চিত্র: সংগৃহীত
বঙ্গে শীতের আমেজ এখন শেষের মুখে। ভোরের দিকে সামান্য শিরশিরানি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উধাও হচ্ছে হিমেল পরশ। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ দানা বাঁধছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের জেরে রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই; বরং আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা বাড়ারই ইঙ্গিত রয়েছে (Weather Report)।
হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশা উপকূলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে হাওয়ার দাপট কমে আসায় দক্ষিণবঙ্গে রোদের তেজ বাড়ছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির গণ্ডি ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
তিলোত্তমাতেও শীতের আমেজ দ্রুত ফিকে হয়ে আসছে। গত বুধবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির আশেপাশে থাকলেও শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে তা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। দিনের বেলায় রোদের দাপট বাড়লেও মহানগরীতে বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই (Weather Report)।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও পারদ ঊর্ধ্বমুখী। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও সমতলের মালদা বা শিলিগুড়িতে তা ১৭ থেকে ১৯ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, রাজ্যে শীত বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি সামান্য বাড়লেও আকাশ মূলত পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর (Weather Report)।