চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বাজার সঙ্গেই শুরু হয়েছে প্রচারের উন্মাদনা। কিন্তু এই প্রচারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা শোনাল সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা। ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এয়ার অ্যান্ড ওয়াটার’ নামক সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত প্রায় ১৫,৩৬২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে চলেছে। মূলত হোর্ডিং, ফ্লেক্স, ব্যানার এবং প্লাস্টিকজাত প্রচার সামগ্রী থেকেই এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা তৈরি হবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাধন ঘোষের নেতৃত্বে হওয়া এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগের একাধিক তথ্য। গবেষকদের মতে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ৩০০ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে প্রচার চলে। সেখান থেকে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ও কাগজ বর্জ্য হিসেবে জমা হবে, তার সিংহভাগই পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। এই বর্জ্য শহরের নিকাশি নালা বুজিয়ে বর্ষায় ভয়াবহ জলমগ্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, এই প্লাস্টিক পোড়ানো হলে বাতাসে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও ফিউরান গ্যাস মিশে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবেশবিদদের অভিযোগ, রাজ্যে এই বিপুল বর্জ্য সামলানোর মতো পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। হাওড়া, দুর্গাপুর বা শিলিগুড়ির মতো বড় শহরগুলিতেও আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্ল্যান্ট বা সামগ্রী আলাদা করার বিশেষ ব্যবস্থা নেই। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অতিরিক্ত ১৫ হাজার টন বর্জ্য রাজ্যের পরিবেশকে খাদের কিনারে ঠেলে দিতে পারে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইস্তেহারেই এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনও রূপরেখা বা সদর্থক পদক্ষেপের উল্লেখ নেই।
এই সংকট মোকাবিলায় সমীক্ষক সংস্থাটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, কমিশনকে দ্রুত একটি নির্দেশিকা বা এসওপি তৈরি করতে হবে। এছাড়া আন্দোলনে টায়ার বা আবর্জনা পোড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আর্থিক জরিমানার আওতায় আনার আর্জিও জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবেশবান্ধব নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং জেলাশাসকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছা ছাড়া কমিশনের নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।