ad
ad

Breaking News

Abhishek Banerjee

দৈনিক মজুরি বাড়বে চা শ্রমিকদের? বড় ঘোষণা অভিষেকের

পাহাড়ি এলাকায় জরুরি অবস্থার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স নেই, ফলে শ্রমিকদের নিজের পকেট থেকে বা ধার করে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিতে হয়।

tea-workers-wage-hike-abhishek-banerjee-alipurduar

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: আলিপুরদুয়ারে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নানা বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আলিপুরদুয়ারে চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে এক আলোচনাসভায় অংশ নেন তিনি। সভায় বক্তব্য রাখার পর শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে তাঁদের নানা সমস্যার কথা উঠে আসে।

সভা চলাকালীন কুমারগ্রামের চা বাগান শ্রমিক রাজেশ ওরাওঁ একটি চিরকুটে প্রশ্ন পাঠান। প্রশ্ন ছিল—দিনমজুরি কম, মজুরি বৃদ্ধির জন্য সরকার কী করছে? এই প্রশ্ন শোনার পরই অভিষেক রাজেশকে মঞ্চে ডেকে নেন এবং তাঁকে খোলাখুলি নিজের সমস্যার কথা বলতে বলেন। 

মঞ্চে উঠে রাজেশ একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৪ দফা দাবির কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছুই কার্যকর হয়নি। বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহে বাধা, পাকা ঘরের অভাব, কোথাও শুধু পলিথিন টাঙিয়ে থাকার পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবার অভাব—সবই তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অনেক চা বাগানে হাসপাতাল থাকলেও ওষুধ মেলে না, এমনকি টেট ভ্যাকসিনও পাওয়া যায় না। পাহাড়ি এলাকায় জরুরি অবস্থার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স নেই, ফলে শ্রমিকদের নিজের পকেট থেকে বা ধার করে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিতে হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্কুল ও পানীয় জলের সমস্যার কথাও জানান তিনি।

এই সমস্ত অভিযোগ শোনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজেশের প্রশ্ন এবং দাবিগুলি সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত। তাঁর মতে, দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবি একেবারেই সঠিক। পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাগুলিও বাস্তব এবং সমাধান জরুরি।

মজুরি প্রসঙ্গে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার আগে চা বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৬৭ টাকা। গত ১৪ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা। তিনি বলেন, “শেষবার আমি যখন এসেছিলাম, তখন মজুরি ছিল ২৩২ টাকা। এখন ২৫০ টাকা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে ২৫০ টাকায় সংসার চালানো কঠিন।”

সভামঞ্চ থেকেই অভিষেক ঘোষণা করেন, তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবার সরকার গঠন করলে আলিপুরদুয়ার তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার গঠনের ৩০ দিনের মধ্যেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হবে এবং সেই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকের সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে এবং দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।

এদিনের সভায় চা বাগান শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড না পাওয়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থার বিষয়েও সরব হন অভিষেক। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি চা বাগানে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলিও দ্রুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু এবং আগামী সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রেশ চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।