চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। নতুন প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে একের পর এক অবৈধ কাঠামোর ওপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে। এই উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দখলদারদের সরানোর প্রক্রিয়াও জোরকদমে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অভিযান চালিয়ে হকারদের অবৈধ ও অস্থায়ী ঝুপড়ি দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক বুলডোজার নীতি এবং হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবার সরাসরি রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস।
আগামী ২১ মে, অর্থাৎ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের দিনই হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত একটি জরুরি বৈঠকে এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হকারদের রুটিরুজি কেড়ে নিয়ে বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশের সাংবিধানিক আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের নামে বেছে বেছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। উপস্থিত বিধায়কদের আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলবে না এবং আগামী দিনে কেন্দ্র থেকেও ক্ষমতাচ্যুত হবে বিজেপি। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অতিসক্রিয়তাকে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ বলে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধেই সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী ২১ মে তৃণমূলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়কালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সেদিনই ফলতা বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভোটের ঠিক একদিন আগেই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। প্রার্থীর এই আকস্মিক দলবদল বা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ফলতার এই নির্বাচনী ধাক্কা এবং দলের মুখ পুড়ল যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে, তা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই ঠিক ভোটের দিনটিকে রাজ্য সরকারের উচ্ছেদ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে জোড়াফুল শিবির।