ad
ad

Breaking News

Ghola

এবার ঘোলা! ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার ব্যবসায়ীর মৃতদেহ, গ্রেফতার দুই

চালকের সন্দেহ থেকেই ফাঁস হলো এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ট্রলি ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এল এক ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ।

This time it's a mess! Businessman's body recovered from trolley bag, two arrested

চিত্র: নিজস্ব

Bangla Jago Desk: গভীর রাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে গাড়ি থামানোর নির্দেশে সন্দেহ হয় ক্যাব চালকের। চালকের সন্দেহ থেকেই ফাঁস হলো এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ট্রলি ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এল এক ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ। পুলিশ এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগেরবাজার থেকে এক অ্যাপ ক্যাবে ওঠে দুই ব্যক্তি। তাঁদের সঙ্গে ছিল একটি বড় ট্রলি ব্যাগ। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নির্জন অংশে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলে চালকের সন্দেহ হয়। তিনি কারণ জানতে চাইলে শুরু হয় তর্কবিতর্ক। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের টহলদারি ভ্যান। পুলিশের উপস্থিতি দেখে একজন যাত্রী পালিয়ে যায়। অন্যজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ যখন গাড়িতে থাকা ট্রলি ব্যাগটি খোলে, তখনই চমকে ওঠেন সকলে। ব্যাগের ভিতর ছিল এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ। মুখে সেলোটেপ মোড়ানো, শরীরে রক্তের দাগ স্পষ্ট। মৃতের পরিচয় ভাগা রাম নামে এক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত দুই অভিযুক্ত করণ সিং ও কৃষ্ণপাল সিং রাজস্থানের বাসিন্দা। তাঁরা গিরিশ পার্ক এলাকায় ভাড়া থাকতেন। মৃত ভাগা রাম ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি করণ ও কৃষ্ণপালের কাছ থেকে চুড়িদারের পিস কিনতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আট লাখ টাকা বকেয়া থাকায় দুই অভিযুক্ত পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করে।

মঙ্গলবার, গিরিশ পার্কের ভাড়া বাড়িতে ভাগা রামকে ডেকে পাঠায় করণ ও কৃষ্ণপাল। তাঁকে দেওয়া হয় বিষ মেশানো কফি। কফি খেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়লে প্রথমে শ্বাসরোধ করা হয় ভাগা রামকে, পরে নিশ্চিত করতে তাঁর গলার নলি কেটে ফেলে দুই অভিযুক্ত।

দেহ গোপন করতে তাঁরা মৃতদেহ একটি বড় ট্রলি ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে। নাগেরবাজার হয়ে অ্যাপ ক্যাবে করে বিলকান্দার নির্জন এলাকায় আসে। পরিকল্পনা ছিল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ট্রলি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু চালকের সন্দেহ, পুলিশের উপস্থিতি ও টহলদারি এই চক্রান্ত ভেস্তে দেয়।

দেহ উদ্ধারের পর এক অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও, করণ সিংকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৃষ্ণপাল সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস খুনের তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।