চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে উঠে এল এক বড় আপডেট। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিল শীর্ষ আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে বা সংশোধন করতে মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেটের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি বা সহায়ক নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়া যাবে। এটি মূলত বয়স এবং অভিভাবকত্বের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই প্রসঙ্গে জানান, মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেটে অনেক সময় জন্মতারিখ বা বাবার নাম উল্লেখ থাকে না, যা অ্যাডমিট কার্ডে স্পষ্টভাবে থাকে। বাংলার বিচারব্যবস্থায় এই নথির গুরুত্ব সম্পর্কে বিচারকরা অবগত, তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে একটি ‘স্ট্যান্ড অ্যালোন’ বা একক নিরপেক্ষ নথি হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে কিছুটা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আধার কার্ডের মতো এটি সব ক্ষেত্রে একক নথি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এর প্রত্যুত্তরে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে মূল নথির বিকল্প নয়, বরং সহায়ক নথি হিসেবেই ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা ইআরও (ERO) এবং এইআরও-দের (AERO) কাছে যে সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু এখনও সিস্টেমে আপলোড করা সম্ভব হয়নি, সেই সব নথি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তিন দিন আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও ত্রুটিমুক্ত করতে চাইছে আদালত।