চিত্র: সংগৃহীত
ডঃ রামকৃষ্ণ সেন (ভূগোল বিষয়ের সহকারী শিক্ষক এবং সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর ফেলো মেম্বার): দুর্গাপুজোর পর প্রতিবছরের মতো এবছরও নদী, পুকুর বা অন্যান্য জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। কিন্তু এবছর একটা নতুন আতঙ্ক হল ব্রেন খাদক অ্যামিবা। এটি কী কোনওভাবে প্রতিমা বিসর্জনের পর জলদূষণের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে? কীভাবে এর সংক্রমণ ও প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে? কীভাবে আমরা সতর্ক হতে পারি? এ প্রসঙ্গে আজকের আলোচনা (Hidden Risk)।
জীব জগতে কিছু অণুজীব আছে, যারা মানুষের দেহে প্রবেশ করলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো Naegleria fowleri, যা সাধারণভাবে ‘ব্রেন খাদক অ্যামিবা’ নামে পরিচিত। এটি প্রধানত উষ্ণ মিষ্টি জলে বাস করে এবং মানুষের মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM) নামক রোগ সৃষ্টি করে। এ রোগের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি (প্রায় শতাংশের বেশি)। আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের অগ্রগতিতেও এখনও এর কার্যকর প্রতিষেধক নেই। তাই গবেষকরা এর বিস্তার, গঠন, কার্যপদ্ধতি এবং প্রতিরোধ নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে চলেছেন।
ব্রেন খাদক অ্যামিবা বা Naegleria fowleri হল একধরনের মুক্তজীবী অণুজীব, যাকে বলা হয় ‘ফ্রি-লিভিং অ্যামিবা’। এটি মূলত উষ্ণ ও অপরিষ্কার জলাশয়ে জন্মায় এবং মানুষের জন্য মারাত্মক প্রাণঘাতী সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। প্রথমবার এই অণুজীবটি ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ২৫০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় এর দ্রুত বংশবিস্তার ঘটায়। Naegleria fowleri মূলত উষ্ণ মিষ্টি জলাশয়ে যেমন নদী, পুকুর, উষ্ণ প্রস্রবণ, ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্ক ইত্যাদিতে পাওয়া যায় (Hidden Risk)।
এর সংক্রমণের পথ বিশেষভাবে নাকের মাধ্যমে। মানুষ যখন এই জীবাণুযুক্ত জলে সাঁতার কাটে, ডুব দেয় বা ধর্মীয় কারণে স্নান করে, তখন অ্যামিবা নাক দিয়ে প্রবেশ করে। এরপর এটি ঘ্রাণ স্নায়ুর (olfactory nerve) মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছয়। এবং Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM) নামের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। পানীয় জল খেলে সংক্রমণ ঘটে না, কেবল নাক দিয়ে জলে প্রবেশ করলেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
Naegleria fowleri সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে এই সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ভারতে গত দুই দশকে PAM-এর একাধিক কেস শনাক্ত হয়েছে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যখন জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হয়। ২০২৩ সালে কেরলের আলাম্বুঝায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী PAM-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায় (Hidden Risk)।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে মালাম্বুরম জেলায় ১২ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে কেরলে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে Naegleria fowleri সংক্রমণে। জুন ২০২৪- এ আমেদাবাদের একটি হাসপাতালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর PAM-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর জানায়, জলের ট্যাঙ্ক ও পুকুর থেকে নমুনা নিয়ে Naegleria fowleri শনাক্ত করা হয়েছে।
উষ্ণ জলবায়ুর কারণে কিছু রাজ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ২০১৭ সালে রাজস্থানে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। মন্দির সংলগ্ন পুকুরে ধর্মীয় স্নান প্রথার কারণে সংক্রমণের সম্ভাবনা বিদ্যমান। ২০১৯ সালে চেন্নাই অঞ্চলে একজন যুবক আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ভারতের কেরল, গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে সাম্প্রতিক সংক্রমণগুলো প্রমাণ করে যে উষ্ণ ও অপরিষ্কৃত জল ব্যবহারের ফলে ঝুঁকি বাড়ছে।
PAM-এর মৃত্যুহার প্রায় ৯৫ শতাংশ, তাই জনসচেতনতা ও জলব্যবস্থার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণই এই প্রাণঘাতী সংক্রমণ রোধের একমাত্র কার্যকর উপায়। এ থেকে বোঝা যায় যে উষ্ণ জলাশয়, দূষিত নলকূপ বা অপরিষ্কার পাইপলাইনের সঙ্গে এর বিস্তারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ব্রেন খাদক অ্যামিবার বিস্তার প্রধানত নাকের মাধ্যমে ঘটে। তবে এই অ্যামিবা মিশ্রিত জল পান করলে কোনও ক্ষতি হয় না, কেবলমাত্র নাক দিয়ে প্রবেশ করলে রোগ সৃষ্টি করে (Hidden Risk)।
