চিত্র : সংগৃহীত
ডঃ রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এক নতুন সংবিধান সংশোধনীতে সামরিক বাহিনীর সমস্ত শাখার প্রধান বা সিডিএফ। একই সঙ্গে ফিল্ড মার্শাল মুনির সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া থেকে আজীবন দায়মুক্ত। সাধারণত সামরিক অভ্যুথানের পর সামরিক শাসকরা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বোঝালো সামরিক শাসন তাদের ওপরে। এর আগে মুহাম্মদ আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে সামরিক আইন ঘোষণায় নিজেকেই ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেছিলেন (Asim Munir)।
ভারতের ইতিহাসে দু’জন ফিল্ড মার্শাল রয়েছেন, স্যাম মানেকশ এবং কেএম কারিয়াপ্পা। স্যাম মানেকশ প্রথম ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ব্যতিক্রমী নেতৃত্বের জন্য ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে ফিল্ড মার্শাল পদ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অপরিসীম অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অবসর গ্রহণের অনেক পরে ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে ফিল্ড মার্শাল হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন কেএম কারিয়াপ্পা। সেই তুলনায় আসিম মুনিরের যুদ্ধ সাফল্যের নজির নেই। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বৃহত্তম বিরোধী দল পিটিআই বা তেহরিক-ই-ইনসাফ সুপ্রিম কোর্টে আইনি জটিলতায় সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের ব্যানারে কাজ করছে। তাদের নেতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রকাশ্যে মুনিরকে পাকিস্তানের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিপীড়ক স্বৈরশাসক’ বলেছেন।
পাক সেনাবাহিনীতে মুনিরের যাত্রাপথ
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তাবড় তাবড় কর্মকর্তারা প্রায় সবাই সামরিক পরিবার থেকে এসেছেন, মুনিরের পটভূমি একটি ব্যতিক্রম। সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনি একজন ‘স্ব-নির্মিত’ কর্মকর্তা। তাঁর পারিবারিক পটভূমি বেসামরিক ও ধর্মীয়। তার বাবা সৈয়দ সারওয়ার মুনির শাহ ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক, রাওয়ালপিন্ডির এফজি টেকনিক্যাল হাই স্কুলের অধ্যক্ষও হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি একটি স্থানীয় মসজিদ-উল-কুরাইশের প্রার্থনা নেতা বা ইমাম হিসাবেও দায়িত্ব পালন করতেন। প্রায়শই শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক ভাষণ বা জুমার খুতবা দিতে তাকে দেখা যেত। ওনাদের পরিবার স্থানীয় সম্প্রদায়ে কুরআন মুখস্থ থাকার স্বীকৃতিতে ‘হাফিজ পরিবার’ হিসাবে পরিচিত (Asim Munir)।
পাকিস্তানের সব নামী মিলিটারি অফিসার কাবুলে অবস্থিত অভিজাত পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমির লং কোর্সের গ্র্যাজুয়েট। তারা সবাই দুই বছরের কমিশনিং প্রোগ্রাম করে এসেছেন। মঙ্গলার অফিসার্স ট্রেনিং স্কুলের সংক্ষিপ্ত কমিশনিং প্রোগ্রামেই মুনিরের সেনা শিক্ষা। সেখানে সপ্তদশতম কোর্সের ক্যাডেট মুনির সোর্ড অফ অনার সম্মানও পেয়েছিলেন। সেরা পারফরম্যান্স ক্যাডেট এই সম্মান পায়। ১৯৮৬ সালে সেনা চাকরির প্রথম পোস্টিং হয় ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টের ২৩তম ব্যাটালিয়নে কমিশনড অফিসার হিসাবে। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে অসীম মুনির বাটালিক সেক্টরে ফিল্ড কমান্ডার ছিলেন। মূলত, মুনিরের অংশগ্রহণের জন্যই কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা আজ পাকিস্তান সরকারি ভাবে স্বীকার করছে। এতদিন করেনি।
ভারতের বিরুদ্ধে গোপনে কার্গিল অভিযানই মুনিরকে পাকিস্তান সেনা, গোয়েন্দা সংস্থা, আর উলেমাদের নজরে আনে। ২০১৬-১৮ সালে তিনি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এর শীর্ষে বসেন ২০১৮-১৯ সালে। মুনির-ইমরান দ্বৈরথে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হুকুমে মুনিরকে আইএসআই অধিকর্তা পদ হারান। যোগ দেন গুজরানওয়ালায় এক্সএক্সএক্স কর্পসের কমান্ডর পদে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক সরবরাহের মূল কেন্দ্র, রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টারে। পদ কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল (Asim Munir)।
অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরান খানকে অপসারণ করার পরে শেহবাজ শরিফ ২০২২ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দখল করেই নভেম্বরেই মুনিরকে সেনাপ্রধান হিসাবে মনোনীত করেন। গত বছর নভেম্বরে, ক্ষমতাসীন জোট সার্ভিস প্রধানদের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ালে সিওএএস হিসাবে মুনিরের চাকরির মেয়াদ ২০২৭ সালের নভেম্বের পর্যন্ত সুরক্ষিত হয়। বিগত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় বেসামরিক সরকার মুনিরের মধ্যে বিরল নেতৃত্ব শক্তি খুঁজে পেয়ে তাকে পাঁচ-তারকা ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করে।
চলতি নভেম্বরে যুগান্তকারী সাংবিধানিক সংশোধনীতে মুনির হন চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস, অর্থাৎ সব সামরিক বাহিনীর সমস্ত শাখার প্রধান। পারমাণবিক অস্ত্রাগারের তদারকি করা ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড এখন সিডিএফ অর্থাৎ মুনিরের অধীনে। সংবিধান সংশোধনী ফিল্ড মার্শাল পদে পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তির আজীবন পদমর্যাদা, ফৌজদারি মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেয়। একজন সাধারণ সেনা অফিসার থেকে উঠে আসা অসীম মুনির এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক নেতা। রাষ্ট্রনেতার ভূমিকায়ও তাঁকে দেখা যাচ্ছে।
আসিম মুনিরের উত্থান ও ইমরান খান
আসিম মুনিরের উত্থানে সবচেয়ে বিপর্যস্ত ইমরান খান। ইমরান শুধু দেশের প্রাক্তন প্রাধনমন্ত্রী নন, দেশের ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ দলের অধিনায়কও। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ইমরান, লাহোরের সুপ্রসিদ্ধ শওকত খানম মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতাও। দেশের একসময়ের শাসক, পরে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সৃষ্টিকর্তা। তাঁকেও ছাড়েনি আসিম মুনির। আইএসআই শীর্ষকর্তা পদ থেকে অপসারণের বদলা নিতে চায় মুনির।
মাত্র আট মাস দায়িত্ব পালনের পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আসিম মুনিরকে ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দেন। ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি ও তার সহযোগীদের নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন মুনির। ইমরান খান তাঁর পরিবারের উপর তদন্তের চেষ্টায় ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে মুনিরের স্থানে নিয়ে আসেন ঘনিষ্ঠ মিত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ। পাকিস্তান মিলিটারির সহায়তায় ইমরান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। মুনিরের সঙ্গে মতানৈক্যে ইমরান সামরিক বাহিনীকেই চটিয়ে ফেলেন, এর ফল হয় ভয়ানক। আর্মি ইমরান খানকে সুকৌশলে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ করে। পশ্চিমী কুনজরে আসার ভয়ে আজকাল আর ভারতের পার্শ্ববর্তী সামরিক-শাসন-অভ্যস্ত দেশে সামরিক অভ্যুথান হয় না (Asim Munir)।
‘গণতান্ত্রিক’ ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সব কলকাঠি নড়ে। আর্মি ইমরান খানের নিজের দল, পিটিআই বা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ থেকে বেশ কয়েকজন সাংসদকে দলত্যাগ করায়। পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের অধীনে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্বল শাসন এবং অর্থনীতির অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনে।
ইমরান খান অনাস্থা ভোট বাধা দেওয়ার এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কপাল সঙ্গ দিল না। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের চেষ্টাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেয়। ২০২২ সালের ১০ই এপ্রিল জাতীয় পরিষদের অনাস্থা ভোটে ৩৪২ ভোটের মধ্যে ১৭৪ ভোট সরকার বিরুদ্ধে যাওয়ায় ইমরান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান। তিনিই দেশের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শেহবাজ শরিফ।
