গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি নতুন নয় উত্তরপ্রদেশে। আবার সেই দুষ্কৃতীদের এনকাউন্টার করা হয় অহরহ। তাতেও দুষ্কৃতীরাজ বন্ধ হয়নি উত্তর প্রদেশে। এবার দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। অপরাধীকে ধরতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে দুষ্কৃতীদের হাতে ওই কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রথম নয়, এর আগেও দুষ্কৃতীদের নিশানা হয়েছে পুলিশ। একাধিক অফিসার বা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে রাজ্য সরকার। আগের মতো দাপট না থাকলেও এখন অনেকটাই কমেছে দুষ্কৃতীদের প্রভাব। তবে দুষ্কৃতীরা যে একেবারে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে, তা কিন্তু বলা যাবে না। এবার একটি মামলায় অভিযুক্ত কাদির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে গাজিয়াবাদের নাহাল গ্রামে যায় মসুরি থানার পুলিশ। কাদির নামে ওই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী সেখানে লুকিয়ে রয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ।
এরপরই তাকে ধরতে সেখানে পৌঁছয় নয়ডা পুলিশের একটি দল। কিন্তু পুলিশ পৌঁছতেই গ্রামবাসী পাথর ছুড়তে শুরু করে। আচমকা এই হামলার কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে পুলিশ। সেই সময়ই গ্রামবাসীর ভিড়ের মধ্য থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলি লাগে কনস্টেবল সৌরভ সিং গোয়েলের বুকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সেখানে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। বাকি পুলিশ অফিসাররা সেখানে থেকে কোনও মতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী কাদিরের বিরুদ্ধে মোট ২৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অনেকদিন ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। কিন্তু বাগে আসছিল না। গাজিয়াবাদের নাহাল গ্রামে সে আছে জানতে পেরে পুলিশ সেখানে হানা দেয়। তাঁকে ধরতে গিয়ে প্রাণ গেলে এক পুলিশ কনস্টেবলের। পুলিশের ওপর হামলার সময় কাদিরকে পালাতে সাহায্য করে ওই দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনা প্রমাণ করল প্রশাসন দুষ্কৃতী দমনে সাফল্যের যে কথা তুলে ধরে, তা যে সম্পূর্ণ ঠিক নয় সেটা বোঝা গেল। এখনও রাজ্যের অনেক জায়গায় দাপট আছে দুষ্কৃতীদের। আর সেই দুষ্কৃতীরা এতটাই দাপুটে যে এক পুলিশ অফিসারের প্রকাশ্যে খুন করতে ভয় পায় না।