ad
ad

Breaking News

Suvendu Adhikari

‘জনতার দরবারে’ লেকটাউনের মৃত ছাত্রের পরিবার, কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

বুধবার বিজেপির হেস্টিংস কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জনতার দরবারে’ হাজির হয়ে সরাসরি খুনের অভিযোগ আনলেন ছাত্রের বাবা যদু দে।

Suvendu Adhikari Assures Justice in RKM Student Srinjoy Dey Death Case

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল লেকটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের (RKM) মেধাবী ছাত্র সৃঞ্জয় দের নিথর দেহ। আরজি কর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ এটিকে তড়িঘড়ি ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেই তত্ত্ব প্রথম থেকেই মানতে নারাজ ছিল মৃতের পরিবার। এবার সেই রহস্যমৃত্যু নিয়ে সরাসরি রাজ্যের তৎকালীন দাপুটে তৃণমূল মন্ত্রী সুজিত বসুর দিকে আঙুল তুলল পরিবার। বুধবার বিজেপির হেস্টিংস কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জনতার দরবারে’ হাজির হয়ে সরাসরি খুনের অভিযোগ আনলেন ছাত্রের বাবা যদু দে।

হরিণঘাটার বাসিন্দা যদুবাবুর অভিযোগ, তাঁর ছেলের এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার ছেলে নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ডিবেট (তর্কযুদ্ধ) করত। সেই রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই ওকে পরিকল্পনা মাফিক খুন করেছে তৃণমূল।” এই ঘটনায় সুজিত বসুর সরাসরি যোগ রয়েছে বলে দাবি তাঁর।

“আমরা সরাসরি কাজে বিশ্বাসী”

জনতার দরবার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি স্রেফ মুখের কথায় নয়, বরং সক্রিয় পদক্ষেপে বিশ্বাসী। নিহতের পরিবারকে আশ্বস্ত করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আমি যা বলব, তা এখানে কাজে পরিণত হবে। এটি সংবাদমাধ্যমের কাছে স্রেফ আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। মানুষ এখানে বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে আসেন এবং আমাদের কাজ সেই প্রত্যাশা পূরণ করা।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতিপূর্বে আয়োজিত ৫-৬টি জনতার দরবারে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান (অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট) ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির পদাধিকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “আমরা শুধু ‘দেখতে হ্যায়’ বা ‘সোতে হ্যায়’-এর নীতিতে চলি না, সরাসরি ‘করনা হ্যায়’-তে বিশ্বাস করি। দরবারে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে এ রাজ্যের বিজেপি সরকার। আমি নিজে এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করছি।”

ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলা রি-ওপেন করার নির্দেশ

এ দিন জনতার দরবারে হাজির হয়েছিল ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত এক পরিবারও। ইতিপূর্বে বিজেপির কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার কথা জানান তাঁরা। সেই প্রসঙ্গে আক্রান্তদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁরা নিশ্চয়ই পূর্ণ বিচার পাবেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নয় জনের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” একই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশে মামলাটি সিবিআই-এর হাতে যাওয়ার আগেই স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি চার্জশিট জমা দিয়ে গোটা বিষয়টি নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল।” তবে সুবিচারের স্বার্থে ইতিমধ্যেই আদালতে নতুন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে এবং রানাঘাটের পুলিশ সুপারকে (SP) পুরো মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখে (রি-ওপেন) নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।