চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠল। ঘটনায় শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮-এ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই তারাপীঠের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখ ঠেলে দিয়েছে প্রশাসনকে। সামনেই পবিত্র কৌশিকী অমাবস্যা, যখন তারাপীঠে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ঢল নামবে। উৎসবের মরশুমে যাতে নতুন করে আর কোনো প্রাণহানি বা অঘটন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে এবার আগাম কড়া সতর্কতা অবলম্বন করল বীরভূম জেলা প্রশাসন।
অগ্নি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বীরভূমের জেলাশাসক তারাপীঠের প্রতিটি হোটেলে অবিলম্বে ফায়ার অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কাজের জন্য রামপুরহাটের মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ৯ সদস্যের অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ কমিটিতে রয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগম পর্ষদের রিজিওনাল ম্যানেজার, দমকল, পিডব্লিউডি এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও মহকুমা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিককে কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
গঠিত এই অডিট কমিটির মূল দায়িত্ব হবে তারাপীঠের প্রতিটি ছোট-বড় হোটেল, লজ, গেস্টহাউস, হোম স্টে এবং উন্নয়ন পর্ষদের আওতাধীন সমস্ত নির্মাণের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা। প্রতিটি ভবনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র রয়েছে কিনা, জরুরি ভিত্তিতে বেরোনোর পথ পরিষ্কার রয়েছে কিনা এবং ফায়ার লাইসেন্স নিয়মিত পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অডিট কমিটিকে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনও গলদ মিললে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, অতীতেও রাজ্যে একাধিক বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের পর অডিটের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে ‘বিদেশিনী’ কাণ্ডের পর এই কড়া পদক্ষেপ সত্যি হোটেলগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবে নাকি তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।