চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে এমন এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যাবে, তা হয়তো অতি বড়ো রাজনৈতিক বিশ্লেষকও কল্পনা করতে পারেননি। ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে যাঁদের এক পক্ষ সরব ছিলেন ধর্মতলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে, আর অন্য পক্ষ অন্তরালে থেকে বিধানসভায় ঘাসফুল শিবির ভাঙার চূড়ান্ত ছক কষছিলেন, বুধবার দুপুরের পর সেই দুই চরম বিরোধী মেরু কোথাও যেন মিলেমিশে এক হয়ে গেল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ডাকা হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে নবান্নের সভাঘরে পাশাপাশি এসে বসলেন ‘বিদ্রোহী’ এবং ‘মমতাপন্থী’ দুই শিবিরেরই তৃণমূল বিধায়করা।
বুধবার নবান্নে কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত ১৫ বছরের চেনা রাজনৈতিক রীতির ঠিক উল্টো পথে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিরোধী শিবিরের বিধায়কদেরও সসম্মানে আমন্ত্রণ জানান।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠী নিজেদের এই মুহূর্তে ‘নতুন তৃণমূল’ বলে দাবি করছে, তাঁদের এই বৈঠকে আসাটা অবশ্য আগে থেকেই একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। সেই মতো আজ সকালেই বিধানসভায় স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত ঐতিহাসিক ‘বিদ্রোহ’ পত্র জমা দিয়েই, সেই ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে সোজা নবান্নে পৌঁছে যান ঋতব্রত।
তবে এই প্রশাসনিক বৈঠকের আসল ‘টুইস্ট’ শুরু হয় দুপুর গড়াতেই। রাজনৈতিক মহলকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়ে দেখা যায়, আগের দিন যাঁরা ধর্মতলার মঞ্চে মমতার পাশে বসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, সেই কট্টর মমতাপন্থী বিধায়করাও একে একে নবান্নে ঢুকতে শুরু করেছেন। প্রথমে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে নবান্নে প্রবেশ করতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। তার ঠিক পরেই সেখানে এসে হাজির হন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট আদি তৃণমূল নেতারা।
মহাভাঙনের আবহেও যারা মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন, তাঁদের এভাবে শুভেন্দুর বৈঠকে চলে আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নবান্নে ঢোকার মুখে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অত্যন্ত কৌশলী জবাব দেন কুণাল ঘোষ। তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমি একজন নির্বাচিত বিধায়ক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন। তাই বিরোধী দলের একজন দায়িত্বশীল বিধায়ক হিসেবে আমি এখানে এসেছি।”
কুণাল-ববিরা দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে সরকারের মুখোমুখি হতে এসেছেন, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে নিজস্ব বিবেকের যুক্তিতে এসেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কারণ যাই হোক না কেন, দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলার বুকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই সমবেত প্রশাসনিক বৈঠক বঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।