২০২২ সালের অক্টোবরে তোষাখানা মামলায় পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন তাঁকে সরকারি পদে অধিষ্ঠিত থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে। পরের বছর মে মাসে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আধাসামরিক বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারিকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে, ইমরান জামিন পান। পরের বছর আগস্ট মাসে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির তোষাখানা মামলায় আবার দোষী সাব্যস্ত হন, সেই গ্রেফতারি থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় জমি চুক্তির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতির জন্য চোদ্দ বছর, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলায় গোপন কূটনৈতিক কেবল ফাঁস করার জন্য দশ বছর, অবৈধ বিবাহ মামলায় বিবাহ আইন লঙ্ঘনের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড।
এইভাবে বহু মামলার কারাদণ্ড ঝুলছে ইমরানের মাথায়। ইমরান ভেবেছিলেন, তার ক্রিকেট সত্তা, পশতুন পরিচয় ও রাজনৈতিক জনপ্রীতিতে মুনির শঙ্কিত থাকবেন, বেশি দূর এগোবেন না। কিন্তু তা হল না। পাকিস্তানে সবার ওপর আর্মি। সেখানে অন্য কোনও পরিচয় যথেষ্ট নয়। আদালত অব্যাহতি না দিলে, বা পাকিস্তানে শাসন পরিবর্তন না হলে ইমরান খানকে হয়তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলেই কাটাতে হবে (Asim Munir)।
মুনিরের চালিকা শক্তি
সামরিক বাহিনী ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের বৈদেশিক নীতি, অর্থনীতি এবং রাজনীতি সহ জাতীয় বিষয়গুলিতে চিরকালই নাক গলিয়ে আসছে। বেসামরিক সরকার যত দুর্বল সামরিক দাপট তত বেশি। দেশের দুই শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এবং পাকিস্তানের সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর মহাপরিচালক থাকার সুবাদে দেশের তাবড় তাবড় নেতা-নেত্রীদের বিপদে ফেলার মতো যথেষ্ট তথ্য মজুদ রেখেছেন তিনি। সবা নেতাই মুনিরের ভয়ে তটস্থ। মুনিরের এই উত্থানকে প্রতিরোধ করার মতন শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও নেতা কোনওটাই পাকিস্তানে নেই। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিশাল রিয়েল এস্টেট ব্যবসা।
ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি, ফৌজি ফাউন্ডেশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তহবিল ব্যপক। এছাড়া আসকারি বাঙ্ক, সিমেন্ট, দুগ্ধ, পরিবহণ-সহ একশোটির বেশি বাণিজ্যিক সংস্থাও চলে আর্মি নজরদারিতে। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করার রীতি নেই। ফলে যখন যা খুশি করার মতো অর্থ, অস্ত্র ও লোকবল আছে আর্মি প্রধানের।
আমেরিকা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও, সামরিক শাসক বা অবৈধ ক্ষমতা দখলদারদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের জুনে আসিম মুনিরকে ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ব্যতিরেকে হোয়াইট হাউজে সেনাপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো নজিরবিহীন। একুশে জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় (ফোর্ডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান) বিমান হামলা করে। পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের ইরানের নয়শো কিলোমিটার বর্ডার থাকায় আমেরিকা পাকিস্তানের গ্রাউন্ড ও এয়ারস্পেস ব্যবহার করার ভাবনায় ছিল। তাই মুনিরকে এত আপ্যায়ন (Asim Munir)।
পরে আমেরিকা অবশ্য জানায়, তারা বি-২ বোমারু বিমানগুলি মিসৌরিতে তাদের ঘাঁটি থেকে উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপীয় এবং মধ্য প্রাচ্যের আকাশসীমা দিয়ে অবিরাম, মাঝ-বায়ু রিফুয়েলযুক্ত রুটে ইরানে উড়িয়ে এনেছিল। পাকিস্তানকে প্রয়োজন হয়নি কিন্তু ট্রাম্পের নিকট বৃত্তে ডুকে পড়েন ফিল্ড মার্শাল মুনির। এরপর আরও দুইবার (আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে) মুনিরকে হোয়াইট হাউসে দেখা গেছে, একবার একা আর একবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে।
