ad
ad

Breaking News

Kalighat

কালীক্ষেত্র কালীঘাটে মা লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হয় দেবীকে

কালীক্ষেত্র কালীঘাট এক মহাপীঠ। যুগ যুগ ধরে বাঙালি শক্তির উপাসক। বাংলার শহর থেকে গ্রামগঞ্জে যেখানে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে মাকালী বা শ্যামাকালীর আরাধনা করা হয় থাকে তখন কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা হয় কালীপুজোর দিন কালীঘাটে।

Goddess is worshiped as Maa Lakshmi at Kali Kshetra Kalighat

Bangla jago Desk, মৌ বসু: কালীক্ষেত্র কালীঘাট এক মহাপীঠ। যুগ যুগ ধরে বাঙালি শক্তির উপাসক। বাংলার শহর থেকে গ্রামগঞ্জে যেখানে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে মাকালী বা শ্যামাকালীর আরাধনা করা হয় থাকে তখন কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা হয় কালীপুজোর দিন কালীঘাটে। কালীপুজোর দিন কালীঘাটে দেবীকে পুজো করা হয় মালক্ষ্মী হিসাবে।

[আরও পড়ুনঃ শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত পরিমাণে জল খাচ্ছেন? তাহলে হতে পারে শারীরিক সমস্যা

কবির ভাষায় বললে—
“কালীঘাটের কালী তুমি কৈলাশের ভবানী-
পাতালেতে ছিলে তুমি হয়ে ভদ্রকালী।”
আসলে এই কালীই মহালক্ষ্মীর রূপ নিয়ে অসুর বধ করেছিলেন। শক্তি, তারা বা কালী, সবই আসলে এক, স্রেফ পূজিতা হন ভিন্ন রূপে। আসলে অন্য যে কোনো জায়গার দুর্গাপুজোর থেকে কালীঘাটের মন্দিরে দুর্গাপুজোর নিয়মে ব্যতিক্রম আছে। কালীঘাটে দুর্গাপুজোর কল্পারম্ভ হয় মহালয়ার আগের নবমী তিথি থেকে। কোনো বছর মলমাস পড়লে এই বোধনের সময় এক মাস এগিয়ে যায়। এছাড়াও কালীঘাটের দেবীপুজোয় ২টো নবপত্রিকা মহাষষ্ঠীর দিন স্থাপন করে পুজো করা হয়। নাটমন্দিরে নবপত্রিকার স্থাপন করা হয়। মহাসপ্তমী থেকে মহানবমী পর্যন্ত একসঙ্গে ৫ জন পুরোহিত সন্ধ্যারতী করেন।

ভোগ নিবেদনেও কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বিজয় দশমীর দিন শ্যাম ও রাইকে নাটমন্দিরে নিয়ে আসা হয়। আলাদা ভোগ হয়। কালীঘাটে বিসর্জনও হয় আলাদা নিয়মে। সেবায়ত শাঁখ, ঘণ্টা ও কাঁসর বাদ্য সমেত ৩ বার নবপত্রিকা সমেত মন্দির প্রদক্ষিণ করেন। তারপর গঙ্গায় তা বিসর্জন দেওয়া হয়। ফের নাটমন্দিরে সবাই ফিরে আসেন। শুরু হয় দেবী কালীর আরতী। দুর্গাপুজোর মতোই কালীপুজোতেও ব্যতিক্রম নিয়ম লক্ষ্য করা যায়। দীপান্বিতা কালীপুজোর দিন সন্ধ্যা নামতেই মন্দিরের চারপাশে সাত পাক ঘোরার পরে খড়ের পুতুলে আগুন ধরিয়ে অলক্ষ্মী বিদায় করা হয়।

তারপর অমাবস্যা তিথিতে হয় মহালক্ষ্মীর পুজো। ওইদিন রোজের মতো ভোগ নিবেদন করা হয়। কালীঘাটের সব সেবায়তের বাড়ি থেকে ভোগ নিবেদন করা হয়। কালীঘাটের মা দক্ষিণা কালীকে মহালক্ষ্মী রূপে পুজো করার পর লক্ষ্মী রূপেই ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর হয় আরতী। আধুনিক কালীঘাট মন্দির নির্মাণ করে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার।

[আরও পড়ুনঃ Government Hospital: আমুল বদল হাসপাতালের পরিকাঠামোয়, প্রতিশ্রুতি নয়, কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী

পরবর্তীকালে তাদের আত্মীয় গঙ্গাপ্রসাদ চক্রবর্তীকে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই গঙ্গাপ্রসাদ ছিলেন পরম বৈষ্ণব। মনে করা হয়, গঙ্গাপ্রসাদের আমল থেকেই কালীপুজোর রাতে মহালক্ষ্মী বা ধনলক্ষ্মীর পুজো প্রচলিত হয়েছে। লক্ষ্মী পুজো যে’হেতু সন্ধ্যাবেলার পুজো। সে’সময় মা কালীকে মহালক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। পুজোয় খই, নাড়ু, মুড়কী, মিষ্টি, ফল, লুচি, তরকারি দেওয়া হয় পুজোর সময়। সন্ধ্যের পুজো শেষ হয়ে গেলে রাতে আরও একবার ভোগ নিবেদন করা হয়।