চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিগত কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কার্যত জবুথুবু দশা গোটা বাংলার। শীত আসবে কি আসবে না—সেই দোলাচল কাটিয়ে বর্তমানে পৌষের কামড়ে কাবু আট থেকে আশি। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতের এই দাপুটে ব্যাটিং আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই। চলতি সপ্তাহজুড়েই রাজ্যজুড়ে বজায় থাকবে এই জম্পেশ ঠান্ডা।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪-৫ দিন তাপমাত্রার বড়সড় কোনো হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং এই সপ্তাহের মধ্যেই পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ আরও ২-৩ ডিগ্রি নামতে পারে। এর ফলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে দিনের বেলাতেও উত্তুরে হাওয়ার দাপটে শরীরে কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলি তাপমাত্রার নিরিখে অনেক ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গকেও টক্কর দিচ্ছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা বীরভূমের মতো একাধিক জায়গায় থার্মোমিটারের কাঁটা ইতিপূর্বেই ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছে।
তবে যারা বছরের শেষ বা নতুন বছরের শুরুতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর দিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের আমেজ যে পুরোপুরি উধাও হবে না, সে বিষয়েও নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। অর্থাৎ, কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চলেছে রাজ্যবাসী। আগামী সাতদিন দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, আবহাওয়া থাকবে মূলত শুষ্ক। ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিলেও বড় কোনো সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। সেখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাথে দোসর হয়েছে ঘন কুয়াশা। দার্জিলিং ও তার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের সমতল এলাকাগুলি ঠান্ডার লড়াইয়ে পাহাড়ি জেলাগুলোকেও টেক্কা দিচ্ছে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই জারি করা হয়েছে কুয়াশার সতর্কতা। আগামী ৫-৬ দিন রাতের তাপমাত্রায় বিশেষ বদল না আসলেও, ঘন কুয়াশার দাপটে দিনের বেলাতেও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হবে।সামগ্রিকভাবে, গোটা বাংলা এখন শীতের মায়াজালে বন্দি। উত্তুরে হাওয়ার দাপট আর নিম্নগামী পারদের রেকর্ড ভাঙা খেলা যে আরও বেশ কিছুদিন চলবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে মৌসম ভবন।