মুনিরকে দিয়েই আমেরিকা পাকিস্তানকে হাতের মুঠোয় রাখতে চায়। ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে যুদ্ধবিরতি এসেছে, আণবিক সংঘর্ষ এড়ানো গেছে, এই ধরনের স্টেটমেন্ট আদায় করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলির জানিয়েছিলেন, জেনারেল মুনির ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরষ্কারের পক্ষে পাকিস্তানের সহমত থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পাকিস্তান সরকারও বিবৃতি দিয়ে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন করে।
এক রাষ্ট্র আর এক রাষ্ট্রের দিকে ছোটে তার সম্পদের লোভেই। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন সেই দেশেই এসেছে যেখানে সম্পদ আছে। ট্রাম্পের দরবারে তাদেরই কদর যাদের দেওয়ার ক্ষমতা আছে। মুনির অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যাক্তি, খালি হাতে যাননি ট্রাম্পের কাছে। তার সঙ্গে ছিল বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর নমুনা সম্বলিত বাক্স। এটি কোনও প্রচলিত উপহার ছিল না বরং পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের একটি কৌশলগত উপস্থাপনা। নমুনাগুলির মধ্যে ছিল অ্যান্টিমনি, প্রাসিওডিমিয়াম, নিওডাইমিয়াম, কপার কনসেনট্রেট প্রভৃতি যা প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিশেষ কাজে লাগে। এইসব খনিজ বেলুচিস্তান খনিতে ভরপুর তবে তোলার অবকাঠামো বা প্রযুক্তি কোনওটাই নেই পাকিস্তানের। এই খনিজে এতকাল ছিল চিনের আধিপত্য (Asim Munir)।
আমেরিকার বাণিজ্যিক সংস্থা ইউএসএসএম বা ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালসকে এই খনিজ উত্তোলনের সুবিধা দিয়ে ট্রাম্পের আস্থাভাজন হতে চায় মুনির। বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর ও একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) চিনের নিয়ন্ত্রণে এনে বালুচ বিদ্রোহ দমন করা যায়নি। এবার মার্কিন সংস্থা এনে বালুচ বিদ্রোহের অভিমুখ পাল্টানোর চেষ্টা। ইউএসএসএম আসর ব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও, মুনির নিজের স্কোর বাড়িয়ে নিয়েছেন।
একুশ সালের ২৬ আগস্ট আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটে এক মারাত্মক আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন মার্কিন সামরিক পরিষেবা সদস্য সহ ১৮২ জনের মৃত্যু হয়। মূল সন্দেহভাজন আইএসআইএস-কে কমান্ডার, মোহাম্মদ শরিফুল্লাহ ওরফে জাফরকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান। এ বছরের গোড়ায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করলে ট্রাম্পের নজরে আসেন মুনির।
ট্রাম্প-মুনির সমঝোতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি পণ্যের উপর শুল্ক প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ হারে এসেছে। এতে পাকিস্তানি টেক্সটাইল শিল্প উল্লসিত। ভারত থেকে বেশিরভাগ পণ্যের উপর স্ট্যান্ডার্ড মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ। বোঝাই যাচ্ছে, মুনির কাজ গোছাতে কতটা দক্ষ। আমেরিকা বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে ২০১৯ সালে বিশেষ মনোনীত গ্লোবাল টেররিস্ট (এসডিজিটি) বলে মনে করত। এই প্রক্রিয়ায় কেবল সংস্থার তহবিল বন্ধ করা যায়। মুনিরের দৌত্যপনায় এগারো আগস্ট থেকে বিএলএ ও তার আত্মঘাতী স্কোয়াড, মজিদ ব্রিগেডকে, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) বলে মনে করে। এফটিও-কে জেনেশুনে বস্তুগত সহায়তা বা সংস্থান সরবরাহ করা অপরাধ। এফটিও গুলির কোনো সদস্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না (Asim Munir)।
মুনিরের ভারত বিরোধী হুঙ্কার
স্বাধীনতার পর থেকে অসংখ্য পাকিস্তানি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা ভারতকে শায়েস্তা করার নানান পরিকল্পনা করে আসছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৬৫ সালে কাশ্মীরে জঙ্গি পাঠিয়ে ভারতকে জব্দ করার গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন ‘অপারেশন জিব্রাল্টার’। অবশ্য তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলি ভুট্টো ১৯৬৫ সালের বাইশে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে যুদ্ধের রব তুলেছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি– ‘আমরা (পাকিস্তান) ঘাস বা পাতা খাব, এমনকী ক্ষুধার্ত থাকব, তবে আমরা আমাদের নিজস্ব একটি (পরমাণু বোমা) পাব… আমাদের আর কোনও উপায় নেই!’
