চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: জাতীয় স্তরের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (Viswa Bharati University) একসময় ছিল বিকল্প শিক্ষার পথিকৃৎ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত ভবন, কলাভবন, চাইনিজ, জাপানিজ, টিবেটিয়ান ভাষা বিভাগের মতো প্রথাগত শিক্ষার বাইরের নানা বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। একসময় যেখানে এসব বিভাগে ভর্তি হতে ছাত্রছাত্রীরা লাইন দিতেন, সেখানে আজ সিট পড়ে আছে ফাঁকা।
সাম্প্রতিক CUET (Common University Entrance Test) পরীক্ষার ফলাফলের পর বিশ্বভারতীতে (Viswa Bharati University) ভর্তির তালিকা প্রকাশ হতেই সামনে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। সিট সংখ্যা থাকলেও অধিকাংশ বিভাগেই ভর্তির হার আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে চাইনিজ, জাপানিজ, টিবেটিয়ান ইত্যাদি বিভাগে যা একসময় বিশ্বভারতীর গর্ব ছিল, সেখানেও ভর্তি হার খুবই কম।
[আরও পড়ুনঃ Medical Theft: হাসপাতাল থেকে দামি যন্ত্রাংশ চুরি! টেকনিশিয়ান পরিচয়ে অভিনব কায়দায় হাতেনাতে ধরা পড়ল চোর]
শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছেন, এর মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত র্যাংকিং অবনমন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনা শেষ করার পর ভালো চাকরির সুযোগ, ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে, ছাত্রছাত্রীরা অল ইন্ডিয়া র্যাংকিং-এ এগিয়ে থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকেই ঝুঁকছেন।(Viswa Bharati University)
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial]
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিশ্বভারতীর (Viswa Bharati University) প্রশাসনিক অস্থিরতা, অতীতের নানা বিতর্ক এবং মানোন্নয়নে ঘাটতির জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ছাত্রদের আস্থা কমছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময়কালের নানান সিদ্ধান্ত ও সংঘাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
বিশ্বভারতী সম্প্রতি ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পেলেও তা ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ ফেরাতে পারছে না। আর সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে—প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বিকল্প শিক্ষার আদর্শ নিয়েই গঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার মৌলিক দর্শন ও আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে কি?