চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ সমেত বিভিন্ন মন্দির রয়েছে বাংলায়। কিন্তু জানেন কি কোথায় রয়েছে অপূর্ব টেরাকোটার কারুকাজ-সহ বাংলার প্রথম মসজিদ? হুগলির ত্রিবেণীতে গেলে দেখতে পাওয়া যায় জাফর খান গাজি নামাঙ্কিত বাংলার প্রথম মসজিদ (Zafar Khan Ghazi)।
উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের ত্রিবেণীর মতোই বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু পুণ্যার্থীরা পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসাবে হুগলির গঙ্গা তীরের ত্রিবেণীতে আসেন। এমনকি, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গলেও উল্লেখ রয়েছে ত্রিবেণীর। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেল রুটে পড়ে ত্রিবেণী। হাওড়া ও শিয়ালদহ, ২ দিক দিয়ে যাওয়া যায় হুগলির ত্রিবেণীতে। হুগলি নদীর তীরে ত্রিবেণীতে রয়েছে জাফর খান গাজির নামাঙ্কিত দরগা। এই দরগার ভেতরে রয়েছে মসজিদ যা শুধু বাংলার সবচেয়ে পুরনো মসজিদ নয় পাশাপাশি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মসজিদ।
দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দক্ষ মুসলমান সেনাপতি ছিলেন জাফর খান গাজি। ১৩ শতকে দিল্লির বাদশাহ ফিরোজ শাহর নির্দেশে বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে হামলা চালান জাফর খান গাজি। যুদ্ধে হার হয় হিন্দু রাজার। হুগলির ত্রিবেণীর কাছে হয় সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিজয়ের পর শাসকের কুর্সিতে বসেন জাফর খান গাজি। মসজিদের সামনে ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের বসানো হোর্ডিংয়ে লেখা ১৩ শতকে দরগা তৈরি করেন জাফর খান গাজি। তিনিই বাংলায় তুর্কি শাসনের সূচনা করেন (Zafar Khan Ghazi)।
দরগার ভেতরে রয়েছে মসজিদ আর জাফর খান গাজি ও তাঁর বেগম উঘওয়ান খান ও ৩ ছেলে ও ২ নাতির কবরস্থান। পাথর ও ইট গাঁথা মসজিদ ও দরগা। বাংলার প্রাচীন মসজিদের স্থাপত্যরীতি অসাধারণ। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য হল দরগা ও মসজিদের গায়ে খোদাই করা রয়েছে হিন্দু ধর্মের পবিত্র নানান মোটিফ। দরগার দরজায় রয়েছে মঙ্গলঘটের মোটিফ। কোথাও কল্পলতা, কোথাও তারা, ফুল, প্রদীপ, তেমনই মসজিদের দেওয়ালে খোদাই করা রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক। দেখেও থমকে যেতে হয়। দরগায় রয়েছে বহু বিষ্ণুমূর্তি, বুদ্ধমূর্তি জৈন তীর্থঙ্কর পরেশনাথের মূর্তি। এভাবেই বাংলার প্রথম মসজিদ মিলেমিশে একাকার ৪ ধর্ম।
গোটা মসজিদ ও দরগা ইট ও পাথর দিয়ে অদ্ভুত কায়দায় বানানো। গঙ্গা তীরের মনোরম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যান ইমানদার মুসলমান জাফর খান গাজিও। মসজিদ তৈরির পাশাপাশি তিনি গঙ্গাস্তবও করতেন এমনকি গঙ্গাস্তব লিখতেনও। চণ্ডীমঙ্গল রচয়িতা মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখাতেও উল্লেখ রয়েছে ত্রিবেণীর জাফর খান গাজি ও তাঁর নামাঙ্কিত দরগা ও মসজিদের কথা”পাজোয়ায় বন্দিয়া যাবো শুভি খাঁ পীরে।/ দফর খাঁ গাজীরে বন্দো ত্রিবেণীর ধারে (Zafar Khan Ghazi)।”