ad
ad

Breaking News

Border Conflict

Border Conflict: জাতীয়তাবোধের মেকি ভাবনাতেই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত লড়াই

আবার সুইজারল্যান্ড, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, সুইডেন, উরুগুয়ে, আয়ারল্যান্ড, হাইতি, ব্রুনেই, কানাডা, ডেনমার্কের মতো এমন অনেক দেশ আছে যাদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের স্থল সীমান্ত নিয়ে বিরোধ নেই।

Border Conflict: Thailand-Cambodia Nationalism, History, Political

গ্রাফিক্স: নিজস্ব

রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: বিশ্ব জুড়েই স্থল সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন বিবাদ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর বিরোধ, ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষ আজ বিশ্বের নজরে (Border Conflict)। নিউজিল্যান্ড, সাইপ্রাস, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার কোনও স্থল সীমানা নেই এবং তাই কোনও সীমান্ত বিরোধ নেই। আবার সুইজারল্যান্ড, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, সুইডেন, উরুগুয়ে, আয়ারল্যান্ড, হাইতি, ব্রুনেই, কানাডা, ডেনমার্কের মতো এমন অনেক দেশ আছে যাদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের স্থল সীমান্ত নিয়ে বিরোধ নেই।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের ওপর ফিলিপাইনের সুপ্ত দাবি রয়েছে। লিগিটান এবং সিপাদান দুটি দ্বীপ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি আঞ্চলিক মতবিরোধ ছিল, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) ২০০২ সালে মালয়েশিয়ার পক্ষে রায় দেয় এবং দ্বীপপুঞ্জের উপর তাদের সার্বভৌমত্ব প্রদান করে। পেড্রা ব্রাঙ্কা, মিডল রকস এবং দক্ষিণ লেজের সার্বভৌমত্ব নিয়ে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি আঞ্চলিক মতবিরোধ ছিল।

২০০৮ সালে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) এক রায়ে, পেড্রা ব্রাঙ্কার উপর সিঙ্গাপুরের, মিডল রকসের উপর মালয়েশিয়ার সার্বভৌমত্ব জানানোয় সমস্যা মিটেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চিন, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেইর বিরোধ জলজ সম্পদের অধিকারের ওপর (Border Conflict)। সহজে মেটার ব্যাপার নয়। এই তালিকায় এখন যোগ হল বহু দিনের সুপ্ত থাই-কম্বোডিয়ার সীমানা বিরোধ। আশ্চর্যজনক ভাবে, বিরোধ আবার সীমান্তে এক গুচ্ছ হিন্দু মন্দির আর তার সঙ্গে থাকা জমির কর্তৃত্ব নিয়ে।

অতীতে প্রকাশ্য বিরোধ বহুবার দেখা দিলেও, সাম্প্রতিক উত্তেজনার শুরু এবছরের ২৮ মে, যখন প্রিয়া বিহার মন্দিরের কাছে সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা মারা যান। ২৩ জুলাই বিতর্কিত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা মারাত্মকভাবে আহত হলে, উভয় পক্ষই ভারী কামান ও যুদ্ধ বিমান নিয়ে হামলা চালায়। কম্বোডিয়ার দাবি, থাই সৈন্যরা সীমান্তের কাছে সুরিন প্রদেশে হিন্দু মন্দির, প্রসাত তা মুয়েন থম মন্দিরের চারপাশে চুক্তি লঙ্ঘন করে কাঁটাতার লাগিয়েছে, ড্রোন মোতায়েন করেছে। থাই সৈন্যরা কম্বোডিয়ান সৈন্যদের উপর গুলি চালালেই সংঘাতের সূচনা হয়।

বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, সংঘাতের নিকটবর্তী এলাকাগুলো থেকে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সীমান্তের নিকটবর্তী থাই প্রদেশগুলোতে সামরিক আইনও জারি। দুই দেশই একে অপরের ওপর সীমান্ত ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ক্ষয়ক্ষতি বিশেষ হওয়ার আগেই মালয়েশিয়া ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প লড়াই বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না করার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। যুদ্ধ আপাতত বন্ধ, তবে দীর্ঘ শান্তির আসা না করাই ভাল।

কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, বিপজ্জনক থাই হুমকির মুখে কম্বোডিয়ানদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেছেন যে এই সংঘাত ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে’ পরিণত হতে পারে। তবে, অস্ত্রশস্ত্র ও সেনা সংখ্যার নিরিখে কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক গুণ এগিয়ে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার সক্রিয়-সেনা আছে, যা কম্বোডিয়া সেনাবাহিনীর তিনগুণ। অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, লোয়ি ইনস্টিটিউট প্রকাশিত ২০২৪ সালের বার্ষিক এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে ২৭টি আঞ্চলিক দেশের মধ্যে থাইল্যান্ড দশ আর কম্বোডিয়া ঊনিশ নম্বর স্থানে (Border Conflict)।

সামগ্রিকভাবে, লোয়ি এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক শক্তির পরিচয় দেয়। থাইল্যান্ড একটি মধ্যম শক্তির দেশ, ইন্দোনেশিয়ার ঠিক পিছনে তবে মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলির চেয়ে এগিয়ে। লোয়ি কম্বোডিয়াকে এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র শক্তি হিসাবে স্থান দিয়েছেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং লাওসের মতো দেশগুলির সঙ্গে গ্রুপ করেছেন। থাইল্যান্ডের জনসংখ্যা কম্বোডিয়ার চেয়ে চারগুণ বেশি আর জাতীয় আয় দশ গুণেরও বেশি। কম্বোডিয়া প্রথমে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ তারপর সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে দীর্ঘ দিন লিপ্ত থাকায়, উন্নয়নের খাতা সবে খুলতে শিখেছে। অন্য দিকে থাইল্যান্ড এক চির স্বাধীন দেশ।

১৮৬৩ সালে রাজা নরোদম ফ্রান্সের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করলে কম্বোডিয়া একটি ফরাসি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়। আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণে ফ্রান্স এবং সিয়ামের মধ্যে ১৯০৪ সালে থাইল্যান্ড (তৎকালীন সিয়াম) এবং ফরাসি শাসিত কম্বোডিয়ার মধ্যে এক জলাশয়-ভিত্তিক সীমানা প্রতিষ্ঠা করে চুক্তি হয়। চুক্তির অঙ্গ হিসাবে ১৯০৭ সালে আঁকা ফরাসি মানচিত্রে প্রিয়া বিহার মন্দিরকে কম্বোডিয়ান অঞ্চলের মধ্যেই রাখা হয়েছিল। সেই সময় থাইল্যান্ড এই মানচিত্র মেনে নিয়েছিল। তবে ইউরোপীয় মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যার উপর ভিত্তি করে ফরাসি-নির্মিত মানচিত্রগুলি থাইল্যান্ড বুঝে উঠে পারেনি।

অন্তর্জাতিক আদালতে তারা সেটা জানিয়েছিলও। এখন তাদের না মানতে-চাওয়া ব্যপারটাকে কোর্ট আমল দেয়নি। ১৯৬২ সালে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) কম্বোডিয়ার পক্ষে রায় দেয় এবং থাইল্যান্ডকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলে। ১৯৫৪ সালের পরে মন্দির থেকে সরানো সব শিল্পকর্ম ফিরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেয়। আইসিজ-এর মূল রায়টিতে স্পষ্ট করে, কম্বোডিয়াকে কেবল মন্দির নয়, আশেপাশের এলাকার উপরও তাদের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে কম্বোডিয়া একাদশ শতাব্দীর এই হিন্দু মন্দির প্রিয়া বিহারকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে সফল হয়। থাইল্যান্ডের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নোপাদোন পাত্তামাও কম্বোডিয়ার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু রাজ পরিবারের সমর্থন সমর্থন না থাকায় নোপাদোন পাত্তামাও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কম্বোডিয়া আইসিজেকে প্রিয়া বিহার মন্দির এলাকা সম্পর্কে ১৯৬২ সালের রায়টি স্পষ্ট করার জন্য অনুরোধ করেছিল, বিশেষত এই রায়টি কেবল মন্দিরের কাঠামো বা আশেপাশের এলাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কিনা। আইসিজে তার ২০১৩ সালের রায়ে পুরো প্রিয়া বিহার মন্দির ও তৎসংলগ্ন এলাকার  উপর কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে (Border Conflict)। থাই সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় আদালত। তবে প্রিয়া বিহার মন্দিরের প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দ্বাদশ শতাব্দীর আর একটি শিব মন্দির, তা মুয়েন থম মন্দির আছে। আঙ্কোরভাটের জনপ্রিয়তায় এই সব মন্দিরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সে ভাবে না থাকলেও দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। থাইল্যান্ড আর আন্তর্জাতিক আদালত মানতে রাজি নয়।