Naegleria fowleri বা ব্রেন খাদক অ্যামিবা এককোষী অণুজীব, যা Amoebozoa শ্রেণিভুক্ত। এর জীবনচক্রে তিনটি প্রধান রূপ দেখা যায়–সিস্ট, ট্রফোজোয়াইট এবং ফ্ল্যাজেলেট। প্রতিটি রূপ পরিবেশের ভিন্ন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন অতিরিক্ত তাপমাত্রা পরিবর্তন, খাদ্যের ঘাটতি, অক্সিজেনের অভাব কিংবা জল শুকিয়ে যাওয়ার সময় এটি সিস্ট রূপ ধারণ করে। সিস্ট হল এক ধরনের প্রতিরক্ষামূলক রূপ, যা মোটা প্রাচীর দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দীর্ঘদিন টিকে থাকতে সক্ষম।
পরিবেশ অনুকূল হলে এই সিস্ট পুনরায় সক্রিয় হয়ে উফোজোয়াইটে পরিণত হয়। ট্রফোজোয়াইট হলো অ্যামিবার সবচেয়ে সক্রিয়, বিপজ্জনক ও রোগ সৃষ্টিকারী রূপ। এটি উষ্ণ, স্থির এবং জৈব পদার্থসমৃদ্ধ জলে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ট্রফোজোয়াইট মূলত ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং দ্বিবিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। মানুষের জন্য এই রূপই সবচেয়ে ক্ষতিকর, কারণ এটি নাক দিয়ে দেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে পৌঁছতে পারে এবং প্রাণঘাতী Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM) রোগ সৃষ্টি করে। আর একটি রূপ হল ফ্ল্যাজেলেট, যা প্রতিকূল পরিবেশে গঠিত হয় (Hidden Risk)।
এতে ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে অ্যামিবা জলে সাঁতার কাটতে পারে এবং পরিবেশ অনুকূল হলে ফের ট্রফোজোয়াইটে রূপান্তরিত হয়। প্রতিমা বিসর্জনের পর জলে যে রাসায়নিক ও জৈব উপাদান মেশে, তা Naegleria fowleri-এর বৃদ্ধি ও বিস্তারে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। প্রতিমার রঙে সীসা, তামা, পারদ বা ক্রোমিয়ামের মতো ধাতু থাকে। এগুলি অ্যামিবার খাদ্য নয়, তবে জলে থাকা ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি পরিবর্তন করে এবং কিছু ধাতু-সহিষ্ণু ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। এই ব্যাকটেরিয়াই ট্রফোজোয়াইটের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। পাশাপাশি বিসর্জনের সময় ফুল, ফল, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ জলে মিশে গিয়ে পচনশীল বর্জ্যে পরিণত হয়।
এর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায় এবং প্রচুর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে। এই উষ্ণ, স্থির, ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনঘাটতিপূর্ণ পরিবেশ Naegleria fowleri-এর বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। দক্ষিণ ভারতে এই অ্যামিবার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হল ওই অঞ্চলের আবহাওয়া বেশি উষ্ণ ও আর্দ্র। দক্ষিণ ভারতের অনেক রাজ্যে গ্রীষ্মকালে জলাশয়ের তাপমাত্রা ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা ট্রফোজোয়াইট বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত। তা ছাড়া সেচ ও শিল্পের কারণে সেখানে অনেক স্থির জলাধার, কৃত্রিম পুকুর ও জলাশয় তৈরি হয়, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য Naegleria fowleri-কে বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে প্রচুর জল জমে থাকে, বিশেষত কলকাতা ও শহরতলিতে (Hidden Risk)।
বর্ষার শেষে বা বিসর্জনের সময় প্রচুর জৈব বর্জ্য জলাশয়ে মেশে, যা অ্যামিবার বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে দক্ষিণ ভারতের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে জলের তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকে এবং শীতকাল দীর্ঘ হওয়ায় এই অ্যামিবার সক্রিয়তা কম হতে পারে। তবুও, নগরায়ণ, দূষণ, বিসর্জনের প্রথা এবং উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও Naegleria fowleri বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, Naegleria fowleri পরিবেশের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এবং প্রতিমা বিসর্জনের মতো কার্যকলাপ জলে রাসায়নিক ও জৈব পরিবর্তন ঘটিয়ে এর বৃদ্ধিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে।
