ad
ad

Breaking News

Nandita Sardar

দিনমজুর বাবার হাত ধরে সাফল্যের শিখরে, ৯০ শতাংশ দৃষ্টিহীনতা নিয়েও ফুটবলে ম্যাজিক দেখাচ্ছে নন্দিতা

এর আগেও দিল্লি ও হরিয়ানা দলের বিরুদ্ধে খেলেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে নন্দিতা। আশ্চর্যের বিষয়, খুব বেশিদিন হয়নি ফুটবলে হাতেখড়ি তার।

Inspirational Story of Nandita Sardar: Visually Impaired Footballer

চিত্র: সংগৃহীত

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: জেলার নবদ্বীপের এক অদম্য কিশোরী বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার নাম। প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিহীন নন্দিতা সর্দার সম্প্রতি দেরাদুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার দলকে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। অল্পের জন্য রানার্স আপ হলেও তার লড়াই ও পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো আর সামান্য ব্যবধানে প্রথম স্থান হাতছাড়া হয় (Nandita Sardar)।

এর আগেও দিল্লি ও হরিয়ানা দলের বিরুদ্ধে খেলেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে নন্দিতা। আশ্চর্যের বিষয়, খুব বেশিদিন হয়নি ফুটবলে হাতেখড়ি তার। তবু স্বাভাবিক গতিতেই নয়, দুরন্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে সে পেয়ে যায় জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ। বর্তমানে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলছে নন্দিতা, আর গোলের সামনে তার আত্মবিশ্বাস প্রশংসনীয়।

নবদ্বীপের নবদ্বীপ এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নন্দিতা ফুটবলকে শুধু খেলা নয়, ভবিষ্যৎ হিসেবেই বেছে নিয়েছে। সে জানিয়েছে, আগামী দিনে ফুটবল খেলেই এগিয়ে যেতে চায় এবং দেশের জার্সিতে মাঠে নামাই তার স্বপ্ন। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে পরিবার, স্কুল এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের অকুণ্ঠ সমর্থন (Nandita Sardar)।

নন্দিতার বাবা পবিত্র সর্দার, যিনি পেশায় দিনমজুর, মেয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। নদিয়া জেলার এক আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা পবিত্রবাবু নিজেই মেয়েকে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণ দেন। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় তিনি মেয়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে অনুশীলন করান, পাশে থেকে সাহস জোগান। নন্দিতার মা গৃহবধূ, দরিদ্র পরিবারের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মেয়ের স্বপ্নে কোনও বাধা হতে দেননি তারা।

নন্দিতার সাফল্যে গর্বিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব চ্যাটার্জী। তাঁর কথায়, “নন্দিতা প্রমাণ করেছে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনও মনের শক্তিকে আটকাতে পারে না।” অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর পরিবার-স্কুলের সহায়তায় নন্দিতা সর্দার আজ শুধু একটি নাম নয়, সে বহু দৃষ্টিহীন শিশুর স্বপ্ন দেখার সাহস (Nandita Sardar)।