রাজনৈতিক কারণে নিজস্ব জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায় দুই দেশই সচেষ্ট। অ্যাংকোরীয় সাম্রাজ্যের উত্থানের পর থেকে ভিয়েতনামের কাছে কম্বোডিয়ার একের পর এক রাজনৈতিক অঞ্চল হারানোয়, কম্বোডিয়া জাতীয়তাবাদকে টিকে রাখার দায় পরে। ফরাসিরা কম্বোডিয়ানদের নিজেদেরকে অ্যাংকরের উত্তরাধিকারী হিসাবে চিহ্নিত করতে উত্সাহিত করেছিল, তাদের ধারণা ছিল, এই পথে না গেলে তারা বিলুপ্তির পথে হাঁটবে।

শেষ পর্যন্ত আঙ্কোর ওয়াটের ছবি তাদের জাতীয়তাবোধের পরিচয় হয়ে ওঠে, স্থান পায় জাতীয় পতাকায়ও। থাইল্যান্ডের সীমান্তে মন্দিরের সঙ্গে আঙ্কোরীয় ধ্বংসাবশেষ নিয়ে কম্বোডিয়া জাতীয়তাবাদ উস্কে দেওয়াই ছিল কম্বোডিয়ার নেতাদের কাজ। কম্বোডিয়ার ক্ষতি থাইল্যান্ড যা করেছে ঐতিহাসিক ভাবে তার অনেক বেশি করেছে ভিয়েতনাম। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী খেমার রুজ শাসনকে উৎখাত করে কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি (সিপিপি)য়ের পুতুল সরকার বসিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে জাতীয়তাবোধ উস্কানোর প্রচেষ্টায় বিপদ আছে বুঝে থাইল্যান্ডকে বাছা হয়েছে দেশাত্মবোধের নব জাগরণে (Border Conflict)।

যদিও থাইরা নিয়মিতভাবে গর্ব প্রকাশ করে যে তারাই একমাত্র দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ যারা পশ্চিমাদের উপনিবেশ হয়নি। তবে তাদেরও যন্ত্রণা আছে। ১৮৯৩ সালে সামরিক হুমকিতে ফ্রান্সকে দিতে হয়েছিল আজকের লাওসের অনেকগুলি অঞ্চল। ১৯০৭ সালের সীমান্ত চুক্তিতে ফ্রান্সকে দেওয়া হয়েছিল বাটামবাং, সিসোফোন, এবং সিম রিপ যা এখন কম্বোডিয়ার অংশ। ১৯০৯ সালে গ্রেট ব্রিটেন সিয়াম প্রদেশ থেকে কেলানতান, তেরেঙ্গানু, কেদাহ, এবং পেরলিস নিয়ে মালয় প্রদেশে জুড়ে দেয়। থাইল্যান্ড আর কোনও জাতীয় অবমাননা সহ্য করতে চায়  না এটা বোঝাতেই তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে পড়া কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ জিগিয়ে রাখা। এতেই জেগে থাকবে থাই জাতীয়তা বলে, রাজ-সামরিক জোটের ভাবনা।

