চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজ, বুধবার প্রথমবারের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যায় উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ প্রশাসন ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন তিনি। সামনেই বর্ষা মরশুম থাকায় এই বৈঠকে প্রধান অগ্রাধিকার পেতে চলেছে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চা বাগানের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বেআইনি নির্মাণ এবং জমি ও বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এসজেডিএ, জিটিএ, জেলা পরিষদ, পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির স্তব্ধ হয়ে থাকা কাজকর্ম ও দুর্নীতি দমনে কড়া অবস্থান নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক হলো পূর্বতন সরকারের ‘বিরোধী বয়কট’ রাজনীতির অবসান ঘটানো। তৃণমূল জমানার দীর্ঘ পনেরো বছরে রাজ্যের কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হতো না। তবে এবার জমানা বদলের পর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে উত্তরকন্যার এই প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা রায়ের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদিও প্রধান বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরা এই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত যোগ দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি সরাসরি চলে যাবেন উত্তরকন্যায়। এই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাজ্যের ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। প্রশাসনিক কাজ ছাড়াও এদিন শিলিগুড়ি শহরের বর্ধমান রোডে নবনির্মিত উড়ালপুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—এই পাঁচ জেলার সমস্ত বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা। উত্তরবঙ্গের থমকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত শেষ করা এবং পাহাড়ের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক থেকে নতুন কোনো রূপরেখা বা কড়া বার্তা দিতে পারেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক বৈঠক সেরে দুপুর ২টো নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে আবার কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।