ad
ad

Breaking News

Freedom Fighters

Freedom Fighters: এমন ভুলে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই

বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়া হল কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাক্ষেত্রে কী করে বলা হয় দেশের স্বাধীনতায় অংশ নেওয়া বিপ্লবীরা ‘সন্ত্রাসবাদী’?

Freedom Fighters Called Terrorists: Vidyasagar University Exam

গ্রাফিক্স: নিজস্ব

Bangla Jago Desk: বিপ্লবী হিসেবে ইতিহাসে যাদের নাম আছে, সেই বিপ্লবীদের বলা হল ‘সন্ত্রাসবাদী’। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে ষষ্ঠ সেমিস্টারের ইতিহাসের পরীক্ষায় প্রশ্ন দেওয়া হয়, ‘মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট-এর নাম কর, যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন’। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার এই প্রশ্ন নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়া হল কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাক্ষেত্রে কী করে বলা হয় দেশের স্বাধীনতায় অংশ নেওয়া বিপ্লবীরা ‘সন্ত্রাসবাদী’? ব্রিটিশ শাসনকালে জেলাশাসক ছিলেন জেমস পেডি। লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিলেন পেডি। সেই ‘অত্যাচারী’ ব্রিটিশ জেলাশাসককে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের কক্ষে খতম করেছিলেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত, সঙ্গী জ্যোতিজীবন ঘোষ (Freedom Fighters)।

আরও পড়ুনঃ Jasprit Bumrah: লর্ডস টেস্টে বল বিতর্কে মুখ খুললেন বুমরাহ

বিমল দাশগুপ্তের রিভলভারের মৃত্যু হয় জেমস পেডির। পেডি’র পর এসেছিলেন আরও ‘অত্যাচারী’ জেলাশাসক ডগলাস। খড়গপুরের হিজলি জেলে রাতের অন্ধকারে তাঁরই নির্দেশে বন্দিদের উপর চলেছিল গুলিবর্ষণ। বিপ্লবী সন্তোষ কুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত শহিদ হন। জেলা বোর্ডের মিটিং চলাকালীন বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্যের হাতে খতম হয়েছিলেন ডগলাস। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে পুলিশ লাইনের মাঠে ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন পরবর্তী জেলাশাসক বার্জ। টাউন স্কুলের ছাত্র মৃগেন দত্ত ও রামকৃষ্ণ রায়রা মাঠের মধ্যেই গুলি করেন জেলাশাসককে। এই তিন জেলাশাসককে হত্যা করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীরা (Freedom Fighters)।

Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/

সেই বিপ্লবীদের প্রশ্নপত্রে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা হল! বিষয়টি সামনে আসার পর শুরু হয় সোরগোল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার পর ইউজি বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যান এবং মডারেশন বোর্ডের যে মেম্বারের সই ছিল তাঁদের দু’জনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যা জানান উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। এখন প্রশ্ন হল, যারা প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের দায়িত্বজ্ঞান কতটা? শিক্ষাক্ষেত্রের সব চেয়ে উঁচুস্তরে এই ভুল কী করতে করতে পারেন কেউ? তাঁদের কী সম্যক কোনও ধারণা আছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে? প্রশ্ন উঠে গেল (Freedom Fighters)।