ষই বাণিজ্য চুক্তিকে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি থেকে আলাদা করেছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ব্যবসা সহজতর করছে। বিনিয়োগের আইনি ‘সুরক্ষা’ এবং বিতর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে পরিচালিত হবে।
ভারত অটোমোবাইলের ওপর শুল্ক কমিয়ে আনছে
পাঁচ বছরে ১১০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসবে। ইউরোপীয় ওয়াইন বা স্পিরিটের ক্ষেত্রে শুল্ক কমবে ১৫০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের জন্য উচ্চমানের যন্ত্রপাতি, বিমানের যন্ত্রাংশ এবং রাসায়নিক পদার্থ খুব সহজেই ইইউ থেকে ভারতে আসবে (India-EU)।
চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে ২০২৬ সালের শেষের দিকে। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে, ২,৪০০ পৃষ্ঠার চুক্তির ড্রাফট আইনির ধারাবাহিকতা পরীক্ষা হবে। ইইউ নিয়ম অনুসারে সমস্ত সরকারি ইইউ ভাষায় অনুবাদ আবশ্যক। ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে সম্পূর্ণ প্রবেশ কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার আগে ভারতীয় টেক্সটাইল এবং চামড়ার ওপর সাময়িক পরীক্ষামূলক প্রয়োগে শুল্ক শূন্যে নেমে যেতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হওয়ার জন্য, এটি অবশ্যই ভারতীয় মন্ত্রিসভা, ইউরোপীয় সংসদ এবং সমস্ত ২৭ ইইউ সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।
সমাপ্তি মন্তব্য
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির চাপে ভারতের অর্থনীতি অনেকটাই দিশাহারা হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ৪-৫ ডিসেম্বর ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দু’দেশের মধ্যে ‘বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’কে আরও দৃঢ় করেছে। রাশিয়া ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রন এবং ২০২৭ এর শুরুতে পঞ্চম স্কোয়াড্রন সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো সত্ত্বেও পুতিন ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চালানের’ ব্যক্তিগত আশ্বাস দিয়েছেন। নির্দিষ্ট ছাড়ের সংখ্যাগুলি গোপন রাখা হলেও, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ যে স্থিতিশীল থাকবে তার আশ্বাস এসেছে।
ছয়টি অতিরিক্ত পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির লক্ষ্যের জন্য ‘স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টরস’ নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ দেখা গেছে। ভারসাম্যহীনতা ভারত রাশিয়া বাণিজ্যের মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে তবে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি করে। আমাদের থেকে রাশিয়ার কেনার কিছু নেই। নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণরূপে শুরু হওয়ার আগে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ৭৫.৮ বিলিয়ন ডলারের জিনিস বেছেছে। ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রফতানি ৬০.৭ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ভারতীয় জিনিস পছন্দ করে। শুল্ক ছাড়ে ব্যবসা বাড়বে সন্দেহ নেই। ট্রাম্প শুল্কে ভারতের আমেরিকার বাজার নষ্ট হলেও, ইউরোপ প্রস্তুত। ট্রাম্প কি এবার ভারতের সঙ্গে সংঘাতের কৌশল ছাড়বেন, সেটাই দেখার (India-EU)।