চিত্র: সংগৃহীত
বাবুল চট্টোপাধ্যায় (প্রাবন্ধিক): রাজ্যটার নাম পশ্চিমবাংলা। কিছু কথা এসআইআর, হিয়ারিং, সুপ্রিম কোর্টের রায়দান ও আপামর মানুষের সমস্যা নিয়ে। বলছি, মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা নিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতার কথাও। আপনি বলবেন, একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে অন্য রাজ্যেও। শুনানিও চলছে। তেমন সমস্যা হয়নি। মানছি সেই কথাও। আপনি এও বলবেন, ভাল-মন্দ দুই-ই বাছতে হয়। তবেই ভাল ও সঠিক বের করা যায়। কেউ কেউ আরও এগিয়ে বলবেন, এতে ভালর মর্যাদা হারায় না (Bengal Elections)।
এরপর বলবেন, এটা তাদের মনোভাবের উপর অনেকটা নির্ভর করে। বলবেন কিছু ভালর জন্যে কিছু অসুবিধা মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? কিন্তু কেন বলুন তো? শুধু মন্দ সন্দেহে ভালর গায়ে আঁচ পড়বে কেন? কেন ভালকে ধরে টানাটানি করা হবে? কেন সন্দেহের বশে ভালকে বার বার হয়রানি, হেনস্থা, যন্ত্রণা, অপমান বা অসচ্ছলতার পড়তে হবে? কেন সময় নষ্ট সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নষ্ট হবে? কেন সন্দেহের বশে এতজন মানুষের মৃত্যু হবে? এসব প্রশ্ন কি আসবে না?
প্রশ্ন আসবে না, আমার সহ নাগরিককে আমি কেন সন্দেহের বশে বা তোমার ভুলে এভাবে হারাব কেন? কেন এত মৃত্যু হবে? কেন হয়রানি, সময় নষ্ট, যন্ত্রণা, অপমান নিয়ত সহ্য করতে হবে? প্রশ্ন আসবে না, নিবিড় শুনানিতে আমাকে ডাক করিয়ে যে সমস্ত ডকুমেন্টগুলো নিল তার কোনও রিসিভ কপি দেওয়া হবে না কেন? যদিও পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই রিসিভ কপি দেওয়া হচ্ছে। এখানে বলবার বিষয়, যিনি নথি বা ডকুমেন্টের রিসিভ কপি চাইছেন শুধুমাত্র তাকেই দেওয়া হচ্ছে, আর যিনি চাইছেন না তাকে শুধু অ্যাপিয়ার বলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে (Bengal Elections)।
ধরুন যাদের অ্যাপিয়ার বলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে কি আর কোন প্রমাণের রাস্তা থাকছে যে তার যে যে ডকুমেন্টগুলো নেওয়া হয়েছিল তা সে যথার্থই দেখিয়ে ছিল কিনা। শুনানিতে যাওয়া ব্যক্তির কাছে কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং, কোনও কারণে ডকুমেন্টগুলো শুনানি নেওয়া আধিকারিক থেকে হারিয়ে গেলে এটা প্রমাণের কোনও রাস্তা থাকবে না যে আমি ডকুমেন্টগুলো তাদের কাছে যথার্থ অর্থেই দিয়েছিলাম কিনা। অবশ্য এখানে বলবার বিষয়, নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের থেকে যে আদেশ পেয়েছে সেটা অনেকটাই এখন মান্যতা পাচ্ছে। মানে রিসিভ কপি দেওয়া হচ্ছে।
আমরা জানি, ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। আপামর মানুষ সেই নির্ভুল ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে একটা সঠিক রূপরেখা তৈরি করতে পেরেছিল যে সে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা পরিচালিত ভোটার পদ্ধতির নির্ভুল ভোটার কিনা। কিন্তু তাই যদি হবে তবে পরবর্তীকালে নির্ভুল ভোটারের হিয়ারিং কেন? মানে ওই আটানব্বই লক্ষ মানুষের মধ্যেও আছে নিবিড় শুনানির ডাক। তবে কি এটা পরিকল্পিতভাবে কোনও এআই-এর মাধ্যমে এই সমস্ত প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হল? প্রশ্ন আসছে মাইক্রো অবজারভারদের নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মাইক্রো অবজারভার নন এই পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করবে এইআরও।
মাইক্রো অবজারভাররা তাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়ে দিয়েছে যে, এই শুনানির সময় আরও ৭ দিন বাড়ানো হবে, আর সেই কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে আরও সময় লাগবে। পরে কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট এটাও বলেছে যে এসআইআর হবেই। এতে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। নানা জায়গায় ফর্ম কেন নষ্ট করা হল, সেই প্রশ্নে ইতিমধ্যেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ আধিকারিক ডিজিপি-কে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং, সুপ্রিম কোর্ট তার সর্বোচ্চ আইন বলে কমিশনকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে, এখানে কোনও প্রভাব, কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কাজ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায় দিয়েছিল যেখানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মতো বিষয় আমরা লক্ষ্য করেছি। লক্ষ্য করেছি, একজন বুঝদার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ ডকুমেন্ট হিসেবে দেখানোর রায় দিয়েছিল। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সুপ্রিম কোর্ট তার সাংবিধানিক অধিকার বলে সমস্ত নিয়ম মেনে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে (Bengal Elections)।
আমরা দেখতে পেলাম, মুখ্যমন্ত্রী যা যা দাবি করেছিলেন তার প্রায় সবটাই মেনে নিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। বৈধ ও ন্যায় সঙ্গত ভাবেই তা করেছে। পশ্চিমবাংলার লোক মোটেই বোকা নয়। এখানে নিরক্ষর মানুষও প্রবল বুদ্ধিমান। তারা ভাল, মন্দ, ভালোর আড়ালে মন্দ সবই বোঝেন। আর বোঝেন বলেই আমাদের দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে এই রাজ্যের রাজনীতি মেলে না। এখানে কোনও ফ্লুক কাজ করে না। এখানে মানুষ ভোটে রায় দেয় কাজের মাধ্যমে। ভ্রান্ত কথা বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এখানে কোনও কাজ করে না।