চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও শিরোনামে উঠে এল হুগলির কোন্নগর। এবার কোন্নগর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ চক্রবর্তীকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। সিসিটিভি ফুটেজে একদল দুষ্কৃতীকে লাল গাড়িতে করে এসে তাঁর বাড়ির সামনে তণ্ডব চালাতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর।
বিশ্বরূপ চক্রবর্তীর বয়ান অনুযায়ী, শনিবার রাতে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে তাঁকে প্রাণে মারার এবং বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারার হুমকি দেয়। বাড়িতে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে ফোনে বিষয়টি জানান। বাড়ি ফিরে কাউন্সিলর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন এবং দাবি করেন যে, অভিযুক্তদের তিনি চিনতে পেরেছেন। তাঁর অভিযোগের তির তৃণমূলেরই যুবনেতা ঘনিষ্ঠ দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ও তাঁর দলবলের দিকে। থানায় অভিযোগ জানানোর সময় বিশ্বরূপবাবু স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগেও তাঁকে একবার খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল আঙুল, সেই দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাল্টা যুক্তি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি শ্রীরামপুরের ওয়ালস হাসপাতালে দলের এক কর্মীর অসুস্থ বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্বরূপ চক্রবর্তী বাইরে তৃণমূলের পোশাক পরে থাকলেও তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের দাবি, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।