চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও কাটমানি রুখতে পুলিশ-প্রশাসন যে কতটা কড়া অবস্থান নিয়েছে, তার আরও একটি বড়ো প্রমাণ মিলল উত্তরবঙ্গে। আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কোচবিহারের মাথাভাঙার জোরপাটকির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক থাকার পর, বুধবার বিকেলে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে নিজের বাড়ির খাটের তলা থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে চোর ধরার মতো করে তাঁকে যখন বাড়ি থেকে বের করা হচ্ছিল, তখন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে পড়েন ওই ধৃত নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় শহিদুল মিঞার রাজনৈতিক দাপট ছিল আকাশছোঁয়া। তাঁর স্ত্রী মাথাভাঙার জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন সক্রিয় তৃণমূল সদস্য। অন্যদিকে, শহিদুল নিজে মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পঞ্চায়েতের ক্ষমতা এবং পুলিশের খাঁকি উর্দির জোর, এই দুই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে বড় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। অভিযোগ, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেই গরিব মানুষের আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মাথা পিছু ৫ হাজার, ১০ হাজার এমনকী ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি বা ঘুষ আদায় করতেন শহিদুল। এই চরম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
শহিদুলের এই কাটমানি নেওয়ার কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই গত ২৫ মে তাঁর বাড়ির সামনে বিশাল বিক্ষোভ দেখান জোরপাটকির বাসিন্দারা। চারিদিকে শোরগোল পড়ে যাওয়ায় বেগতিক বুঝে মাথাভাঙা থানার তরফে সিভিক ভলান্টিয়ারের পদ থেকে শহিদুলকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন এই অভিযুক্ত নেতা। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালালেও বিগত কয়েকদিন তাঁর কোনও হদিস মিলছিল না।
অবশেষে বুধবার গোপনে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে প্রবেশ করেছিলেন শহিদুল। কিন্তু গ্রামের সতর্ক বাসিন্দাদের চোখে তা এড়ায়নি। তাঁরা মুহূর্তের মধ্যে মাথাভাঙা থানায় খবর দেন। বিপুল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গ্রাম ঘেরাও করতেই বেগতিক বুঝে নিজের শোওয়ার ঘরের খাটের তলায় ঢুকে পড়েন শহিদুল। তবে পুলিশ ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালাতেই তাঁর শেষরক্ষা হয়নি। খাটের তলা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনা হয় তাঁকে। শহিদুলকে যখন পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন ধৃতের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ দাবি, অবিলম্বে গরিব মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির সমস্ত টাকা সুদে-আসলে ফেরত দিতে হবে। এই গ্রেফতারির পর জোরপাটকিতে ক্ষোভের পাশাপাশি এক স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।