চিত্র- সংগৃহীত
সৌতিক চক্রবর্তী: তারাপীঠের নিউ বিদেশিনী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ নিল বীরভূম জেলা প্রশাসন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই নির্দেশের কথা জানান রামপুরহাটের এসডিও। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোররাতে নিউ বিদেশিনী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত্যু হয় ৯ জনের। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শুধু ওই হোটেল নয়, তারাপীঠের আরও একাধিক হোটেল ও লজে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ সামনে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই তারাপীঠের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এক আধিকারিকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ অডিট টিম তৈরি করা হয়েছে। ওই দল বিভিন্ন হোটেল ও লজে গিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে।রামপুরহাটের এসডিও জানান, হোটেলগুলিকে এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তারপরেও অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই অনিয়মের অভিযোগে আপাতত ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশে যে হোটেল ও লজগুলি বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলি হল— আদর্শ হোটেল, নকুলচন্দ্র লজ, শৈলেন ভবন, গীতশ্রী গেস্ট হাউস, বীরভূম লজ, হরেকৃষ্ণ ভবন, গিরিধারী ভবন, হোটেল দেব, তাপ্তি লজ, ভোলানাথ ভবন, আনন্দ ভবন, স্বস্তিক নিবাস, সন্দীপ লজ, কেশরী লজ এবং দত্ত ভবন। নিউ বিদেশিনী হোটেলের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও হোটেল ও লজে পরিদর্শন চালিয়ে অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।