নিজস্ব গ্রাফিক্স
AK Bangla Desk: রাতের অন্ধকার কেটে তখন সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। অধিকাংশ পর্যটকই মেতে ছিলেন গভীর ঘুমে। ঠিক তখনই আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা হোটেল ভবন। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ভরে গেল ঘন কালো ধোঁয়ায়। কী ঘটেছে তা বুঝে ওঠার আগেই চারদিকে শুধুই আর্তনাদ আর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। প্রাণ বাঁচাতে ধোঁয়াটে ঘরের দরজা খুলতেই পর্যটকদের দিকে তেড়ে এল আগুনের লেলিহান শিখা।
তারাপীঠে ঘুরতে এসে এমন এক নরককুণ্ডের মুখোমুখি হবেন, তা স্বপ্নেও ভাবেননি মালদহের পর্যটক তপজ্যোতি মণ্ডল। দুটো ছোট ছোট বাচ্চা আর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় যাবেন, কীভাবে বাঁচবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি। শেষমেশ জীবনপণ ঝুঁকি নিয়ে পুরো পরিবারকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে যান তপজ্যোতিবাবু। দরজা শক্ত করে আটকে ভিতরের জল চালিয়ে দেন, যাতে কোনওভাবে আগুনের উত্তাপ বা ধোঁয়া ভিতরে ঢুকতে না পারে। বাথরুমের ছোট জানলাটি ভেঙে কোনোক্রমে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা। তপজ্যোতিবাবুর কথায়, “ওই ৪৫ মিনিট মনে হচ্ছিল জীবনটা বুঝি এখানেই শেষ হয়ে গেল! বাথরুমে আটকে থেকে প্রতিটা সেকেন্ড মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছি। অবশেষে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।”
বাঁচানো গেলেও ধোঁয়ায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বৃদ্ধা মা ও দুই বোন। অন্যদিকে, আরেক পর্যটকের চোখের জল থামছে না। হোটেল থেকে নিজে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও, অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গিয়েছেন তাঁর মা, ভাই এবং ভাইয়ের বউ। রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো স্বজনদের খুঁজছেন তিনি।
হোটেলটির মেইন গেটের সামনে ভেসে উঠেছে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। কাঁধ থেকে শুরু করে শরীরের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ঝলসে যাওয়া এক ব্যক্তি রাস্তায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। মুখ-মাথা চেনার কোনও উপায় নেই। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পুরো হোটেল এলাকা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ইতিমিধ্যেই ওই হোটেলের মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়ে গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকারের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরি।