ad
ad

Breaking News

Arup Roy

এবার ক্ষোভে ফুঁসছেন অরূপ রায়! বাড়িতে হামলার পর দলের বিরুদ্ধে চরম অভিমান, দিলেন ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসের’ হুঁশিয়ারি

ত্রিপল চুরির অপবাদ, ঘরে কান্নাকাটি! এবার কি দল ছাড়ছেন মমতা-অভিষেকের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই প্রাক্তন মন্ত্রী?

TMC MLA Arup Roy Threatens Retirement

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বঙ্গে ত্রাণের সামগ্রী চুরির অভিযোগে যখন একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক ও ব্লক স্তরের নেতারা পুলিশের জালে জড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় এল হাওড়ার রাজনীতিতে। সরকারি ত্রাণ পাচারের মনগড়া অভিযোগ তুলে দু’দিন আগে মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের (Arup Roy) বাড়ি ঘেরাও করে তাণ্ডব চালিয়েছিল বিজেপি। আর সেই ঘটনার পর সোমবার সকালে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টা হুঙ্কার ছাড়লেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তবে শুধু বিরোধীদের আক্রমণ করাই নয়, এদিন তাঁর গলায় শোনা গেল খোদ নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান। স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন, দলের এই কঠিন সময়ে নেতৃত্ব যদি পাশে না দাঁড়ায়, তবে তিনি রাজনীতির ময়দান থেকেই চিরতরে সরে দাঁড়াতে পারেন!

“বাড়ির দরজায় লাথি মেরেছে, সিসিটিভি ভেঙেছে বিজেপি!”

সোমবার নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অরূপ রায় বলেন, “গত দু’দিন আগে আমি নাকি ত্রিপল পাচার করছি, এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একদল বিজেপি কর্মী আমার বাড়িতে চড়াও হয়। আমি তখন ঘরে ছিলাম না, কেবল পরিবারের মহিলারা ছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বাড়ির মূল দরজায় বুট জুতো দিয়ে লাথি মারা হয়েছে। বাড়ির মা-বোনেদের উদ্দেশে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়েছে, যা কোনও সুস্থ সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এই জঘন্য ও রুচিহীন কাজের বিরুদ্ধে আমি থানায় এফআইআর (FIR) করছি। পুলিশ প্রশাসনকে বলব, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

“নেতৃত্ব নিজেই ভয়ে সন্ত্রস্ত!” দলের ওপর চরম অভিমান অরূপের

তবে বিরোধীদের চেয়েও এদিন অরূপ রায়ের ক্ষোভের মূল তির ছিল নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে তিনি বলেন, “আজ যখন আমরা বিধায়করা রাস্তায় আক্রান্ত হচ্ছি, ঘরে এসে গুন্ডামি করা হচ্ছে, তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের কোনও খোঁজই নিচ্ছেন না! আসলে তাঁরা নিজেরাই এখন মারাত্মকভাবে ভীত এবং সন্ত্রস্ত হয়ে লুকিয়ে আছেন। এর ফলে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্য দিবালোকে চলে আসছে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এরপরই বড়সড় বোমা ফাটান মধ্য হাওড়ার এই দাপুটে বিধায়ক। তিনি ইঙ্গিত দেন, “এই রকম পরিস্থিতি যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে আমাকেও নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। দল যদি পাশে না থাকে, তবে পরিস্থিতি বুঝে আমি রাজনৈতিক সন্ন্যাসও নিতে পারি।” যদিও তড়িঘড়ি তিনি যোগ করেন, এই সিদ্ধান্ত তিনি এখনই নিচ্ছেন না, তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বঙ্গে দল ভাঙার জল্পনার মাঝেই অরূপ রায়ের এই ক্ষোভ তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।