৬ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েলের সফল প্রি-ইম্পটিভ স্ট্রাইক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করতে পাকিস্তানের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ও জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের তেসরা ডিসেম্বর ভারতের একাধিক বিমান ঘাঁটিতে হামলা করে। কুখ্যাত ভারত লুণ্ঠনকারীকে বন্দিত করতে এই হামলার নাম হয় ‘অপারেশন চেঙ্গিজ খান’। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে, ইয়াহিয়া খান বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নৃশংস ভাবে দমন করতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে, স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করায় শুরু হয় বাংলাদেশ মুক্তি আন্দোলন। ইয়াহিয়া খান ভেবেছিল, ভারতকে পশ্চিমী ফ্রন্টে ব্যস্ত রেখে, বাংলাদেশের মুক্তি ভাবনা নস্যাৎ করবে। পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করে যোগ্য জবাব দেয় ভারত। ইয়াহিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হন (Asim Munir)।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ১৯৯৯ সালের উচ্চ উচ্চতার কার্গিল অনুপ্রবেশের স্থপতি। মুনির একাধিক উস্কানিমূলক বিবৃতিতে ভারতকে জব্দ করার কথা বলেছেন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলা তাঁর পরিকল্পনা প্রসূত। সেই সময় মুনির আইএসআই প্রধান ছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন মাটি থেকে হুমকিতে মুনির বলেছেন, পাকিস্তান যদি অস্তিত্বের হুমকির মুখোমুখি হয় বা ভারত শত্রুতা শুরু করে তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। এই আগস্ট মাসের আগস্ট এক বহুল প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক দেশ।
যদি আমরা মনে করি যে আমরা নিচে যাচ্ছি, তবে আমরা আমাদের অর্ধেক পৃথিবীকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাব।’ তার আরও একটা বিখ্যাত হুঙ্কার, ‘আমরা ভারতের একটি বাঁধ নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করব এবং যখন এটি করবে তখন আমরা দশটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করব’। তিনি কাশ্মীর ইস্যুকে পাকিস্তানের ‘জুগুলার শিরা’ (প্রধান শিরা যা মস্তিষ্ক, মুখ এবং ঘাড় থেকে ডিঅক্সিজেনেটেড রক্ত নিষ্কাশন করে হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে দেয়) বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মুনিরের ‘জিহাদি মানসিকতা’ ধরা পড়েছে বারে বারে। তিনি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ‘বৈধ সংগ্রাম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাকিস্তান তার ‘কাশ্মীরি ভাইদের’ ‘কখনই পরিত্যাগ করবে না’, এমন আওয়াজও তুলেছেন। তার কাছে ভারতের উপর জিহাদি আক্রমণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে ‘বৈধ সংগ্রাম’ বা ‘আল্লাহর যুদ্ধ’। তিনি প্রায়শই কুরআনের আয়াত এবং ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ ব্যবহার করে, কাশ্মীর সংঘাতকে ধর্মযুদ্ধ হিসাবে ব্যাখা করেন। মুনির এখন আতঙ্কবাদীদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। এপ্রিলের পহেলগাম হামলায় বেছে বেছে হিন্দু দর্শনার্থী মারা মুনিরের বিকৃত চিন্তার ফসল।
ভারত-পাকিস্তান আণবিক যুদ্ধ কি মুনিরের হাত ধরে?
