চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপে চড়ছে পারদ। পাহাড় থেকে সাগর সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর জেলায় জেলায় জনসংযোগে প্রার্থীরা। এবারও হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পুলক রায়। একদিকে হাওড়া গ্রামীণ জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি, অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রীও। এবারের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? আগামী পাঁচ বছরে কোন কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দেবেন? খোলামেলা আলোচনায় ‘আরো খবর’-এর সম্পাদক রাজাময় মুখোপাধ্যায়কে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের আগামী দিনের ভাবনার কথা তুলে ধরলেন তৃণমূল প্রার্থী পুলক রায়।

হাওড়া জেলার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র উলুবেড়িয়া দক্ষিণ। টানা এই কেন্দ্রে নির্বাচিত হয়ে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম নেতা পুলক রায়। ২৬-এর ভোট ময়দানেও জোড়া ফুল প্রতীকে জনতার দরবারে তিনি।
প্রশ্ন: মানুষ আপনাকে ভোট দেবেন কেন?
উত্তর:আমরা ৩৬৫ দিন মানুষের পাশেথাকি, সঙ্গে থাকি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মানুষ এগিয়ে চলেছেন। সরকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আবার সমষ্টিগত ভাবে মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারের। সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের সঙ্গে থেকেছে। আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে থেকেছি তাই মানুষ আমাদের পাশে থাকবে।

প্রশ্ন: নিজের বিধানসভা এলাকায় সেই ভাবে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না আপনাকে। অন্য জায়গায় আপনাকে দেখা যাচ্ছে, নিজের এলাকায় ততটা দেখা যাচ্ছে না কেন?
উত্তর:আমি ছোট ছোট করে মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমরা ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি।

প্রশ্ন: হাওড়া গ্রামীণ জেলায় আটটা বিধানসভা রয়েছে।এই কেন্দ্রগুলির ফলাফল কী হবে?
উত্তর:৮টা আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে সবকটা আসন।

প্রশ্ন:বিজেপি দাবি করছে রাজ্যে পরিবর্তন হবে, তাদের নেতৃত্বে সরকার গড়ে উঠবে?
উত্তর:দিবা স্বপ্ন দেখতেই পারে। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। আর এরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করে এসআইআর-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে মানুষের ভোট কেটে নেওয়ার খেলায় নামে, তবে নিশ্চিত জবাব পাবে। ভোট হচ্ছে গণতন্ত্রের উৎসব, আর সেই উৎসবে যুদ্ধের মহড়ায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়ে ঘোরা।মানুষ তাদের উচিত শিক্ষা দেবে।যুদ্ধে মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দেবে। এসআইআর করে বহু মানুষকে মেরে দিয়েছে, তার জবাব পাবে।
প্রশ্ন: আপনি সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকেন, এসআইআর-এ মানুষ এত কষ্ট পেল, কীভাবে দেখছেন?
উত্তর:শুধু এসআইআর নয়, সব ক্ষেত্রেই মানুষকে কষ্ট দেওয়া এদের কাজ। নোট বাতিল মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। প্রায় ২০০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে তা তো কেউই ভালভাবে নেয়নি। এসআইআর করে মানুষকে বিপদে ফেলেছে।সাধরণ মানুষের পাশে থেকে বুঝতে পেরেছি তাঁরা কত কষ্ট পেয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের শীর্ষ আদালতে পৌঁছে গিয়েছিলেন মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তাঁর সেই লড়াইও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছিল এরা। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস। গণতন্ত্রে ভোটাধিকার মানুষের অধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। মানুষ দেখেছে। বলেছিল দু’কোটিরোহিঙ্গা বাদ যাবে, একটা রোহিঙ্গাকেও ওরা খুঁজে পায়নি। মানুষকে নিয়ে এরা ছিনিমিনি খেলেছে।
প্রশ্ন: এই ভোটটা কতটা কঠিন হতে পারে? সাধারণ মানুষকে কতটা সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন?
উত্তর:গ্রামে-গঞ্জে যাচ্ছি, যাঁরা টিভির বোকা বাক্সে এটা সেটা বলছেন, গ্রামে তাঁদের দেখা নেই। তাঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই গ্রামে। সাধারণ মানুষ বিজেপির পাশে নেই, কারণ ভোটটা দেবে জনগণ। যারা দলদাসে পরিণত হয়ে বিজেপির সঙ্গে আছে, জমিদারদের অঙ্গুলি হেলনে চলছে, তাঁদের সঙ্গে নেই সাধারণ মানুষ।
প্রশ্ন: বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসাবে আপনার সাফল্য ?
জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী হিসাবে বিগত দিনে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজে উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলা আবাস যোজনায় বকেয়া প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা দাবিতে বিধানসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছি। এছাড়া ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার বিধায়ক হিসাবে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রে নিয়মিত জনসংযোগ, রাস্তাঘাট ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি।
প্রশ্ন:উলুবেড়িয়ার ভোটারদের উদ্দেশে আপনার কী বার্তা?
উত্তর:লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধে। লড়াইটা করছে তৃণমূল কংগ্রেস, এটা সর্বজন বিদিত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রধান কাজ হল- সব ধর্মের মানুষের পাশে থাকা, উন্নয়নের পাশে থাকা। আর এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে তৃণমূল কংগ্রেসমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। বিজেপি বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ সব মানুষের কাছে আমরা ভোট প্রার্থনা করছি। গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সেই উন্নয়ন আরওতরাণ্বিত হবে। বাংলার সংস্কৃতিতে যেন সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিতে না পারে সেই জন্য মানুষ পাশে থাকবে।
২০২১-এর ফলাফল
পুলক রায় (তৃণমূল কংগ্রেস) – ১,০১,৮৮০
পাপিয়া দে অধিকারী (বিজেপি) – ৭৩,৪৪২
ব্যবধান – ২৮,৪৩৮
২০২৬ এর প্রার্থীরা
পুলক রায় (তৃণমূল কংগ্রেস)
স্বামী মঙ্গলানন্দ পুরী মহারাজ (বিজেপি)
আমিরুল ইসলাম খান (ফরওয়ার্ড ব্লক)
ইন্তেয়াজ আলি (জাতীয় কংগ্রেস)