চিত্রঃ নিজস্ব
শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর:- পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসড) দুই ভোটার অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাজির মেদিনীপুর শহরের জেলাশাসকের কার্যালয়ের শুনানিকেন্দ্রে। তাঁরা ২৩৬ মেদিনীপুর বিধানসভার অধীন মেদিনীপুর পুরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের পালবাড়ি এলাকার ২৪০নং বুথের ভোটার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই বুথের ২৪৮ জন ভোটারকে ‘ভুল’ ঠিকানাযুক্ত নোটিশ ধরানো নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে শহরে। তার মধ্যেই জেলাশাসকের কার্যালয়ের শুনানিকেন্দ্রে দুই সত্তরোর্ধ অসুস্থ (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) ভোটার অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে হাজির হন শুনানির জন্য। মেদিনীপুর শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পালবাড়ি এলাকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ২৪০নং বুথের বাসিন্দা শেখ মনিরুদ্দিনের জন্ম ১৯৬০ সালে। একসময় থাকতেন শহরের ২০নং ওয়ার্ডের নজরগঞ্জ এলাকায়। তবে, বছর তিরিশ আগে চলে আসেন পাশের ওয়ার্ডে (১৮নং)-র পালবাড়ি এলাকায়। সেখানেই এখন স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
যদিও, শেখ মনিরুদ্দিন সহ ওই এলাকার (পালবাড়ির) যে ২৪৮ জন ভোটার শুনানির নোটিশ পেয়েছেন, সকলের ঠিকানাই পালবাড়ি পরিবর্তে লেখা (বা, ছাপা) হয়েছে তালপুকুর। এই তালপুকুর আবার শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। বুধবার অ্যাম্বুল্যান্সে বসে মনিরুদ্দিনের স্ত্রী পিয়ারজান বিবি জানান, তাঁর নাম রয়েছে ২০০২-এর তালিকায়। কিন্তু, তাঁর স্বামীর নাম কোন কারণে সেই সময় তালিকায় ওঠেনি। ২০২৫-এর ভোটার লিস্টে ক্রমিক নম্বর ২৫২-এ নাম রয়েছে মনিরুদ্দিনের। তাঁর বাবার নামের সাথে ম্যাপিং করা হলেও, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে ম্যাপিং হয়নি। তাই ধরানো হয়েছে শুনানির নোটিশ। এদিকে, গত ৬ মাস ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত শেখ মনিরুদ্দিন। হাত-পা নাড়াতে পারেন না, কোন রকমে বসাতে হয়। কথাও বলতে পারেন না। বাধ্য হয়েই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানান পিয়ারজান বিবি। অন্যদিকে, ওই একই ওয়ার্ডের আলিমা বিবিও পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসড) রোগী। পালবাড়িতে বছর ৩০ ধরে থাকেন। আগে থাকতেন নজরগঞ্জে। ১৯৬০ সালে জন্ম। ২০০২-এর তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু, তাঁর স্বামীর নামের বানান ভুল রয়েছে। তাঁর বৌমা রূপসানা বিবি বলেন, ‘বিএলও বাড়িতে নোটিশ দিয়ে গিয়েছিলেন। তাই অসুস্থ থাকা সত্বেও নিয়ে আসতেন বাধ্য হয়েছি।’ ছেলে শেখ রাজেশ বলেন, ‘বাড়িতে শুনানির জন্য বিএলও-কে বলেছিলাম। ব্যবস্থা হয়নি। বুধবার আমাদের কাউন্সিলর (তথা, পুরপ্রধান) সৌমেন খান অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেন। তাতে করেই শুনানিতে নিয়ে এসেছি।
এদিকে, শুনানিতে নিয়ে আসার পর আধিকারিকরা বলেন, বাড়ি নিয়ে চলে যান, বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে। কার ভুলের জন্য এই অসুস্থকে নিয়ে আসতে হলো বুঝতে পারছি না!’ এদিন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা অ্যাম্বুলেন্সে উঠেই দু’জনের শুনানি করেন। ওই বুথের বিএলও বিবিতা সিং বলেন, ‘শুনানির জন্য চিঠি দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু জানানো হয়নি অসুস্থ। যখন জানতে পারি, তখন কমিশনের তরফে জানানো হয় মেডিক্যালের কাগজ সহ একটা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই কাগজ জমা পড়েনি।’ ইআরও তথা মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হচ্ছে। শহরে চার জনের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হয়েছে। কেউ অসুস্থ বা বয়স্ক হলে, আবেদনের ভিত্তিতে বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে।’