ভারতের সামরিক বাহিনীর হাতে অস্তিত্বের বিপদ আসলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। পাকিস্তান এটাই বলে এসেছে। বড় ধরনের ভূখণ্ড হ্রাস, গুরুত্বপূর্ণ শহরের পতন বা বিধ্বংসী প্রচলিত আক্রমণকে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ‘অস্তিত্বের সঙ্কট’ ভাবতেই পারে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস-এর মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থার ধারণা, পাকিস্তানের প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই ওয়ারহেডগুলি বিমান এবং বিভিন্ন স্থল-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা যায়। পাকিস্তানে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে দশটি নতুন ওয়ারহেড তৈরির ব্যবস্থা আছে। পাকিস্তানের শর্ট-রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আবদালি, গজনভি, শাহীন-আই/এ এবং নাসর, মাঝারি-পরিসরের মধ্যে পরে গৌরি এবং শাহীন-২ (Asim Munir)।
একটি একক পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে কয়েক হাজার তাত্ক্ষণিক হতাহত হতে পারে। বিকিরণের সংস্পর্শে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ আহত বা মারা যেতে পারে এর সঙ্গে আছে অবকাঠামো ধ্বংস এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব। ভারত ‘প্রথম ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে, পাকিস্তান করে না। তবে, উভয় দেশই বুঝতে পারে যে পারমাণবিক অস্ত্রের যে কোনও ব্যবহারে ভয়ঙ্কর আণবিক প্রতিশোধ আসবে, তাতে তাদের নিজের দেশ সম্পূর্ণ ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে। ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলা এবং এবছরের ভারত পাক সংঘর্ষ সাবধানতার সঙ্গে আণবিক সীমারেখার নীচে রাখা হয়েছিল। উভয় পক্ষই সর্বাত্মক যুদ্ধের সূত্রপাত এড়াতে সময় মতন ব্যবস্থা নিয়েছে। পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
নয়টি সন্ত্রাসী শিবির সফলভাবে ধ্বংস এবং এগারোটি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পাকিস্তানের পরের লাইন অফ ডিফেন্স ছিল আণবিক মিসাইল ব্যবহার। সে দিকে যাওয়া যে হঠকারিতা বুঝতে পেরেই সামরিক হটলাইনের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। ভারতের লক্ষ্য ছিল কেবল সন্ত্রাসবাদ ও তার মদতদাতাদের নির্ণায়ক জবাব দেওয়া।
তাই মুনির যতই পরমাণু বোমার কথা বলুন, বাস্তবে এর কোনও ভিত্তি নেই। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস-এর মতো সূত্র অনুসারে, বিশ্বে এখন ১২,২৪১টি সজীব পারমাণবিক ওয়ারহেড নয়টি দেশের দখলে আছে। ১৯৪৫ সালের আগস্টে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। সবাই এটা বোঝে যে দুই বা ততোধিক বিরোধী পক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংস (এমএডি বা ম্যাড) অনিবার্য। মুনির যেটা করছে তা হল পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল। এটি জোরপূর্বক কূটনীতির অঙ্গ (Asim Munir)।
পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়াই ‘পারমাণবিক’ ভয়ের উপর নির্ভর করে রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনই এর লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, একে বলে ‘পারমাণবিক বিপর্যয়-ঝাঁকুনি’ বা ‘স্যাবার-রেটলিং’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারত আর পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল সহ্য করবে না’ এবং ভারতের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও দুঃসাহসিক অভিযানের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পাকিস্তানের ‘আণবিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করুক।
আণবিক হামলার হুমকি আজকাল কেউ সিরিয়াস ভাবে না। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে বারবার পারমাণবিক হুমকি দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের জন্য পশ্চিমা সমর্থন রোধ করতে, সেটাও ছিল ‘স্যাবার-রাটলিং’-এর একটি রূপ। তাই মুনির যতই গর্জন করুন, পারমাণবিক মিসাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে যুদ্ধ হবে না, তা নয়, সেই আড়াই তিন দিন (Asim Munir)।