চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিধানসভায় স্পিকারের সবুজ সংকেত মেলার পর এবার জেলা স্তরেও তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধস নামাতে কোমর বেঁধে নেমেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ শিবির। ছাব্বিশের নির্বাচনে নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা এবার দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং নদিয়ার মতো গড়গুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক বিধায়কের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। অনেক বিধায়কই দল ভাঙার তালিকায় সই করলেও, শেষ মুহূর্তে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে দাবি করছেন তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতিই আস্থাশীল।
সবচেয়ে বড়ো ধাক্কাটি এসেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে। জেলার মোট ১০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই সরাসরি ঋতব্রত শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ বৈঠকে উপস্থিত থেকে, কেউ আবার আগাম সই করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরে অনুপস্থিত ছিলেন শুধু আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকী ও কামারহাটির মদন মিত্র।
বাকিদের মধ্যে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ, বাদুড়িয়ার বুরহান উল মুকাদ্দিন লিটন, বসিরহাট দক্ষিণের সুরজিৎ মিত্র এবং মিনাখার উষারানি মণ্ডল সরাসরি বৈঠকে হাজির ছিলেন। দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান এলাকায় না থাকলেও আগেই সই পাঠিয়ে দিয়েছেন। স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার আবদুল মতিন এবং বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমানও একই শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও ভাঙন স্পষ্ট। ডায়মন্ডহারবার ও মথুরাপুর লোকসভার বেশিরভাগ বিধায়কই বিক্ষুব্ধ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ক্যানিংয়ের বিধায়ক পরেশ রামদাস ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না মেলাতেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় মন্তব্য করেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার। তিনি বলেন, “এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ৫৮ জন বিধায়কের তালিকায় সই করেছি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমার ক্ষোভ নেই।” অন্যদিকে, পাথরপ্রতিমার প্রবীণ বিধায়ক সমীর জানা সই করলেও কারণ এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে বারুইপুর পশ্চিমের বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহেশতলার শুভাশিস দাস এখনও মমতার পাশেই আছেন বলে দাবি করেছেন।
হাওড়া জেলার ৯ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ঋতব্রত-সহ ৬ জন ইতিমধ্যেই শিবির বদল করেছেন। দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরি এই মুহূর্তে দিল্লিতে থাকলেও, খুব শীঘ্রই ফিরে তিনি ঋতব্রতের দলে যোগ দেবেন বলে খবর। তবে উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিধায়ক পুলক রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মমতাদির সঙ্গেই আছেন।
নদিয়া জেলার ৩ জন বিধায়কের মধ্যে পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান মমতার পাশে থাকার বার্তা দিলেও, চাপড়ার জেবের শেখ এবং কালীগঞ্জের আলিফা আহমেদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যজুড়ে যেভাবে তৃণমূলের বিধায়করা বিদ্রোহের খাতায় সই করছেন, তাতে আদি তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন মমতার কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।