একই সঙ্গে রাজাকে থাই জাতীয়তার প্রধান প্রতীক হিসাবে ভাবনা শুরু হলে দেশের ঐক্য বাড়বে, জব্দ হবে বিরুদ্ধ শক্তি। থাকসিন সিনাওয়াত্রা এবং তার পরিবার রাজতন্ত্র বিরোধী শক্তি হিসাবেই পরিচিত। বিরুদ্ধ ভাবনাকে নির্মূল করতে পিপলস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি (পিএডি) তৈরি হয়। থাই জ্যোতিষশাস্ত্রে সোমবারের সঙ্গে হলুদ রঙের সম্পর্ক রয়েছে। রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজ (রামা নবম) এবং তার পুত্র, রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন (রামা দশ) উভয়েরই জন্ম সোমবার। তাই রাজতন্ত্রের উগ্র সমর্থনকারিরা  ‘হলুদ শার্ট’ পরে আন্দোলন শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা এবং তার মিত্রদের ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল এদের লক্ষ্য।

কম্বোডিয়ার ৩৮ বছরের শাসক হুন সেন (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হউন মানেটের বাবা) ও সিনাওয়াত্রা পরিবারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। হুন সেন থাকসিনকে তার ‘গুরু ভাই’ মনে করতেন, এমনকি প্রিয়া বিহার বিরোধের সময় তাকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। হুন সেনের সঙ্গে থাকসিনের বন্ধুত্বকে থাই স্বার্থ বিক্রি করার চক্রান্ত হিসাবে দেখতে থাকে রাজ-সামরিক জোট। এই ভাবনাকে আরও জোরদার করতে, কম্বোডিয়া বিদ্বেষ বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। কম্বোডিয়ার সৈন্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের তা মোয়ান থম মন্দিরের সামনে একটি দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার একটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয় (Border Conflict)।

এখানেই থেমে থাকেনি, কম্বোডিয়ার সরকার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইয়ের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও পাঠায় থাই সরকার। এই ঘটনার পর উভয় পক্ষ সীমান্তের বিতর্কিত অংশে সামরিক অবকাঠামো জোরদার করতে শুরু করে। কম্বোডিয়া বিষয়টিকে আবার আইসিজে-র কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। থাইল্যান্ড মনে করে বিষয়টি আইসিজের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। তারা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত যৌথ সীমান্ত কমিশনের (জেবিসি) কাছে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করে।

১৮ জুন হুন সেনের সঙ্গে পেটংতার্নের একটি ফোন কলের রেকর্ডিং ফাঁস হয়ে যায়। রেকর্ডিংয়ে থাই প্রধানমন্ত্রী বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও, বুঝিয়ে দেন সীমান্ত অশান্তির জন্য দায়ী থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় সেনা অঞ্চলের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বুনসিন পাদক্লাংকের উস্কানি। থাই জাতীয়তাবাদের ঘৃতে আহুতি লাগে। থাকসিন থাইল্যান্ডের কঠোর লেস-ম্যাজেস্টি আইন (থাই ফৌজদারি কোডের ১১২ অনুচ্ছেদ যেখানে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানহানি, অপমান বা হুমকি শাস্তি হিসাবে চিহ্নিত) লঙ্ঘনের আওতায় পরে। সাংবিধানিক আদালত পাইটংটার্নকে অফিস থেকে বরখাস্তও করে।

পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে তা এখনও অস্পষ্ট। তবে দুই দেশই  রাজনৈতিক স্বার্থে বিরোধ জিইয়ে রাখবে, যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব দেখাবে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কেউ করবে না। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে কম্বোডিয়ার পতন অনিবার্য। থাইল্যান্ড যুদ্ধে জিতলে ভয় বাড়বে কেন না তখন চিন বা ভিয়েতনাম এবার দোরগোড়ায় এসে যেতে পারে (Border Conflict)। আর পশ্চিমা দেশগুলি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় থাই আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে, খবরদারি বাড়াবে। তাই মুখ রক্ষার উপায় খুঁজতে হবে। গত শতাব্দীর ইতিহাস শিক্ষা দেয়, সীমান্ত ইস্যুর কোনও সমাধান নেই। তা সুপ্ত রেখে সময় মতো জাগিয়ে তুলতে পারলেই রাজনৈতিক ফায়দা।