চিত্রঃ নিজস্ব
কল্যান বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদঃ স্মারক ডাকটিকিটের প্রতিকৃতি বিলি করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ চৌকি গ্রাম যুবক সংঘের। ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, সংগ্রাম ও ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক অনন্য ও অভিনব উদ্যোগ নিল চৌকি গ্রাম যুবক সংঘ। সোমবার সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক স্মারক ডাকটিকিটের প্রতিকৃতি তৈরি করে তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন স্তরের মানুষের হাতে তুলে দিলেন উদ্যোক্তারা। ডাকটিকিটের মাধ্যমে এই মহান দেশনায়ককে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মনে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার এই অভিনব প্রয়াস এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং সর্বস্তরের বিশিষ্টজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন ভারতের ডাক বিভাগ বিভিন্ন সময়ে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সম্মানার্থে যে সমস্ত স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে, সেগুলির প্রতিকৃতিই এদিন মানুষের হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে দেশের প্রথম অ-কংগ্রেসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাইয়ের আমলে ৬ জুলাই ডঃ মুখার্জির সম্মানার্থে প্রথম ২৫ পয়সা মূল্যের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তাঁর জন্মশতবর্ষে ৪ টাকা মূল্যের এবং ২০১৬ সালে পুনরায় স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। এবার ডঃ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ১২৫ তম জন্ম-জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে স্মারক ডাকটিকিটের এই প্রতিকৃতি বিলির মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পদ্ধতিটি সকলকে মুগ্ধ করেছে। এই তাৎপর্যপূর্ণ শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় উপস্থিত ছিলেন মধ্য বঙ্গ বান্ধব পাক্ষিক পত্রিকার ব্যবস্থাপক তথা প্রণবানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধান অধ্যক্ষ কল্যাণ কুমার মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক চিত্রশিল্পী অভিজিৎ রায় চৌধুরী, দক্ষিণ মালদা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক অয়ন ঘোষ, বিশিষ্ট সমাজসেবী বলদেব সিং এবং ফরাক্কা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার মশিউর রহমান সহ আরও অনেক গুণীজন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণের পাশাপাশি বন্দে মাতরম্ রচনার ১৫০ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণটিকেও অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করে যুবক সংঘ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সৃষ্টিতে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবিস্মরণীয় অবদান এবং ভারতের অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে কাশ্মীরের সুরক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক আন্দোলন ও স্লোগান “এক দেশ মে দো বিধান, দো প্রধান, দো নিশান নেহি চলেঙ্গে”-র প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ আত্মবলিদানের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষ এই বীর সন্তানের স্মৃতিচারণায় অংশ নেন এবং দেশাত্মবোধক নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমগ্র পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে। এই বর্ণাঢ্য ও সফল অনুষ্ঠানের প্রধান ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নবদ্বীপ ঘোষ, সঞ্জয় সাহা সহ যুবক সঙ্ঘের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।