চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিপত্যে এবার বড়সড় থাবা বসাতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! আগামী দেড় বছরের মধ্যে ডিম উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর (Self-reliant) হতে চলেছে বাংলা। শুধু নিজেদের ঘাটতি মেটানোই নয়, লক্ষ্য এবার অসম, ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে (North-East India) ডিম রপ্তানি করা। রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের এই মেগা মহাপরিকল্পনায় ডিম-শিল্পে আসতে চলেছে বিপুল কর্মসংস্থান।
এতদিন বাঙালির রোজকার পাতে ডিমের জোগান দিতে অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা অন্য রাজ্যের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হতো পশ্চিমবঙ্গকে। কিন্তু সেই দিন এবার অতীত হতে চলেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের নতুন নীতিতে ডিম উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক মাইলস্টোন ছোঁয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। বর্তমানে রাজ্যে প্রতিদিন ৩ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদিত হলেও এখনও দৈনিক প্রায় ৮০ লক্ষ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই ঘাটতি সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমানে গোটা রাজ্যে প্রায় ৪০০টি পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে, যার পরিধি আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর জন্য রূপরেখা তৈরি করেছে প্রশাসন।
সবচেয়ে বড় চমক হলো, এত দিন অন্ধ্রপ্রদেশের ডিম বাংলার ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে যেত। এবার সেই জায়গা নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ নিজেই। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলা এবার ঝাড়খণ্ড, অসম, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলিতে পাইকারি হারে ডিম পাঠাবে।
এই ডিম বিপ্লবের হাত ধরে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ডিম-শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে ৮ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১২ লক্ষ, অর্থাৎ মোট ২০ লক্ষ মানুষের রুটিরুজি জড়িয়ে রয়েছে। দেড় বছরের মধ্যে এই কর্মসংস্থান আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হাঁস ও মুরগি পালনের মূল দায়িত্বে যুক্ত করা হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মহিলাদের। তবে উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে ডিমের দাম যাতে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে না চলে যায়, তার জন্য কড়া নজরদারি রাখছে রাজ্য সরকার।
ডিম ব্যবসায়ীদের মতে, সয়াবিনের দাম কেজি প্রতি ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৬ টাকা এবং ভুট্টার দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা হওয়ায় মুরগির খাবারের খরচ অনেকটাই বেড়েছে। যার ফলে বর্তমানে চাষিরা পিস প্রতি ডিম ৭ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে খাবারের দাম বৃদ্ধি দেশজুড়ে হলেও বাংলার চাষিদের জন্য বিশেষ ভরতুকি ও নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ পোল্ট্রি ফেডারেশনের আহ্বায়ক মদন মাইতি জানান, “ডিম উৎপাদন বাড়াতে রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী আমাদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং সবরকম পরিকাঠামোগত ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।” সরকারের এই গ্রিন সিগন্যালে ডিম-শিল্পে বাংলা যে দ্রুত সেরার আসন ছিনিয়ে নেবে, তা নিয়ে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।