অশান্তির দিন মোফাক্কেরুল অত্যন্ত উত্তেজক বক্তৃতা দিয়ে জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মালদহের কালিয়াচক এবং মোথাবাড়ি এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন তাণ্ডব চলেছিল, তার নেপথ্যে মূল প্ররোচনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম। শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অশান্তির দিন মোফাক্কেরুল অত্যন্ত উত্তেজক বক্তৃতা দিয়ে জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘এই ডিএম, এই এসপি, আয় কে আছিস।’ তাঁর এই মন্তব্য এবং মারমুখী মেজাজ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।
Listen to this provocative speech from yesterday’s protest in Malda.
Speaker identified as Mofakkerul Islam, Calcutta High Court advocate and former AIMIM candidate (2021).
Police are probing his role in last night’s incident.pic.twitter.com/vkBIXPpYQJ
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) April 2, 2026
পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম আদতে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা। এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে ওকালতি করলেও পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা হাই কোর্টেও প্র্যাকটিস শুরু করেন। সপরিবারে কলকাতায় থাকলেও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে বারবার উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টেনে এনেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম-এ যোগ দেন এবং ইটাহার কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হন। তবে সেই নির্বাচনে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল মাত্র ৮৩১টি ভোট।
তদন্তকারীদের দাবি, গত বুধবার মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন মোফাক্কেরুলই জনতাকে সংগঠিত করেছিলেন। তাঁর প্ররোচনাতেই উত্তেজিত জনতা কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভেতর সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখে। শুধু তাই নয়, পুলিশ যখন বিচারকদের উদ্ধার করতে যায়, তখন তাঁদের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের নেপথ্যেও এই আইনজীবীর মস্তিষ্ক ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।
শুক্রবার গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি শুভকামনা জানিয়েছিলেন এবং পরে ফেসবুক লাইভে দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের হয়ে প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁকে ধরা হচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের অভিযোগ, তিনি সুপরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়িয়ে বেঙ্গালুরুতে পালানোর ছক কষেছিলেন। বর্তমানে মালদহে নিয়ে এসে তাঁকে জেরা করা হচ্ছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র গোয়েন্দারাও মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।