ad
ad

Breaking News

Paschim Medinipur

চার মাসে তিন ছাত্রের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে খড়গপুর আইআইটি

আইআইটির মতো এক উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা আসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে, স্বপ্ন থাকে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে দেশকে গড়ার, পরিবারকে গর্বিত করার।

Three students die in four months, IIT Kharagpur under question

নিজস্ব চিত্র

Bangla Jago Desk:শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: দেশের অন্যতম খ্যাতনামা প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আইআইটি আবারও খবরের শিরোনামে, তবে এবার তা গৌরবের কারণে নয়, বরং বারবার ঘটে যাওয়া ছাত্র মৃত্যুর কারণে। চার মাসে তিনজন ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। 

আইআইটির মতো এক উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা আসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে, স্বপ্ন থাকে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে দেশকে গড়ার, পরিবারকে গর্বিত করার। কিন্তু সেই শিক্ষালয়ে যখন ছাত্রের মৃত্যু ঘটে, তাও আবার বারবার, তখন তা শুধু পরিবার নয়, গোটা সমাজকেই নাড়া দেয়। বারবার ঘটতে থাকা এই ‘রহস্যময়’ মৃত্যুর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত মেলেনি আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে। পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করলেও তা শেষ হয়নি, ফলে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য বা ফলাফল সামনে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খড়গপুরের নাগরিক সমাজ। রবিবার সন্ধ্যায় তারা আইআইটির মূল গেটের সামনে সমবেত হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত ছাত্রদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এসময় তারা প্রতিবাদ জানান এই মৃত্যুমিছিলের বিরুদ্ধে এবং আইআইটি প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকায়। উপস্থিত নাগরিকরা স্পষ্ট জানান — এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে যদি কোনও চাপ, মানসিক অবসাদ বা অব্যবস্থাপনা থাকে, তবে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা জরুরি।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জহর পাল বলেন, “ছাত্ররা যখন উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে এখানে আসে, তখন তাদের পরিবারের অনেক আশা-ভরসা থাকে। কিন্তু এখানে যদি তারা রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে এটাকে শিক্ষা কেন্দ্র বলা যায় না। এই ধরণের ঘটনা যেন আর না ঘটে, তার জন্য কর্তৃপক্ষকে আরও সংবেদনশীল, দায়িত্ববান এবং স্বচ্ছ হতে হবে।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা খড়গপুরবাসীসহ দেশজুড়ে শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—একটি সুশৃঙ্খল, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান কীভাবে বারবার এমন দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে? শিক্ষার্থীদের জীবন এবং মনস্তত্ত্ব নিয়ে আইআইটি কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করছে সবাই।