ad
ad

Breaking News

Gen Z Political Apathy

‘জেন জি’ পিৎজা খেতে ভালবাসে, ভোট দিতে নয়

এই এক দশকে নতুন প্রজন্মের ভোটার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে রাজ্যে। রাজ্যে দীর্ঘদিন জনগণনা না হলেও জনসংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

Gen Z Political Apathy: Why WB's Youth Prefer OTT Over Voting?

চিত্র: প্রতীকী

জয়ন্ত চক্রবর্তী: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগ্রহ কি ক্রমেই কমছে! জেন জি বলে যারা চিহ্নিত হয় তারা কী অনলাইনে সুইগি কিংবা জোমাটো থেকে অর্ডার করে পিৎজা খেতে বেশি পছন্দ করে, ভোট দেওয়ার থেকে? পরিসংখ্যান কিন্তু সেই কথাই বলছে। ১৯৮৮ সালে সংবিধানের ৬১ নম্বর ধারা সংশোধন করে ভারতে ভোটদানের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়। ১৯৮৯-এর ভোট থেকেই ১৮ বছরের ভোটদাতারা ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু এই এক দশকে নতুন প্রজন্মের ভোটার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে রাজ্যে। রাজ্যে দীর্ঘদিন জনগণনা না হলেও জনসংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে (Gen Z Political Apathy)।

স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিউ বা এসআইআর-এর পর ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬১৬। এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর মোট ৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৭৭ জন ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্যে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স আঠারো হয়েছে তাঁরা সংখ্যায় কত তা জানা না গেলেও গত একদশক যে জেন জি-র ভোটদানে আগ্রহ কমছে তা বলাই যায়।

২০১৪ সালে নতুন ভোটার হতে আবেদন করেছিলেন ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ১৯৮ জন। ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা ভোটে ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার নতুন ভোটার ছিলেন। ২০২২-এ ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার ও ২০২৩ সালে ১৭ লক্ষ ৮৩ হাজার নতুন নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিল। এবার সংখ্যাটি আরও কমতে পারে বলে নির্বাচন অধিকারিকদের ধারণা। অন্তত ফর্ম ৬ ভরে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রবণতা এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীর মধ্যে কম। রাজ্যে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষের ভোটারের মধ্যে উনিশ-কুড়ি লক্ষ মাত্র নতুন ভোটার! ভাবা যায় (Gen Z Political Apathy)!

এই রাজ্যের নতুন ভোটারদের ভোটদানে অনীহা থেকেই বোঝা যায় যে চলতি রাজনীতি সম্পর্কে তাদের বিমুখতা কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কে নিষিদ্ধ মাংস খেল আর বিরোধী দলের নবান্ন অভিযান কতটা সফল হল, এতে তাদের কিছুই যায় আসে না। দিনের শেষে টিভিতে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারলেই হল। কোন মন্ত্রীর দেরাজ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা বের হল কিংবা শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। সেই সময়টায় বরং শুভমন গিলের নতুন রেকর্ড অথবা নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজনে নতুন ওটিটি সিরিজ কী এল, তা নিয়ে তারা মাথা ঘামাতে ব্যস্ত থাকে। এই যে ভোটে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমছে তার দায় কি আমাদের রাজনীতিকদের নেই? অবশ্যই আছে। তাঁরা ভোটের ক্ষুদ্র স্বার্থ দেখতে গিয়ে বৃহত্তম ব্যাপারটিকে অস্বীকার করছেন।

একটা সময় ছিল যখন তরুণ প্রজন্মই ঠিক করতো দেশ কিংবা রাজ্যের চালিকা শক্তি কারা হবে? সেই দিন গিয়াছে! যখন বাতাসে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ শুনতে পাওয়া যেত। আজ রাজ্য অথবা দেশের ভাগ্য নির্দেশ করে দেয় এক শ্রেণির পলিত কেশ গতায়ু যৌবনের দল। তর্কের খাতিরে এই কথা বলতেই পারেন, এঁরা কি দেশের নাগরিক নন! অবশ্যই এঁরা দেশের নাগরিক এবং এঁদের অধিকার আছে মসনদে কারা বসবেন তা ঠিক করে দেওয়ার। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে একবার বলুন তো যে রাজ্যের, যে দেশের তরুণ প্রজন্ম সংসদীয় রাজনীতি বিমুখ হয়, সেই দেশে আর কোনও ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হয়? সোশ্যাল মিডিয়ায় একবার চোখ রাখুন (Gen Z Political Apathy)।

মনে হবে জেন জি কতই না রাজনীতি সচেতন। লাইক-ভিউ এর বন্যা বয়ে যাচ্ছে সেখানে। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে গালিগালাজ করলে আর তৃণমূল কংগ্রেসের বাপন্ত করলেই লাইক-ভিউ এর অবিরল জলস্রোত। কিন্তু এঁরা কজন ভোট দেন? গালিগালাজ করে ভিউ বাড়ে, সেখানেও ব্র্যান্ড মমতা !আহা, বিজেপির যদি একজন মমতা থাকতো তা হলে লড়াই সেয়ানে সেয়ানে হতো। তখন হয়তো জেন জি পিৎজা ছেড়ে ভোট বাক্সের দিকে চোখ ফেরাত!