দক্ষিণ ভারতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও পশ্চিমবঙ্গেও নগরায়ন ও জলাশয়ের দূষণের কারণে ভবিষ্যতে এর ঝুঁকি উপেক্ষা করার মতো নয়। Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM) নামে একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক রোগ হয়। যেহেতু সংক্রমণ নাক দিয়ে জলে প্রবেশের মাধ্যমে ঘটে এবং পরে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায়, তাই প্রতিরোধের জন্য ঋতুভেদে ভিন্ন ধরনের সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মৎসজীবী, সাঁতারু, ধোপা এবং সাধারণ মানুষ যারা নিয়মিত নদী বা পুকুরে স্নান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রীষ্মকালে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষত স্থির জলে তাপমাত্রা ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই সময় Naegleria fowleri-এর ট্রফোজোয়াইট রূপ সবচেয়ে সক্রিয় থাকে এবং ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ উষ্ণ জলে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই গ্রীষ্মকালে মৎসজীবীদের নদী বা পুকুরে নামার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাদের উচিত নাকে জল ঢোকা এড়িয়ে চলা এবং সম্ভব হলে নাক বন্ধ করার জন্য সুরক্ষামূলক ক্লিপ ব্যবহার করা। সাঁতারুদের জন্য উষ্ণ ও অচল জলে সাঁতার এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
ধোপাদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘক্ষণ পুকুরে দাঁড়িয়ে কাপড় ধোয়ার সময় নাকে জল প্রবেশ না করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ হল, গ্রীষ্মকালে অচল বা কম প্রবাহিত পুকুরের জলে স্নান না করা, কারণ এই সময় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষায় প্রচুর জলাধার, নদী, খাল ও পুকুরে জল জমে যায় এবং বিসর্জনসহ বিভিন্ন কারণে জলে জৈব বর্জ্য মিশে দূষণ বাড়ে। যদিও বর্ষাকালে জলের তাপমাত্রা কিছুটা কমে, তবুও স্থির জলে জৈব পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য অ্যামিবার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে।
বর্ষাকালে মৎসজীবীদের বৃষ্টির পর জমে থাকা স্থির জলে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ সেইসব জলে অক্সিজেনের মাত্রা কম ও ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেশি থাকে। সাঁতারুদের নদীর চলমান জল বেছে নেওয়া উচিত, পুকুর বা জমে থাকা জলে নামা এড়ানো দরকার। ধোপাদের জন্যও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষকে বর্ষায় নদী বা পুকুরের জল সরাসরি নাক ও মুখে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় (Hidden Risk)।
শরৎকালে দুর্গাপুজো ও অন্যান্য উৎসবের কারণে নদী-নালা ও পুকুরে প্রচুর প্রতিমা বিসর্জন হয়। এর ফলে জলে বিভিন্ন রাসায়নিক রং, ভারী ধাতু এবং ফুল-ফল ইত্যাদি জৈব পদার্থ মিশে দূষণ বৃদ্ধি করে। এই দূষণ Naegleria fowleri-এর জন্য পরোক্ষভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই শরৎকালে মৎসজীবীদের উচিত বিসর্জনোত্তর পুকুর বা নদীতে মাছ ধরার সময় আরও সতর্ক থাকা।
সাঁতারুদের বিসর্জনের পরপরই নদী বা পুকুরে সাঁতার এড়ানো উচিত। ধোপাদেরও বিসর্জনোত্তর সময়ে কাপড় ধোয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার ও প্রবাহিত জল ব্যবহার করার চেষ্টা করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ হল, বিসর্জনের পর কমপক্ষে এক-দুই সপ্তাহ ওইসব পুকুর বা নদীতে স্নান না করা। শীতকালে জলের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে, যা Naegleria fowleri-এর সক্রিয়তার জন্য অনুকূল নয়।
এই সময়ে অ্যামিবা সাধারণত সিস্ট রূপে অবস্থান করে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে ঝুঁকি সম্পূর্ণ শূন্য নয়, কারণ সিস্ট দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে এবং জলে ভেসে থাকতে পারে। তাই শীতকালেও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। মৎসজীবী, ধোপা বা সাধারণ মানুষ যখন জলে নামবেন, তখন তাদের উচিত নাকে সরাসরি জল না ঢুকতে দেওয়া। সাঁতারুরাও শীতকালে তুলনামূলক নিরাপদ থাকলেও অপরিষ্কার বা অচল জলে সাঁতার না কাটাই উত্তম। Naegleria fowleri থেকে বাঁচতে সারা বছর কিছু সাধারণ সতর্কতা মানা দরকার। প্রথমত, অচল ও দূষিত জলে সাঁতার বা স্নান এড়াতে হবে (Hidden Risk)।
দ্বিতীয়ত, নাক দিয়ে জল প্রবেশ রোধ করতে নাক বন্ধ রাখার অভ্যাস বা নাকের ক্লিপ ব্যবহার করা উচিত। তৃতীয়ত, পানীয় জল অবশ্যই ফিল্টার বা সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত, যদিও সংক্রমণ পানীয় জল থেকে হয় না, তবুও অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে এটি জরুরি। চতুর্থত, প্রতিমা বিসর্জনের পর দূষিত জলাশয়ে না নামাই ভাল। পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনেরও উচিত জলাশয়ের নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনগণকে সতর্ক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সবশেষে বলা যায়, ঋতুভেদে জলের তাপমাত্রা ও দূষণের ধরন ভিন্ন হয় এবং সেই অনুযায়ী Naegleria fowleri-এর সক্রিয়তার মাত্রাও পরিবর্তিত হয়। তাই মৎসজীবী, সাঁতারু, ধোপা ও সাধারণ মানুষ যদি মৌসুমি সতর্কতা মেনে চলেন, তবে এই মারাত্মক সংক্রমণ থেকে বাঁচা অনেকটাই সম্ভব।