চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পিন্টু প্যাটেল,পূর্ব বর্ধমান: সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। কিন্তু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আসল উৎসবের শুরু হয় পুজোর ঠিক পরের দিন। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এক অনন্য রীতি মেনে শনিবার দিনভর চলল ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসগুলির মধ্যে ‘তত্ত্ব’ আদান-প্রদান। বিয়ের তত্ত্বের আদলে সাজানো ডালি নিয়ে এক হোস্টেল থেকে অন্য হোস্টেলে চলল সম্প্রীতির মেলবন্ধন। ঐতিহ্যের তত্ত্ব বিনিময়।
শনিবার প্রথা অনুযায়ী, ছাত্রীদের বিভিন্ন হোস্টেল থেকে সুসজ্জিত তত্ত্ব নিয়ে ছাত্রীরা পৌঁছন ছাত্রদের বিভিন্ন হোস্টেলে। ঠিক একইভাবে পালটা তত্ত্ব নিয়ে ছাত্রদের দলও হাজির হয় ছাত্রীনিবাসের গেটে।
কী থাকে এই তত্ত্বের ডালিতে?
একেবারে বাড়ির বিয়ের তত্ত্বের ঢঙেই সাজানো হয় এই ডালিগুলি। তাতে যেমন থাকে রকমারি মিষ্টি ও সন্দেশ, তেমনই থাকে চকোলেট, চিপস, পারফিউম, কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী। অনেক ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হোস্টেলের ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে তৈরি কার্ড বা ঘর সাজানোর জিনিসও উপহার দেন।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও অভ্যর্থনা:
এদিন হোস্টেলগুলির মধ্যে চলে অলিখিত প্রতিযোগিতা—কার তত্ত্ব কত সুন্দর। ঢাকের বাদ্যি আর আবিরের রঙে রঙিন হয়ে ছাত্রীরা যখন ছাত্রদের হোস্টেলে পৌঁছন, তখন তাঁদের ‘পুষ্পবৃষ্টি’ করে স্বাগত জানানো হয়। হোস্টেলের কঠোর নিয়ম শিথিল করে এদিন ছাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ছাত্রদের অন্দরমহল। একইভাবে ছাত্ররা যখন ছাত্রীনিবাসে যান, সেখানেও তাঁদের জন্য থাকে এলাহি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন।
সম্প্রীতির বার্তা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের কথায়, “এটি কেবল উপহার আদান-প্রদান নয়, এটি দীর্ঘদিনের এক আবেগ। হোস্টেলের একঘেয়ে পড়াশোনার মাঝে এই দিনটি আমাদের কাছে বন্ধুত্বের এক বড় উদযাপন।” ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত আবাসিক পড়ুয়ারা এই উৎসবে শামিল হন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছাত্রীরা জানায় তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যম থেকে বন্ধুত্ব বিনিময়ে ভালোবাসার মেলবন্ধন হয়ে থাকে আজকের এই দিনে। পাশাপাশি আজকের এই দিন থেকে সমাজকে এই বার্তাই যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক একটা মধুর সম্পর্ক এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে সকলকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিকেল গড়াতেই তত্ত্ব বিনিময়ের পালা শেষ হলেও, রেশ থেকে যায় রাতভর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে এভাবেই প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর পর সম্প্রীতির নতুন এক অধ্যায় লেখে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়।